পাক সংসদে বাংলাদেশের কড়া সমালোচনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ আগস্ট ২০১৮ | ৬ ভাদ্র ১৪২৫

পাক সংসদে বাংলাদেশের কড়া সমালোচনা

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮

পাক সংসদে বাংলাদেশের কড়া সমালোচনা

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলন স্থগিতের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘স্যাবোটাজ’ করেছে বলে অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে দেশটি ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিভিন্নজনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ঢাকার কড়া সমালোচনা করেছে।

বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ক এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ এ সমালোচনা করেন। খবর: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও রেডিও পাকিস্তান।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ইসলাবাদ আঞ্চলিক কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি চায় না। ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক সব সময় স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।

গত বছর সার্ক সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল পাকিস্তানে। কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়ায় ভারত সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে সেপ্টেম্বরের ওই সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান।

এরপর অবশ্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সার্ক সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তেক্ষেপের কারণেই বাংলাদেশ এই সম্মেলনে যোগ দেয়নি।

কিন্তু, বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি সার্ক সম্মেলন স্থগিতের ঘটনায় বাংলাদেশকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘সার্কের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্তঃর্ঘাতে (স্যাবোটাজ) ইন্ধন দিয়েছে ঢাকা।’

সংসদে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, ‘বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়ন করছে না। শেষ কয়েক বছরে বারবার ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আসছে।’

১৯৭৪ সালে দিল্লিতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তির ১৩ আর্টিকেলে বলা আছে, ওই সময় সংঘটিত যেকোনো অপরাধের তীব্র নিন্দা জানায় পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য ইসলামাবাদ বারবার বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কারণ, পাকিস্তান সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। কিন্তু, অন্য পক্ষ্যকেও আমাদের এই প্রচেষ্টায় শামিল হতে হবে।’

এ সময় তিনি জানান, চলতি বছরের প্রথমার্ধেই ঢাকায় ষষ্ঠ দফায় দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সংলাপ বিষয়ে আশাবাদী পাকিস্তান। কারণ, এটি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মজবুত করতে ভালো সুযোগ তৈরি করবে।

এএইচটি/আইএম