বিএসইসি অনুমোদন দিলে সানাউল হকই ডিএসই’র এমডি
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৬ চৈত্র ১৪২৬

বিএসইসি অনুমোদন দিলে সানাউল হকই ডিএসই’র এমডি

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৯, ২০২০

বিএসইসি অনুমোদন দিলে সানাউল হকই ডিএসই’র এমডি

ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি)সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হককেই ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদের জন্য বেছে নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার পরিচালনা পর্ষদ সভায় তাকে এমডি হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন দিলেই তিনি ডিএসইর এমডি হিসাবে যুক্ত হবেন।

ডিএসইর পরিচালক ও এনআরসি’র চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া জানান, আজকের পর্ষদ সভায় অধিকাংশ পরিচালকের মতামতের ভিত্তিতে ডিএসইর এমডি হিসেবে কাজী সানাউল হকের নাম বিএসইসিতে প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সানাউল হকের ব্যাপারে কয়েকজনের আপত্তি ছিল।

সূত্র জানায়, কাজী সানাউল হকের বিষয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। তিনি বিডিবিএলের বিনিয়োগ বিভাগের জিএম পদে থাকাকালীন দুর্বল সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারীর শেয়ার কেলেঙ্কারীর ঘটনায় জড়ায় প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে বিডিবিএলকে শাস্তি দিয়ে চিঠি দেয় বিএসইসি। তার সময়কালীন আইসিবির মুনাফায়ও বড় ধস নামে।

কাজী সানাউল হক আইসিবির এমডি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট পর্যন্ত। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) আইসিবির মুনাফা হয়েছিল ৪৬১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ৭.২৯ টাকা। যা তার নেতৃত্বাধীন প্রথম অর্থবছরে (২০১৭-১৮) কমে আসে ৪১৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ৬.২৭ টাকায়। আর ২য় অর্থবছরে (২০১৮-১৯) রীতিমতো ধস নামে। ওই অর্থবছরে আইসিবির মুনাফা হয় মাত্র ৬০ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা শেয়ারপ্রতি ০.৮৬ টাকা।

আইসিবির সাবেক এমডি কাজী সানাউল হককে আইসিবির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলব করার ঘটনাও আছে। তার দায়িত্বরত অবস্থায় ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। শেয়ার ব্যবসায় জড়িত যেসব লোক ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন তাদের ঋণ দেয়া, যাকে ২৫ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার কথা তাকে কয়েক কোটি টাকা করে ঋণ দেয়ার ঘটনা ঘটে। এসবের মাধ্যমে সরকারের ১৩৭ কোটি টাকা ক্ষতি হয় বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।

ডিএসই সূত্র জানায়, গত ৭ জানুয়ারি এমডি পদের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জনের সাক্ষাতকার নেয় ডিএসই’র এনআরসি। এদের মধ্য থেকে ২ জনের নাম সুপারিশ করে পর্ষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় এনআরসি। দুজনের মধ্যে ছিলেন যমুনা ব্যাংকের সাবেক এমডি শফিকুল আলম ও আইসিবির সাবেক এমডি কাজী সানাউল হক।

উল্লেখ্য, ব্যবস্থাপনা থেকে মালিকানা পৃথকীকরণে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিমের পর দ্বিতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ২০১৬ সালের ২৯ জুন নিয়োগ পান কে এ এম মাজেদুর রহমান। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১১ জুলাই। তারপর থেকেই পদটি খালি রয়েছে। ডিএসইর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আবদুল মতিন পাটোয়ারী বর্তমানে স্টক এক্সচেঞ্জটির ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জেডএস/এএসটি

 

অর্থনীতি : আরও পড়ুন

আরও