ছড়ার পাশে লাখ টাকার বালু উত্তোলন: পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংকা

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ছড়ার পাশে লাখ টাকার বালু উত্তোলন: পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংকা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ১১:১৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৫, ২০২০

ছড়ার পাশে লাখ টাকার বালু উত্তোলন: পরিবেশের বিপর্যয়ের আশংকা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পরিবেশের বিপর্যয়ের তোয়াক্কা না করে অবাধে গাঙ্গের (ছড়ার) পাশ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছড়ার পাড় ধ্বংস করে ও পরিবেশের বিপর্যয় ঘটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় লাখ লাখ টাকার অবৈধ বাণিজ্য করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের দত্তেরগাও গ্রামের ফারুক মিয়ার বিরুদ্ধে।

 

 

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন বৃহস্পতিবার দুপুরে দত্তেরগাও গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গাঙ্গের (ছড়ার) উপর বাঁশ ও সিমেন্ট এর বস্তা দিয়ে সাকো তৈরি করে বিশাল গুহা করে মাটি কেটে বিক্রি করা দৃশ্য। মাটি কাটায় আশপাশের বাড়ি ঘর রয়েছে ঝুঁকিতে। বর্ষা এলেই ভেঙে পড়বে গাঙ্গ (ছড়ার) পাড়ের বসত ঘর বাড়ি।

গ্রাম বাসীরা জানায়, সরকারের গাঙ্গ (ছড়া) থেকে বালু তুলছেন বলে বালু ব্যবসায়িরা আমাদের বলে থাকেন। আর এবিষয়ে বাধা দিতে গেলে পরিবেশ ধ্বংসকারী অপরাধীরা আমাদের মারধর করছে এমনকি বাড়িতে এসে এমনকি মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখায়। তাই আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারছি না।

দত্তেরগাও গ্রামের বাসীন্দা সিরাজ মিয়া বলেন, বর্ষা এলেই পানির ভাড়িতে আমার ভিটেবাড়ি ভেঙে পড়বে। আমি তাকে বাঁধা দিয়ে পারি না। ফারুক মিয়া লোকজন নিয়ে মারধর করতে দৌঁড়ে আসে। একদিন আমার স্ত্রীকে বাঁশ নিয়ে এসে হত্যার হুমকি দিয়ে গেছে। সেই ভয়ে আমরা মুখ খুলতে পারি না।

সিরাজ মিয়ার স্ত্রী আবেদা খাতুন বলেন, আমরা অনেকবার স্থানীয় মুসাব্বির মেম্বারকে বলেছি। মেম্বারকে বলার পর এক দুই দিন বন্ধ রাখে পরে আবার মাটি কেটে বিক্রি করে। ফারুক মিয়া বলেন, আমি সরকারের গাঙ্গ থেকে বালু উঠাই সরকারের গাঙ্গ যে দিকে যাবে আমরা সে দিক দিয়ে বালু উঠাবো। তোমার বাসা ও যদি হয় তাহলে তোমার বাসা থেকেও মাটি কাটিব। আমি কি তোমাদের বাসাবাড়ি থেকে মাটি নেই।

তিনি আরও বলেন, কিছু বললে মারধর করতে বাসায় আসে। বালুতোলার কারণে পানির ভাঙ্গনে আমার ঘরের পাড় ভেঙে পড়েছে। এখন ভিটেবাড়ি হারাতে হবে।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা দিলিপ দত্ত জানান, ফারুক মিয়া ধান করবে বলে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ধানের জমি বন্ধক নেয়। পরে ধান হয় না বলে তিন ইঞ্চি মাটি কাটে। পরে কাটতে কাটতে পুকুর করে ফেলেছে। আমরা কি বলব আপনারা বুঝেন না বললে কি হবে?   

জানা যায়, একসময় কাঠ বিক্রি করত ফারুক মিয়া ওরফে বালু খেকো ফারুক অভাব তাড়নায় বিদেশ পারি দেয়। কয়েক বছর বিদেশ থেকে এসে হাত মিলায় প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার সাথে। তারপর থেকে মারপিট আর হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে। পরিবেশ আইন আইনলঙ্ঘন করে পরিবেশ ধ্বংস করে মাটি আর অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে তারা আজ কোটি কোটি টাকা মালিক বনেছেন।

পরিবেশ ধ্বংস এবং সরকারি রাজস্বের ফাঁকি দিয়ে কিভাবে বালু উত্তোলন করছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য্য বাপন বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছি। বিশেষ করে গ্রামীন ব্রীজ,কালর্ভাটসহ আমাদের যেসব পাহাড়ি ছড়া গুলো নষ্ট হচ্ছে তা অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে এসব নষ্ট হচ্ছে। সরকারিভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গল পাহাড়ি সিলিকা বালু ও অন্যান্য বালু যদি আমরা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি তাহলে আমাদের নেচারের জন্য খুব ভালো। আর আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনের লোকেরা যদি এগুলো একটু নজরে আনে তাহলে আমরা বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবো।

এবিষয়ে স্থানীয় ৪নং সিন্দুখাঁন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো:আব্দুল্লাহ আল হেলাল অবৈধ বালু উত্তেলনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গ্রাম বাসীর অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। সে যেন আর মাটি কাটতে এবং বালু উত্তোলন করতে না পারে সে জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। এবং গাঙ্গের উপরে যে বাঁশে সাঁকো ছিল তা ভেঙে দিয়েছি। আর সমাধান বলতে এবিষয়ে ইউএনও বা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, পরিবেশের ক্ষতি করছে এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এআরই

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও