অভিনব কায়দায় গ্রেফতার গয়না চোর

ঢাকা, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭ | ১ পৌষ ১৪২৪

অভিনব কায়দায় গ্রেফতার গয়না চোর

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৭

print
অভিনব কায়দায় গ্রেফতার গয়না চোর

পুকুরের ধারে বসে বঁড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন এক ব্যক্তি। দূর থেকে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তাকে লক্ষ্য করছিলেন কয়েকজন যুবক। খানিক বাদে তার পাশে এসে গল্প করতে শুরু করেন তারা। কথার ফাঁকে ওই ব্যক্তির সম্পর্কে বিশদ জেনে নেন। এরপর পুকুর থেকে ফিরে একটি গোপন জায়গায় লুকিয়ে পড়ে যুবকদের ওই দলটি। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর ওই ব্যক্তি যখন মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তখন হঠাৎই তাকে অপহরণ করে গাড়িতে তুলে নেন ওই যুবকেরা। গাড়ি সোজা রওনা দেয় স্থানীয় থানার দিকে।

.

ওই ব্যক্তি তখনও কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। থানায় তাকে নিয়ে আসার পর নিজেদের পরিচয় দেন ওই যুবকেরা। তখনই জানা যায়, আদতে ওরা লেক থানার পুলিশ। আর যে লোকটি পুকুরের পাশে বসে মাছ ধরছিল, সে গত জুলাই মাসে দক্ষিণ কলকাতার একটি বাড়িতে হিরে বসানো গয়না ও প্রাচীন হাতঘড়ি চুরির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। তার নাম ভগবত মুখিয়া। বাড়ি মধুবনী জেলার ভৈরবস্থানে। তাকে ধরতেই কলকাতা থেকে মুম্বাই পাড়ি দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ নভেম্বর ভগবতকে গ্রেফতার করা হয়। সন্দেহভাজন ভগবতের সম্পর্কে নিশ্চিত হতেই প্রথমেই তাকে গ্রেফতার না করে তার সঙ্গে গল্প ফাঁদেন তদন্তকারীরা। পরে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে বিহার নিয়ে এসে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় তার দুই আত্মীয় বিনোদ মুখিয়া ও লালন মুখিয়াকে। ধরা হয় আরও এক ব্যবসায়ী সত্যনারায়ণ মাহাতোকে। সকলকে নিয়ে কলকাতায় আসেন তদন্তকারীরা।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, একাধিক রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে ওই চক্র। উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া অধিকাংশ জিনিস।

তদন্তকারীরা জানান, গত ২৯ জুলাই লেক থানার যতীন দাস রোডের বাসিন্দা অক্ষিত সিংহানিয়ার বাড়ি থেকে কয়েক লাখ টাকা, হিরে বসানো সোনার গয়না, প্রাচীন হাতঘড়ি চুরি যায়। দুই মাস যাবৎ ওই বাড়িতে পরিচারকের কাজ করতো ভগবত। চুরির পর পরই সে-ও লাপাত্তা হয়ে যায়। তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, ভগবতের বাড়ি বিহারের মধুবনীতে। বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে ঘুরে মূলত বাড়িতে চুরি করে তারা। সঙ্গে থাকে তার কয়েকজন আত্মীয়। তারাও মধুবনীর বাসিন্দা। এই খবর পাওয়ার পরই লেক থানার ওসি প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্যের নির্দেশে তৈরি হয় বিশেষ দল। ওই দলটি প্রথমে যায় বিহারে। সেখান থেকে পাওয়া মোবাইল  নম্বরের সূত্র ধরে তারা মুম্বাইয়ে ভগবতের খোঁজ পান।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রথমে শহরের একটি বাড়িকে ‘টার্গেট’ করতো ভগবত। এরপর সেখানে পরিচারক ও পাচকের কাজ শুরু করতো। কথার ছলে বাড়ির মালিকের আস্থা অর্জন করায় সে ছিল রীতিমতো পটু। কোন দিন বাড়ি ফাঁকা থাকবে, তা আগেভাগেই জেনে সে খবর পাঠাত বিনোদ ও লালনকে। এরপর সুযোগ বুঝে সকলকে বা়ড়িতে ঢুকিয়ে সে কাজ সারতো।

পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বাই, দিল্লি, চণ্ডীগড়সহ একাধিক রাজ্যে এই চক্র ছড়িয়ে রয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও কয়েকজনের খোঁজ চলছে।

আরপি

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad