পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল: লেনদেন চাঙ্গা

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল: লেনদেন চাঙ্গা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:০২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষ তহবিল: লেনদেন চাঙ্গা

বিক্রয় চাপে ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে অব্যাহত দর পতনে ভুগে পুঁজিবাজার। এরই ধারাবাহিকতায় লেনদেন মন্দায় চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার ৩৬ পয়েন্টে নেমে আসে। পাশাপাশি হাজার কোটি টাকার লেনদেন আড়াই শত কোটি টাকার নিচে নেমে আসে।

বাজারের অব্যাহত এ দর পতনে কারসাজি চক্রের সক্রিয়তা ছাড়াও বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটকে দায়ী করেছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তবে, সবকিছু ঊর্ধ্ব ছিল তারল্য সংকট। তাই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গত ১৯ জানুয়ারি পুঁজিবাজার উন্নয়নে নেওয়া হয় বেশি কিছু স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে (১০ ফেব্রুয়ারি) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে তফসিলি ব্যাংককে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।  ব্যাংকগুলো নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। ৫ শতাংশ সুদে বিশেষ এ তহবিলের অর্থ পরিশোধে ৫ বছর সময় পাবে ব্যাংকগুলো।

বিশেষ তহবিল গঠনের সুখবরে টানা তিন কার্যদিবসে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে পুঁজিবাজার। এসময় বিনিয়োগকারীদের ক্রয় প্রবণতায় বিগত সাড়ে ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে আজ (বৃহস্পতিবার)। এ তিন কার্যদিবসে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ১৮০ পয়েন্ট।

ডিএসইর বাজার পর্যালোচনায় জানা যায়, বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ২৫৯টির, দর কমেছে ৬৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টি প্রতিষ্ঠানের। এসময় ডিএসইতে ২৯ কোটি ৯০ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫২টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

দিনশেষে ডিএসইতে ৭৩০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগে বুধবার ডিএসইতে ৬৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৭৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

লেনদেন শেষে ডিএসই’র সার্বিক মূল্য সূচক ডিএসইক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮৩.৭৮ পয়েন্ট বেড়েছে। এসময় শরীয়াহ্ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর মূল্য সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ১৫.১২ পয়েন্ট।

লেনদেন শেষে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে খুলনা পাওয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টার্নওভার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, কোম্পানিটির ২৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মধ্যে দিয়ে টার্নওভারে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ইন্দো-বাংলা ফার্মা।

টার্নওভার তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এসএস স্টিল, ওরিয়ন ইনফিউশন, ডোরিন পাওয়ার, এডিএন টেলিকম, সামিট পাওয়ার ও বেক্সিমকো।

এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হওয়া কোম্পানি ও ফান্ডগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৪টির, দর কমেছে ৪২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির। এসময় সিএসইতে ৭৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

দিনশেষে সিএসই’র সাধারণ মূল্য সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬৫.১৩ পয়েন্ট বেড়েছে। এসময় টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে অলেম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, কোম্পানিটির ৪৭ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

জেডএস/

 

অর্থনীতি : আরও পড়ুন

আরও