হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩ মাঘ ১৪২৬

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ৭:১১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতির সরেজমিন তদন্ত শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্তকারী স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের যুগ্ম সচিব (নির্মাণ ও মেরামত অধিশাখা) মো. আজম খান শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শন করেন।

বৃহস্পতিবার সকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা কলেজে ঢোকার পর সেখানে ছিল পুলিশ মোতায়েন। কোনো সাংবাদিক ও সাধারণ লোকজনকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। অধ্যক্ষর রুমে বসেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এ সময় কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান ছুটিতে থাকলেও টেন্ডার কমিটির সদস্য সচিব ডা. নাসিমা খানমসহ কমিটির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন।

আজম খান তাদের বক্তব্য শুনেন এবং টেন্ডারের বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করেন। একই সাথে যে সকল পণ্যের দাম নির্ধারিত মূল্যের অনেক বেশি সেগুলো দেখেন ও নিজে ছবি তুলেন।

বেলা ১২টায় তদন্ত চলাকালেই তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানান, তদন্তে সকল কাগজপত্র দেখা হচ্ছে। তবে তদন্তে কি পাওয়া গেছে তা বলা যাবে না। তিনি নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে ক্রয় করা জিনিসপত্র খতিয়ে দেখে। বিভিন্ন মালামালের ছবিও উঠিয়ে নেন দুদক কর্মকর্তারা। এসময় টেন্ডারের বেশকিছু দলিল জব্দ করেন তারা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে প্রতিষ্ঠিত ওই মেডিক্যাল কলেজে ল্যাপটপ, প্রিন্টার, চেয়ার ও সাউন্ড সিস্টেমসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বাজার দরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে কেনা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বছরে এ ধরনের অভিযোগকে কলেজটির এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপরই মন্ত্রণালয় এমন খবরের সত্যতা নির্ণয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এদিকে, সোমবার হবিগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন এ ব্যাপারে অভিযোগ গঠনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠি পেলেই তদন্ত শুরু হবে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, হবিগঞ্জ থেকে প্রস্তাব আসার আগেই প্রধান অফিসে বিষয়টি আমলে নিয়েছে। আরও কয়েকটি মেডিকেলের সাথে এর তদন্ত হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ শহরের নিউফিল্ড মাঠে আওয়ামী লীগের বিশাল জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মো. আবু জাহির জনগণের পক্ষে হবিগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা ও বাল্লা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন করার দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি মেডিকেল কলেজ, একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শায়েস্তাগঞ্জকে উপজেলা ও বাল্লা স্থলবন্দরকে আধুনিকায়নের ঘোষণা দেন।

ঘোষণার দুই মাসের মধ্যেই ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মাহমুদা আক্তার ২৪/(১০) স্মারকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেন হবিগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে। ঘোষণার অল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ায় হবিগঞ্জবাসী নতুন আশায় বুক বাধেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ চালুর কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু প্রশাসনিক অনুমোদ পাওয়ার পরও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পরে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবারও উদ্যোগ নেয়া হয়।

অস্থায়ী ক্যাম্পাস নির্ধারণ করা হয়েছিল নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা ভবনকে। সহকারী অধ্যাপক ডা. আবু সফিয়ানকে নিয়োগ করা হয় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ। পরে ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি ৫০ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস শুরুর মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় এই মেডিকেল কলেজের। এরই মধ্যে এই মেডিকেল কলেজের নামকরণ করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর বছরেই বড় ধরনের দুর্নীতির ঘটনা ঘটে। অধ্যক্ষ ডা. আবু সুফিয়ান ১৩ কোটি ৮৭ লাখ ৮১ হাজার ১শ ৯ টাকার টেন্ডার ভাগ-বাটোয়ারা করেন বলে অভিযোগ। সেখানে বাজার মূল্যের চেয়ে কায়েকগুণ বাড়তি দামে জিনিসপত্র কিনে নিট বরাদ্দের বড় অংশই পকেটস্থ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।

এইচআর

 

সিলেট: আরও পড়ুন

আরও