মৌলভীবাজারে পথ ভুলে গেলে পর্যটকদের পৌঁছে দেয় কুকুর
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

মৌলভীবাজারে পথ ভুলে গেলে পর্যটকদের পৌঁছে দেয় কুকুর

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১১:২৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০২০

মৌলভীবাজারে পথ ভুলে গেলে পর্যটকদের পৌঁছে দেয় কুকুর

কুকুর অনেকেরই প্রিয় পোষ্য প্রাণি। অনেক কাজেই কুকুর মানুষের উপকারে আসে। এবার গহীন অরণ্যে পথ হারানো মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে একটি কুকুর। কুকুরটির নাম ‘হামি’।

সম্প্রতি কুকুরটি পথভোলা পর্যটকদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে আলোচনায় এসেছে।

হামহাম জলপ্রপাত। গহীন পাহাড়ি ও ঝিরি পথের কারণে বিখ্যাত এটি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কুরমা বনবিট এলাকায় পায়ে হাঁটা পথে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। একটু অন্য পথে গেলে পথ হারানোর সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কাছেই ভারতের সীমান্ত। তাই প্রাণহানীর ঝুঁকিও আছে।

অনেক সময় ফেরার পথে সন্ধ্যা হয়ে আসে। তখন বিভিন্ন পশু-পাখির আওয়াজ আর পানির শব্দ মিলে ভীতিকর অবস্থা হয়। ঠিক তখনই পর্যটককে ভরসা দেয় হামি। বন থেকে বের হয়ে লোকালয় পর্যন্ত আসা পর্যন্ত হামি পথ দেখায়। কখনো সামনে থেকে, কখনো পেছনে থেকে আগলে নিয়ে আসে পর্যটকদের।

হামি ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় বিকল্প পথে দেখায়। বিকল্প পথে যেতে চিৎকার করে ডাকে। যদি কারো সাথে গাইড না থাকে। তাহলে কুকুরটিই তার গাইড। ঝরনায় একজন পর্যটক থাকলেও হামি একা ফিরবে না। শেষ পর্যটক হামহাম থেকে চলে এলে হামিও লোকালয়ের পথে হাঁটে।

স্থানীয় গাইড ও এলাকাবাসী জানায়, কুকুরটি প্রায় ২ বছর ধরে পর্যটকদের সাথে প্রতিদিন সকালে হামহাম জলপ্রপাতে যায়। সেখানে সারাদিন থাকে। পর্যটকদের দেওয়া বিভিন্ন খাবার খায়। হামির সাথে আরেকটি কুকুর আছে। সেটার নাম ‘মামি’। তবে হামিই দায়িত্বশীল। যতক্ষণ পর্যটকের আনাগোনা থাকবে; ততক্ষণ হামিও থাকবে।

পর্যটক গাইড নারায়ণ নুনিয়া জানায়, এ কুকুর তাদেরই গ্রামে বেড়ে উঠেছে। হামি প্রতিদিন সকালে তার সঙ্গে হামহামের রাস্তায় পা ফেলে। দিন শেষে যারা হামহাম থেকে ফিরে আসেন, তাদের সাথে আসে। কুকুরটি কারো সঙ্গে থাকলে এ বনে চলতে তার আর গাইড লাগে না। পথ ভুলে গেলে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

এআরই

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও