১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার পর গণকবর, সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি

ঢাকা, সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫

১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার পর গণকবর, সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৮

print
১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার পর গণকবর, সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তি

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসলেও অবশেষে রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার সঙ্গে সেনাবাহিনী জড়িত ছিল বলে, বুধবার এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেশটি সেনাপ্রধানের কার্যালয় থেকে বলা হয়। রয়টার্সের খবর।

সন্ত্রাস দমন অভিযানের নামে রোহিঙ্গা হত্যার সাথে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং লেইংয়ের কার্যালয় থেকে এই ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সেনাসদস্যরা।

সীমান্ত পুলিশ চৌকি ও সেনাক্যাম্পে হামলার অভিযোগ এনে সন্ত্রাস দমনের নামে গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু করে সেনাবাহিনী। তাদের সাথে স্থানীয় উগ্রবাদী রাখাইন গোষ্ঠীসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীও যোগ দেয়। নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন, গণধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের হাত থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও  সংবাদ মাধ্যমের বর্ণনামতে, এ অভিযানে হত্যা করা হয় প্রায় সাত হাজারের মত রোহিঙ্গা। নারী ও শিশুদের ওপর নির্বিচারে চালানো হয় নির্যাতন ও গণধর্ষণ। এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ছয় লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা।



জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহ একাধিকবার সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করে আসলে বরাবরই সে অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমার। কিন্তু বুধবারের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বরে রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাকাণ্ড চালায় সেনাবাহিনী। ১০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে তারা।

ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, এক রাখাইন হত্যার জের ধরে রোহিঙ্গাদের সাথে সেনাসদস্য ও গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ১০ বাঙ্গালি সন্ত্রাসীকে (রোহিঙ্গা) আটক করে নিয়ে যায় সেনাসদস্যরা। পরবর্তীতে তাদেরকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়।

কয়েকজন গ্রামবাসী এবং সেনাসদস্যরা এ ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই ফেসবুক পোস্টে। সেই সাথে জড়িত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো হয়।

এর আগে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ এক তদন্তে বলা হয়, রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোন ধরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ছাড়াও কাউকে ঘর ছাড়ার হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়নি বলে জানানো হয় এ তদন্ত প্রতিবেদনে। এর জন্য বাঙ্গালি সন্ত্রাসীদের (রোহিঙ্গা) দায়ী করে তারা।

কিন্তু রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের প্রমাণ স্পষ্ট হয়ে ওঠায় দেশটির সেনাবাহিনীর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বানও জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। তবে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ এনে ডিসেম্বরের শেষের দিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এক জেনারেলের মাঙ মাঙ সুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্র। 

আরজি/

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad