খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে, শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল

ঢাকা, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২ পৌষ ১৪২৪

খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে, শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ৪:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৭

print
খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপরে, শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল

শহরে খোয়াই নদী ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে হবিগঞ্জবাসী। উজান থেকে নেমে আসা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি রাত ১টা পর্যন্ত বিপদসীমার ২৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার ফলে শহর রক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। শহরের কামড়াপুর ব্রিজে পয়েন্টে, মাছুলিয়া পয়েন্টে ও তেতৈয়া ব্রিজ পয়েন্টে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

.

এদিকে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরে গুজব উঠে কামড়াপুর ব্রিজ সংলগ্ন বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে শহরজুরে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই কামড়াপুর ব্রিজ সংলগ্ন বাঁধ এলাকায় হাজার হাজার উৎসুখ জনতা ভীড় জমায়। অনেক পরিবারকে ভাঙন আতঙ্কে বাসা বাড়ির মালামাল সরিয়ে নিতেও দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশাসনের সহযোগীতায় স্থানীয় লোকজন বালুর বস্তা ফেলে পানি প্রবেশ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় মাইকিং করে খোয়াই নদীর পাড়ের বসবাসকারী ও শহরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। অভ্যন্তরীণ পানি বৃদ্ধির প্রবাহ কম হলেও সোমবার সকালে ভারতের খোয়াই মহকুমায় অবস্থিত খোয়াই ব্যারেজের বাঁধ খুলে দেয়ায় দ্রুত গতিতে পানি চলে আসছে বাংলাদেশে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. তাওহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার বিকেল থেকে হবিগঞ্জ ও ভারত এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহারি ঢলে খোয়াই নদীর পানি দ্রুত গতিতে বেড়েই চলছে। অপরদিকে, কামড়াপুর ব্রিজ পয়েন্টে বাঁধ মেরামতের সময় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বালু, মাটি ও বস্তার ব্যবস্থা করে দেন। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ পর্যাপ্ত পরিমান বালু ও বস্তা না থাকায় মেরামতের কাজ করতে সময় লাগছে।

এদিকে, রাতে শহরের মাছুলিয়া পশ্চিম দিকে ভাঙন দেখা দিলে এলাকার লোকজন রাত জেগে বাঁধ পাহারা দেয়। এ অবস্থায় এলাকার লোকজন আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় রয়েছে। অপরদিকে, নদীর পাড়ের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় ঘরের মালামালসহ লোকজনদেরকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে।

কেএটি/এএস

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad