সাকিবের কাছে হেরেও যখন অনুপ্রাণিত অর্ণব-জাফর

ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

সাকিবের কাছে হেরেও যখন অনুপ্রাণিত অর্ণব-জাফর

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:২৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৬, ২০১৮

print
সাকিবের কাছে হেরেও যখন অনুপ্রাণিত অর্ণব-জাফর

অতিথিদের সারিতে দুজন বসেছিলেন কাছাকাছিই। পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নির্ধারিত জায়গায়। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) ২০১৭ সালের সেরা ক্রীড়াবিদদের পুরস্কার অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল বর্ষসেরার পুরস্কারটিই। সেটি ঘোষণার আগে মঞ্চে উঠলেন তিন মনোনীত- ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, ফুটবলার জাফর ইকবাল ও শ্যুটার অর্ণব শাহরার লাদিফ। মঞ্চে উঠার জন্য যখন আসন ছেড়ে উঠলেন সাকিব, প্রথমেই পেয়ে গেলেন ফুটবলার জাফর ইকবালকে। নতুন এই তারকাকেই আগে মঞ্চে উঠার আমন্ত্রণ জানালেন সাকিব।

তিন তারকা যখন মঞ্চে উঠে এলেন অনুষ্ঠানের সব আলোই তখন সেই মঞ্চের দিকে। একটু পরই যে ঘোষণা হবে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সবচেয়ে প্রাচীণ সংগঠনের বর্ষসেরার পুরস্কার। কে জিতবেন পুরস্কার? এই প্রশ্নে কি কেউ দ্বিধ্বান্তিত ছিলেন?

তিনজনের আলোতেই আলোকিত হয়েছে ২০১৭ এর ক্রীড়াঙ্গন। ফুটবলার জাফর অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে জিতে এনেছেন গোল্ডেন বুট। শ্যুটার অর্নব শাহরাব এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের যুব বিভাগে রূপার পদক জিতে কেটেছেন যুব অলেম্পিকে খেলার টিকিট। আর সাকিব আল হাসান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের নায়ক, নিউজিল্যান্ডে খেলেছেন ডাবল সেঞ্চুরির এক মহাকাব্যিক ইনিংস। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে করেছেন সেঞ্চুরি। সবমিলে সাকিবের দ্যুতিই ছিল বেশি। তাই বিএসপিএর বর্ষসেরা পুরস্কার যে ২০০৯ ও ২০১০ সালের পর আবার পাচ্ছেন সাকিব, সেটি সবাই আঁচ করতে পেরেছিলেন আগেই। ফুটবলার জাফর ও অর্নবও কি বুঝে নিয়েছিলেন তা?

সাকিব তাদেরকে হারিয়ে যখন পুরস্কার পেলেন, তখন দুজনের বক্তব্যেই বোঝা যায় আসলে কি ভাবনা ছিল তাদের। সাকিবের সঙ্গে একটা পুরস্কার জয়ের প্রতিদ্বন্দ্বি হওয়া তো বটেই তার সঙ্গে এক মঞ্চে উঠতে পেরেই যে অনেক বেশি আনন্দিত অর্ণব ও জাফর। সাকিবের বেড়ে উঠা যেখানে সেই বিকেএসপির ছাত্র অর্ণবের প্রতিক্রিয়া ছিল এমন, ‘আমার আসলে ইচ্ছে ছিল ক্রিকেটার হওয়ার। সাকিব ভাইকে দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছি। আজকে তার পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে অনকে গর্বিত মনে করছি।’

জাফর ইকবালেরও প্রতিক্রিয়া একই রকম, ‘আমার নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে থাকতে পেরে। বড় বড় খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকতে পেরে। সবাই দোয়া করবেন যেন আরো ভালো করতে পারি।’

আর সাকিবের প্রতিক্রিয়া? জাফর ও অর্ণব বলার আগেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় তারকা বলেন, ‘যারা আজকে পুরস্কার পেলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। এটা (পুরস্কার) আমাদের জন্য বড় পাওয়া যা অবশ্যই ভবিষ্যতে আরও অনুপ্রাণিত করবে। আমি অবশ্যই খুশি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে। সবাই আমার জন্য এবং আজকে যারা পুরস্কার পেলেন সবার জন্যই দোয়া করবেন। যেন স্পোর্টসকে সবাই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’

বর্ষসেরা পুরস্কারই ছিল শনিবার বিএসপিএর অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। এছাড়া পপুলার চয়েজ অ্যাওয়ার্ড, বর্ষসেরা ফুটবলার, বর্ষসেরা শ্যুটার, বর্ষসেরা দাবাড়ু, বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, সংগঠকসহ মোট ১৪টি ক্যাটাগরিতে ১৫জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। সব পুরস্কার প্রদান শেষে একমঞ্চে উঠে আসেন পুরস্কার প্রাপ্তরা। সেখানে অনুজদের পাশে নিয়ে কিছুটা সময় কাটালেন সাকিব। বিদায় নেওয়ার সময় জানিয়ে গেলেন শুভ কামনাও।

বর্ষসেরা ছাড়াও অন্যান্য পুরস্কার :

বর্ষসেরা ক্রিকেটার- সাকিব আল হাসান, বর্ষসেরা ফুটবলার- জাফর ইকবাল, বর্ষসেরা দাবাড়ু- এনামুল হোসেন রাজীব, বর্ষসেরা টেবিল টেনিস খেলোয়াড়- সোনম সুলতানা সোমা, বর্ষসেরা শুটার- অর্ণব সারার লাদিফ, বর্ষসেরা সাঁতারু- জোনায়না আহমেদ, উদীয়মান অ্যাথলেট- জহির রায়হান, বর্ষসেরা কোচ- সালাউদ্দিন (ক্রিকেট), বর্ষসেরা সংগঠক- মাহফুজা আক্তার কিরণ (ফুটবল), তৃণমূলের ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব- মফিজ উদ্দিন (ফুটবল), বর্ষসেরা স্পনসর- রবি, বিশেষ সম্মাননা- সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শেদী ও বাদল রায়।

টিএআর

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad