সর্বোচ্চ দরে এডিএন টেলিকমের লেনদেন শুরু

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৬

সর্বোচ্চ দরে এডিএন টেলিকমের লেনদেন শুরু

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৬, ২০২০

সর্বোচ্চ দরে এডিএন টেলিকমের লেনদেন শুরু

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (৬ জানুয়ারি) দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরু করেছে এডিএন টেলিকম লিমিটেড। কোম্পানিটি ইস্যু মূল্য ২৭ টাকা হলেও ৫০ শতাংশ বা ১৩.৫০ টাকা বেড়ে ৪০.৫০ টাকায় লেনদেন শুরু করেছে। অর্থাৎ লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ দরে লেনদেন শুরু করেছে কোম্পানি।

সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে একই সাথে এই কোম্পানির লেনদেন শুরু হয়। পুঁজিবাজারে কোম্পানিটি ’এন’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে। ডিএসইতে কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হচ্ছে “ADNTEL”। আর কোম্পানি কোড ২২৬৫১।

দিনশেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির ৪০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭০টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটি টার্নওভার তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এদিন কোম্পানিটির ১৬ লাখ ৫৯ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

এর আগে কোম্পানিটির লটারিতে বরাদ্দপ্রাপ্ত শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর কোম্পানিটির লটারির ড্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। কোম্পানিটি ৪ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন করে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আইপিওতে শেয়ারের ইস্যু মূল্য (কাট-অফ প্রাইজ) নির্ধারিত হয়েছে ২৭ টাকা।

সূত্র মতে, কোম্পানির অর্থ উত্তোলনের জন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ইস্যু মূল্য নির্ধারণের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীদের বিডিং এর অনুমোদন প্রদান করা হয়েছিল। যোগ্য বিনিয়োগকারীরা বিডিং এর মাধ্যমে কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৩০ টাকায় প্রান্ত-মূল্য নির্ধারণ করে। সে অনুযায়ী ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার সাধারণ শেয়ার ৩০ টাকা মূল্যে যোগ্য বিনিয়োগকারী ও ২৭ টাকা মূল্যে ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি সাধারণ শেয়ার সাধারণ বিরিয়োগকারীর (অনিবাসী বাংলাদেশিসহ) নিকট ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিশন।

পুঁজিবাজার থেকে এডিএন টেলিকম ৫৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার শেয়ার ৩০ টাকা দরে বিক্রি করে ৩৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। বাকি ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৯ হাজার ৯৮২ টাকা সাধারন বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৬টি শেয়ার ২৭ টাকা দরে বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পত্তি মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ১৩ পয়সা এবং ভারিত গড় হারে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা। শেয়ার প্রতি বেসিক মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা এবং শেয়ার প্রতি সমন্বিত মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা।

অপরদিকে কোম্পানিটির ৩০ জুন ২০১৮ সমাপ্ত বছরের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী শেয়ার প্রতি নেট সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ৮০ পয়সা এবং বেসিক শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩ মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ০.৬৩ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ০.৪৮ টাকা। এ হিসাবে মুনাফা বেড়েছে ০.১৫ টাকা বা ৩১ শতাংশ।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১.৬৭ টাকায়।

আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে কোম্পানিটি ভৌত কাঠামো উন্নয়ন, ডাটা সেন্টার স্থাপন, ব্যাংক ঋণ পরিশোধ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।

কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

জেডএস

 

অর্থনীতি : আরও পড়ুন

আরও