নতুন বছরে পুঁজিবাজারের ১৪ হাজার কোটি টাকা গায়েব!

ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

নতুন বছরে পুঁজিবাজারের ১৪ হাজার কোটি টাকা গায়েব!

জাহিদ সুজন ৮:২৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৮, ২০২০

নতুন বছরে পুঁজিবাজারের ১৪ হাজার কোটি টাকা গায়েব!

২০১৯ সালের মত ২০২০ সালেও দরপতন অব্যাহত রয়েছে পুঁজিবাজারে। টানা ৪ দিনের দরপতনে এরই মধ্যে বাজার মূলধন থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এসময় ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বিগত ৩ বছর ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের নিষ্ক্রিয়তা, তারল্য সংকট ও বিনিয়োগকারীরা ইক্যুইটি মাইনাসে থাকায় বাজার বিনিয়োগ উপযোগী হলেও নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ২০১০ সালের ধসের পর বাজার সম্প্রসারণে নানা প্রদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা কোন কাজে আসছে না।

তারা বলেন, অব্যাহত দরপতনে লোকসান গুণছে বিনিয়োগকারীরা। তাই বাজারের সিংহভাগ শেয়ার অবমূল্যায়িত্ব হলেও নতুন বিনিয়োগ আসছে না, আসছে না নতুন বিনিয়োগকারীরাও।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারির প্রথম দুই কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। কিন্তু পরবর্তী ৪ কার্যদিবসে অর্থাৎ চলতি সপ্তাহের ৪ কার্যদিবসে ডিএসই’র মূল্যসূচক কমেছে ২৩০.৯৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ছিল ৪৪৫৯.২৯ পয়েন্ট। আজ (বুধবার) ডিএসই’র সার্বিক মূল্যসূচক ৪২২৮.৩৬ পয়েন্টে স্থিতি পেয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের সর্বশেষ কার্যদিবসে ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮১১ কোটি ৪ লাখ টাকা। বুধবার অর্থাৎ আজ তা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৪২৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা স্থিতি পেয়েছে। অর্থাৎ বিগত নতুন বছরে ডিএসই’র বাজার মূলধন কমেছে ১৪ হাজার ৩৮৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

পিএফআই সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী হুসাইন কবির বলেন, টানা দরপতনে বিনিয়োগের প্রায় ৪৫ শতাংশই লোকসানে আছি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য নগদ অর্থও নাই। তাই অপেক্ষায় আছি পুঁজি ফিরে পাওয়ার।

লংকাবাংলা সিকিউটিজের বিনিয়োগকারী পলাশ আহমেদ বলেন, টানা দরপতনের বাজারে পোর্টফোলিওতে লোকসান কমাতে গত সেপ্টম্বরে পুনর্বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু তার পরে আরো কমেছে শেয়ার দাম। এখন নতুন করে বিনিয়োগের জন্য পুঁজি নাই।

বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর-রশীদ চৌধুরী বলেন, নিয়মিত দরপতনে পুঁজিবাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার মধ্যে নিয়মিত আইপিও অনুমোদন বাজারের মৌলভিত্তির কোম্পানিগুলোর শেয়ারকে অভমূলায়িত্ব করছে।

তিনি বলেন, আমরা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরাতে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বর্তমান পর্ষদের পদত্যাগ ও পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাজার উন্নয়নে ব্যর্থ পর্ষদ পদত্যাগ করেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরাতে না পারলে নতুন বিনিয়োগে আসবে না বিনিয়োগকারীরা। বাজারে চাহিদার তুলনায় জোগানের পরিমাণ বেশি থাকায় অবমূল্যায়িত্ব হচ্ছে শেয়ার। পাশাপাশি নতুন কোম্পানিগুলো বোনাস ডিভিডেন্ড ঘোষণায় প্রধান্য দেওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরছে না।

জেডএস/এসবি

 

অর্থনীতি : আরও পড়ুন

আরও