অলিম্পিকের পদক মঞ্চে উঠার স্বপ্ন বাকীর

ঢাকা, বুধবার, ২৩ মে ২০১৮ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

অলিম্পিকের পদক মঞ্চে উঠার স্বপ্ন বাকীর

তোফায়েল আহমেদ ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

print
অলিম্পিকের পদক মঞ্চে উঠার স্বপ্ন বাকীর

গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রূপা জিতেছেন আব্দুল্লাহ হেল বাকী। ২০১৪ সালে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসেও এই ইভেন্টে রূপা ছিতেছিলেন তিনি। এবার অবশ্য শুরুতে নিজের প্রিয় ইভেন্টে খেলবেন কিনা নিশ্চিত ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তার উপার আস্থা রাখা হয়েছে এবং রূপা জয় কের প্রমাণ করেছেন নিজেকে। মাত্র .৩০ পয়েন্টের জন্য তো সোনা হাতছাড়া হওয়ার আপসোসও আছে বাকীর। গেমস শেষে করে সোমবার রাতে দেশে ফিরেছেন তিনি। মঙ্গলবার পরিবর্তন ডটকম প্রতিবেদক তোফায়েল আহমেদকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন রূপা জয়ের বিভিন্ন বিষয় ও ভবিষ্যত ভাবনা নিয়ে।

প্রশ্ন : একটা অনিশ্চয়তা নিয়ে গোল্ড কোস্টে গিয়েছিলেন। ফিরলেন রূপা পদক গলায় পরে। অনুভূতির কথাই বলুন প্রথমে।

বাকী : মেডেল পাওয়ার অনুভূতি সব সময়ই অনেক আনন্দের। আমি বরাবরের মতোই অনেক আনন্দিত। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া যে পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে, রূপা নিয়ে ফিরতে পেরেছি। ফেডারেশনের অনেক সাপোর্ট ছিল। শেষ পর্যন্ত যে আমার প্রতি তারা ভরসা রেখেছে এজন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। পর পর দুটি আসরে রূপা পেলাম। তবে আগের গেমসের চেয়ে এবারের গেমসটা অনেক ভালো গেছে।

প্রশ্ন : পর পর দুটি আসরে রূপা ধরে রাখলেন। এটা কিভাবে সম্ভব হলো?

বাকী : এটা কতটা কঠিন, যারা শুধু স্পোর্টসম্যান তারাই বুঝবে। এটা কারো জন্যই খুব সহজ ব্যাপার না। পর পর চার বছর একই পারফরম্যান্স ধরে রাখা বা এর চেয়ে ভালো করা। আসলে এরকম পেরেছি নিজের সাধনার কারণে। সিলভার মেডেল হলেও গত কমনওয়েলথ গেমসের চেয়ে এবারের ফাইনালটা অনেকটা ভালো হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে যা নিয়ে আমি নিজে খুবই খুশি।

প্রশ্ন : ফেডারেশন অলিম্পিক গেমসকে লক্ষ্য করে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্যে আপনি কতটুকু আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের পক্ষে সেখানে পৌঁছা সম্ভব?

বাকী : ফেডারেশন এটা নিয়ে অনেক চেষ্টা করছে। আমরা যেভাবে প্র্যাকটিস করছি, যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি তার জন্য ফেডারেশনকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। আর ক্লাব হিসেবে আমার সংস্থা বাংলাদেশ নৌবাহিনী অনেক সাহায্য করছে। এভাবে যদি আমরা কন্টিনিউ করতে থাকি, আর কোটা প্লেসের জন্য যেগুলো গেমস আছে সেগুলোতে আমরা অংশ গ্রহণ করি, তাহলে আমাদের অপশনটা অনেক বেশি থাকে। আমার মনে হয়, আমরা গেমসে যতো বেশি অংশ নিতে পারবো আমাদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হবে।

প্রশ্ন : আপনি নিজে কি এই স্বপ্ন দেখেন অলিম্পিকের পদক মঞ্চে উঠবেন?

বাকী : এটা আমি যখন শ্যুটিং শুরু করি এবং যখন জাতীয় দলে সুযোগ পাই তখন এই লক্ষ্য রেখেই শুরু করেছি। এই স্বপ্ন আমার এখনকার না। অনেক আগে থেকেই এই স্বপ্ন দেখছি আমি। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যই কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : কমনওয়েলথ গেমসে পর পর দুটি রূপা জয়ের পর এখন কি মনে হয় সেটা সম্ভব?

বাকী : শুধু সম্ভব বলবো না, বলবো পসিবলিটি আমাদের অনেক বেশি। আমরা যেভাবে প্র্যাকটিস করছি, যদি বেশি বেশি গেমস খেলি তবে ভালো সম্ভাবনা আছে আমাদের অলিম্পিকে পদক জয় করার।

প্রশ্ন : ১০ মিটারে খেলবেন কি খেলবেন না এটা নিয়ে তো অনেক দোটানা ছিল। শেষ পর্যন্ত আপনি খেললেন এবং গ্ল্যাডিয়েটরের মতো রূপা জয় করলেন...

বাকী : আমি আমার পারফরম্যান্স নিয়ে কখনো হতাশ ছিলাম না। যদিও আমি ন্যাশনালে ফাইনাল থেকে বাদ পড়েছিলাম। এরপর থেকে আমি ফাইনালটা নিয়েই কাজ করেছি। আমি নিজে নিজে চাচ্ছিলাম যে শেষ পর্যন্ত যেন আমি খেলতে পারি। মহাসচিব সাহেব ও কোচ আমার উপর ভরসা রেখেছেন। এজন্য তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ।

প্রশ্ন : সেই সময় মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে যাচ্ছিলেন। নিজের মধ্যে তো নিজের যুদ্ধও চলছিল...

বাকী : এখানে আমার পারফরম্যান্সের কথাই বলবো। যদি পারফরম্যান্স ভালো না হতো তবে খেলতেই পারতাম না। পারফরম্যান্স ভালো ছিল বলেই আমাকে খেলাতে বাধ্য হয়েছে। আমি সবসময় চাইতাম যেন আমার পারফরম্যান্সটা উপরে থাকে।

প্রশ্ন : যখন আপনি জানলেন আপনার সিলভার নিশ্চিত। ওই সময় আপনার মনের অবস্থা কেমন ছিল?

বাকী : ওই সময়টাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আমার তখন সেটা ভাবাই উচিত হয়নি। সিলভার যখন নিশ্চিত হয়ে গেছে তখন ট্র্যাক থেকে আমি বেরিয়ে পড়েছিলাম। আমি যদি প্রোপারলি আমার জায়গায় থাকতাম তাহলে হয়তো সোনা আমি জিতে যেতাম।

প্রশ্ন : সোনা জিততে না পারার এই আপসোসটা এখনো পোড়চ্ছে আপনাকে?

বাকী : অলিম্পিকে যদি গোল্ড পাই তাহলে এই আপসোসটা আর থাকবে না।

প্রশ্ন : শ্যুটিং অনেক ব্যয়বহুল খেলা। সরকারের আছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

বাকী : সরকার, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সবার পক্ষ থেকেই সহায়তা প্রয়োজন। হ্যাঁ, এটা ঠিক শ্যুটিং অনেক ব্যয়বহুল খেলা। সব ইকুইপমেন্ট অনেক ব্যয়বহুল। প্র্যাকটিস কনটিনিউ করার জন্য সবারই সহায়তা প্রয়োজন।

প্রশ্ন : ফেডারেশন যে অলিম্পিকের স্বপ্ন দেখছে সেখানে প্রত্যাশার বড় একটা অংশজুড়ে আপনি। এটা আবার আপনার জন্য চাপ কিনা?

বাকী : প্রত্যাশা থাকতেই পারে। আমরা শ্যুটিং টিম পুরোটাই শক্তিশালী। বিশ্বাস করেন ১০-১২ জনের টিম আছি সবাই খুব শক্তিশালী। আমরা যদি নিয়মিত ট্রেনিং করি, কোটা প্লেসের জন্য যে প্রতিযোগিতাগুলো হয় সেগুলোতে অংশ নেই, তবে আমাদের হাতে অনেক অপশন থাকবে। কোটা প্লেস অর্জনের জন্য আমার মনে হয় এখন সবই করা উচিত আমাদের। আমাদের মধ্যে যে কেউ অলিম্পিকের জন্য কোয়ালিফাই করার যোগ্যতা রাখে।

টিএআর/এমএসআই

 
.

Best Electronics Products



আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad