চড় দেওয়ায় বন্ধুর হাতে খুন হয় রকি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

চড় দেওয়ায় বন্ধুর হাতে খুন হয় রকি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

চড় দেওয়ায় বন্ধুর হাতে খুন হয় রকি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শহরের বধ্যভূমির পাশের চা বাগান থেকে উদ্ধার করা স্কুলছাত্র ইব্রাহিম মিয়া রকি’র মৃত্যু কারন উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে গ্রেফতার কৃত দুই কিশোর সাব্বির ও ফায়সাল আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সাব্বির শহরতলীর পশ্চিম খাসগাঁও আবুল মিয়ার ছেলে ও ফায়সাল একই গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছ মিয়ার ছেলে। 

বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল থানায় এ হত্যাকান্ডের বর্ননা দিতে গিয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান বলেন, মঙ্গবার শহরের স্টেশন রোড এলাকা থেকে  সাব্বির মিয়া(১৭) এবং খাসগাঁও থেকে ফয়সাল মিয়া (১৭) কে আটক করা হয়। এরা দুজনই কিশোর। রাতে থানায়  পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা রকি হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে, স্কুল ছাত্র ইব্রাহিম মিয়া রকির সাথে সাব্বির মিয়ার বন্ধুত্ব সম্পর্ক ছিল।

গত এক মাস আগে ইব্রাহিম ও সাব্বিরের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে ঝগড়া হয়। তখন রকি সাব্বিরের গালে চড়থাপ্পর মারে। এরপর হতে সাব্বির প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। প্রায় একমাস যাবত তাদের দু’জনের মধ্যে কোন যোগাযোগও ছিল না।

গত সোমবার সন্ধ্যা  ৬টার দিকে ইব্রাহিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সাব্বির। সে অনুযায়ী সাব্বির তার আরেক বন্ধু ফয়সালকে সাথে নিয়ে শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডে একত্রিত হয়। রাত অনুমানিক সাড়ে ৮টায় সাব্বির খুন হওয়া ইব্রাহিম মিয়া ওরফে রকিকে ফোন দিয়ে  জানায় এক অনুষ্ঠানে যেতে সে রেলগেইটে আছে। ইব্রাহিম তাদের কথা মতো  সাব্বির ও ফয়সালের সাথে শ্রীমঙ্গল শহরের ভানুগাছ রোডের রেল গেইট এলাকায় গিয়ে একত্র হয়। সেখান থেকে অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার দক্ষিণ ভাড়াউড়া ভুরবুড়িয়া চা-বাগানে নিয়ে সাব্বির তার বন্ধু রকি’র মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে শুয়ে দেয়। সাথে সাথে ফয়সাল রকি’র হাতে ধরে সাব্বির তার মুখে রেকসিন সদৃশ স্কচটেপ দিয়ে মুখে ও গলায় পেঁচিয়ে প্রায় ১০ মিনিট রকির গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে বুকের উপরে বসে থাকে। তখন ফয়সালও রকির পা চেপে ধরে রাখে।  তাদের হাতে খুন হওয়া  রকি নিস্তেজ হওয়ার পর তারা দুইজন মিলে রকির জ্যাকেটের সাহায্যে টেনে অনুমান ৭/৮ হাত দূরে অবস্থিত কড়ই গাছের সাথে সাব্বির কালো রঙের চাদর দুইভাগ করে এবং ভিকটিমের পরহিত প্যান্টের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে তারা দুজনে বাড়িতে চলে আসে।

এ ঘটনায় রকির মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত নামা আসামি দিয়ে শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং- ২২, তাং- ১৫/০১/২০২০খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু করে।

এএসপি আশরাফুজ্জামান জানান, বুধবার সকালে মৌলভীবাজারের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক সাব্বির ও ফায়সাল হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক বলেন, এ হত্যাকান্ডের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ক্লু উদঘাটন করতে পেরেছি। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা তারা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করার পর বিজ্ঞ আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

ওসি বলেন, খুন হওয়া কিশোর ইব্রাহিম মিয়া রকি স্থানীয় ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র ছিলো । তার পিতা মাংস ব্যবসায়ি  দুলাল মিয়া। তারা শহরের ১০ নম্বর জালালিয়া সড়কে বসবাস করতো।

এমআইএ/এইচকে

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও