রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারতের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭ | ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারতের

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৭

print
রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারতের

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে ভারতের সরকার মিয়ানমারকে সমর্থন জানালেও জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম দি হিন্দুস্তান টাইমস সোমবার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে জানায়, চলমান রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে ভারতের কেউ কেউ এখন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা এখন মনে করছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন প্রতিবেশি বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়ানো উচিত ভারতের।

.

গত ৬ সপ্তাহ ধরে মিয়ানমার থেকে প্রায় ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যাদের বেশির ভাগই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। সংখ্যায় কম হলেও রয়েছে পুরুষও! জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থল পথে মাইন এড়িয়ে কিংবা নাফ নদী পারি দিয়ে হাজারে হাজারে মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

জাতিসংঘ বলছে, জীবন বাজি রেখে পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বেশি দরকার আশ্রয়, পানীয় এবং চিকিৎসা। বিশ্বের সবচেয়ে ক্রমবর্ধমান সংকট হিসেবেও তারা রোহিঙ্গা ইস্যুকেই বোঝাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম খুললেই এখন রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে শিরোনাম চোখে পরে। বাংলা হোক কিংবা ইংরেজি.. উভয় সংবাদমাধ্যমেই এখন শীর্ষে অবস্থান করে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি। একই অবস্থা টেলিভিশনের টক শো গুলোতেও।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের মিয়ানমার থেকে বিতারিত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে প্রচার চালান। এমন অবস্থানের কারণে বিশ্ব মহল শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রিটেন সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিশ্ব মিডিয়ার ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব পাওয়া শেখ হাসিনাকে সাধারণ জনগণ সংবর্ধনা জানায়। জনবহুল বাংলাদেশের জন্য লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া এক প্রকার অসম্ভব হলেও শুধুমাত্র মানবিকতার কারণে সেই অসম্ভব কাজকেই বাংলাদেশ সম্ভব করেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের মিত্র হিসেবে পরিচিত ভারত নিয়েছে বিপরীত অবস্থান। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের দোহাই দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অং সান সু চি’কেই সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু দেশটির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, রোহিঙ্গা নিধন চালিয়ে মিয়ানমার সরকারই আসলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দিচ্ছেন।

সেখানে সু চি সরকারকে সমর্থন দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসলে সন্ত্রাসকেই সমর্থন দিয়ে ফেলেছেন। যখন কোনো জাতিগোষ্ঠীর মানুষ সহায় সম্বল ফেলে অজানার উদ্দেশ্যে পারি জমায় তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ।

মিয়ানমারের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের অজুহাতে আরসা (ARSA) সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাখাইনে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে। আদতে তারা পাকিস্তানী আইএসআই’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এমন অবস্থায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন মোদি সরকার মিয়ানমারের আবেদন ফিরিয়ে দিতে পারেনি।

তাই বলে ভারতের আশ্রয়ে থাকা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশে বাধ্য করাকে মানতে পারেননি অনেকে। বিএসএফ’র এমন কর্মকাণ্ডের কারণে মিয়ানমার সীমান্তের পাশাপাশি বিজিবি কড়া নজর রাখতে বাধ্য হচ্ছে ভারতের সীমানা রেখার দিকেও।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি এমন আচরণ এই অঞ্চলের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না। এরফলে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষ জঙ্গিবাদে অনুপ্রাণিত হতে পারে। যার পরিণতিতে এশিয়ার জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

আসামের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এই দৃশ্যমান প্রবণতা উপেক্ষা করতে পারবে না। এখনও একে প্রতিহত করতে তারা অক্ষম বলেই মনে হয়। বুদ্ধিমান রাজনৈতিক নেতাদের জানা উচিত যে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অবহেলা ও বৈষম্য পরবর্তীতে সুরক্ষা প্রাচীরকে ধাক্কা দেবে এবং মৌলবাদকে জাগিয়ে তুলবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের জন্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল একটি বছর। যেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও জামায়াত-ই-ইসলামির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে চাইলেও মোদি সরকার বাংলাদেশের সঙ্গেও বেশ কিছু বিষয়ে একত্রে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশাধিকারসহ অর্থনৈতিক ও পরিবহন রুট বৃদ্ধি, শীর্ষ বিদ্রোহী নেতাদের হস্তান্তর, তথ্য সরবরাহের জন্য একটি গেটওয়ে প্রদান এবং সীমান্ত চুক্তি।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব মানবতার আর্জি মিয়ানমার সরকার উপেক্ষা করলেও ভারতের তা করা একদমই উচিৎ নয়।

কেবিএ

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad