এসএ গেমসে সোনা জিততে চান রোকসানা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

এসএ গেমসে সোনা জিততে চান রোকসানা

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:১৯ অপরাহ্ণ, মে ০৯, ২০১৮

print
এসএ গেমসে সোনা জিততে চান রোকসানা

তিন-তিনটি পদক গলায় পুরে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে খুশি মনে ঘুড়ে বেড়াচ্ছিলেন রোকসানা আক্তার। অবশ্য ঘুরে বেড়ানো কোথায়? সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ার আবদার মিটিয়েই যে কুল পাচ্ছিলেন না। লাঞ্চটাও তাই করতে পারলেন না সময় মতো। কিন্তু সাফল্যে ভাসা দিনে তাতে একটুখানি বিরক্তির ঠাই নেই সেনাবাহিনীর এই আর্চারের মনে।

তিন তিনটি পদক গলায়। যার দুটি সোনার পদক আর একটি রূপা। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজিত আইএসএসএফ ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপে কম্পাউন্ড বিভাগে এই তিনটি পদকে অবদান রোকসানার। যার একটি ব্যক্তিগত। মেয়েদের কম্পাউন্ড এককে ইরাকের ফাতিমা আল মাসহাদানিকে হারিয়ে সেরা হন রোকসানা। মেয়েদের দলগততে বন্যা আক্তার ও রিতু আক্তারকে নিয়ে জেতেন সোনা। আর কম্পাউন্ড মিশ্রতে অসীম কুমারকে নিয়ে জেতেন রূপা।

ব্যক্তিগত সোনার পদক জিতেই সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রোকসানা। এই পদক জিতে নিতে তিনি হারিয়েছেন এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্চারকে। ইরাকের ফাতিমা আল মাসহাদানিকে হারান তিনি। যিনি ২০১৫ সালে ওয়ার্ল্ড আর্চারির ইয়ুথ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সেরা হয়েছিলেন।

রোকসানার ভালোলাগা তাই অন্য রকম। পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়ে এই আরচার বললেন সেই ভালো লাগার কথা, ‘খুবই খুশি লাগছে। বিকেএসপিতে মার্চে সাউথ এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতেছিলাম। ব্যক্তিগত ইভেন্টে সেটিই আমার প্রথম আন্তর্জাতিক পদক। টিমে ছিল সিলভার। তবে এবারের আসরটা আমার জন্য স্বপ্নের মতো।’

মোট ১০টি সোনার পদকের লড়াইয়ে ৫টি সোনা জিতে শ্রেষ্ঠত্ব বাংলাদেশের। আগের বার ছয়টি জেতায় এবার সেটি ছোঁয়া বা ছাড়িয়ে না যাওয়ার আক্ষেপ থাকছে। রিকার্ভে হতাশা উপহার দেন আর্চাররা। তবে কম্পাউন্ড ইভেন্টে উজ্জ্বল তারা। এই বিভাগে ৫টির মধ্যে ৪টিতেই এসেছে সোনা।

পুরো আসরে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে না পারার আক্ষেপ থাকলেও রোকসানার কাছে আসরটা স্বপ্নের মতো তো হবেই, ‘২০১৭ সালে প্রথম আসরে আমার পারফরম্যান্স খুবই খারাপ ছিল। আজ যার সঙ্গে খেলা হয়েছে সে গোল্ড মেডেলিস্ট ছিল। সেবার খারাপ হওয়ায় এবার স্বপ্ন ছিল ভালো কিছু করে দেখানোর। আজকে এই মাঠে সেই গেমস খেললাম। আমার লক্ষ্য পূরণ করতে পেরে আমি খুব খুশি।’

তবে যে তিনটি পদক গলায় পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তার তিনটিই সোনা হতে পারতো। যদি মিশ্র দলগততে সোনা জিততে পারতেন অসীম কুমারকে নিয়ে। সেটি জিততে না পারায় দায়টা নিজের উপর নিচ্ছেন রোকসানা, ‘মিক্স টিমে আমার জন্যই ফল খারাপ হয়েছে। আমার সঙ্গী খুব ভালো মেরেছে। আমি খারাপ করাতেই হেরে গেছি।’

২০১১ সালের শেষ দিক থেকে আরচারি খেলছেন রোকসানা। সরকারি বাংলা কলেজের এই শিক্ষার্থী কলেজেরই এক আয়োজনে আর্চারি খেলার সঙ্গে পরিচয়। এরপর সেই কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক ফারুক ঢালীর (আর্চারির জাজ) মাধ্যমে হাতেখড়ি। তার পরামর্শেই ভর্তি হলেন বিএনসিসিতে।

রোকসানা বলছিলেন সেই দিনগুলোর কথা, ‘শুরুতে খেলতে গিয়ে হাতে ব্যথা পাই। বাবা-মা খেলতে দিবেন না। স্যাররা বাবা-মাকে বুঝিয়ে রাজি করান। এরপর ২০১২ সালের শেষ দিকে স্বাধীনতা দিবসে অংশ নিই। ব্যাম্বোতেতে ব্রোঞ্জ জয় করি। সেটিই আমার প্রথম পদক।’

আর ফেডারেশনের কোচ নিশিত দাস ও জিয়াউল হকের পরামর্শে কম্পাউন্ড ইভেন্ট বেছে নেওয়া রোকসানার। এ পর্যন্ত আসার পেছনে নিশিত দাস ও জিয়াউল হকের অবদানকে বড় করে দেখেন এই আর্চার, ‘উনারা অনেক শ্রম দিয়েছেন আমার জন্য। কোচদের সহযোগিতা না থাকলে একটা খেলোয়াড় কখনো উঠতে পারেনা। তাই আমি আমার দুই কোচকেই ধন্যবাদ জানাই।’

ঢাকার সাভারের মেয়ে রোকসানা। খেলাতে মা এবং বড় ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। এদিন যেমন তার মা মাঠে বসেই মেয়ের সাফল্য দেখলেন। ২০১৪ সাল থেকে সেনাবাহিনীর চাকুরে তিনি। বিয়ে হয়েছে দুই বছর। বিয়ের পর চাকরি ছাড়ার কথা পর্যন্ত বলেছিল শ্বশুর বাড়ির পরিবার। কিন্তু স্বামীর সহযোগিতায় খেলে চলেছেন। এবছর থেকে তো ব্যক্তিগত ইভেন্টে আন্তর্জাতিক পদকও জয় করা শুরু।

রোকসানা এখন থেমে থাকতে চান না, ‘একটা খেলোয়াড়ের অলিম্পিকই বড় লক্ষ্য থাকে। সাউথ এশিয়ান আর্চারিতে ভালো কিছু করতে চাই।’

টিএআর/এসএম

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad