অধিকতর তদন্তের পর কিছু রোহিঙ্গা ফেরতের আশ্বাস সু চির

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৭ | ৯ কার্তিক ১৪২৪

অধিকতর তদন্তের পর কিছু রোহিঙ্গা ফেরতের আশ্বাস সু চির

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

print
অধিকতর তদন্তের পর কিছু রোহিঙ্গা ফেরতের আশ্বাস সু চির

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধদের সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, শুক্রবারও সেখানাকার বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী ও বৌদ্ধরা। পুলিশ চেকপোস্টে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই সহিংসতায় ইতোমধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচাতে ৪ লাখ ২২ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এমন অবস্থায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি। এমনকি দলের সাবেক ও বর্তমান নেতারাও তার ভূমিকার সমালোচনা করেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার এই ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নানা সমালোচনার জবাব দেন তিনি। যেখানে চলমান সহিংসতার ভয়বহতার বিষয়টি তিনি কার্যত অস্বীকার করেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেশটির সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করেন। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গোটা জাতিকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। এমনকি দেশের সঙ্কটের দোহাই দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

এসব বিষয় নিয়ে তিনি সম্প্রতি নিক্কি এশিয়ান রিভিউ নামের একটি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আসলে ঘটনার ভয়াবহতা যেভাবে প্রচার করা হচ্ছে তার কোনো সত্যতা নেই। তবে বিষয়টির অধিকতর তদন্তের পর কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন তিনি। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ পরিবর্তন ডটকমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল-

ক্ষমতাসীন সরকারের নেতা ও সাবেক সমর্থক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এবং জাতিসংঘ তার সমালোচনা করে বলেছে, চলমান জাতিগোষ্ঠী নিধনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সু চি। তারা আরও অভিযোগ করেন যে, সেনা অভিযান বন্ধে সু চি উদাসীন কিংবা অনুৎসাহী।

এ প্রসঙ্গে এশিয়া ও পশ্চিমা কিছু দেশের প্রতি ইঙ্গিত করে সু চি বলেন, ‘আসলে যেসব দেশ এই অবস্থার মধ্যে পড়েনি তারা, যারা পড়েছে তাদের অবস্থা বুঝতে পারবে না।’

গত ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি তার ভাষণে বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেনা অভিযান বন্ধ হয়েছে। কিন্তু তারপরও অসংখ্য রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে এসেছে এবং ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তার সরকারের আরও তদন্ত করতে হবে। আমি আশ্চার্য হচ্ছি যে, ৫ সেপ্টেম্বর সেনা অভিযান বন্ধের পরও কেন তারা পালিয়ে যাচ্ছে। হতে পারে তারা আতঙ্কে যাচ্ছে, কিংবা অন্যান্য কারণ থাকতে পারে। তবে আমরা এই পরিস্থিতির অবসান চাই। সেইসঙ্গে এটাও জানতে চাই যে, কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল।’

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে অং সান সু চি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত কাজ শুরু করব, তবে তার মানে এই নয় যে, সহসা এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। কারণ বিষয়টি নতুন কিছু নয়। যাচাইবাছাইয়ের যে মানদণ্ড তা নিহিত আছে, ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকার যে প্রক্রিয়া শুরু করে তার মধ্যে। সুতরাং এটি নতুন কিছু নয়, বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে আগ্রহী। তাছাড়া এই প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নির্ভর করবে বাংলাদেশ সরকারের ওপর। কারণ তাদের যদি ইচ্ছা না থাকে তাহলে আমরা তাদের দেশে গিয়ে কোনো প্রক্রিয়া তৈরি করতে পারব না।’

সু চি তার ভাষণে বলেছিলেন, রাখাইনে ৫০ শতাংশ গ্রামের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র রাখাইন গ্রামের কথা বলেছি। তাছাড়া ৩০ শতাংশ মুসলিম গ্রামে কোনো সমস্যা নেই, শান্ত ও নিরাপদ রয়েছে। সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। কিন্তু লোকজন আসলে যেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেটাই বার বার আলোচনায় আনছে। আর আমি যে ৫০ শতাংশ গ্রামের কথা বলেছি, সেখানে তো কেউ স্পর্শও করেনি।’

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রণয়ন করা সুপারিশের ব্যাপারে মিয়ানমারের নেত্রী বলেন, ‘এটি খুব ভালো ও প্রশংসনীয় প্রতিবেদন। এটি নিরপেক্ষ ও সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করা হবে। তবে প্রতিবেদনের কিছু তথ্য পুরোপুরি সত্য নয়। আমরা সেটা চিহ্নিত করেছি এবং তারাও (কমিটি) সংশোধনের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।’

পররাষ্ট্র নীতি এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমা সরকারগুলোর সমালোচনার প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে নেইপিদোর সম্পর্ক আরো জোরালো হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি আমরা রক্ষা করতে চাই। মিয়ানমার মানে যে রাখাইন নয় সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক। আর আসিয়ান একটি আঞ্চলিক শক্তি এবং আমরা দুর্বল দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভালো করছি। সামনে আরও ভালো করবে এ জোট।’

রাখাইন ইস্যু বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার সৃষ্টি করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই, কিছু প্রভাব তো পড়বেই, তবে আমরা সে ব্যাপারে সতর্ক আছি। যারা রাখাইন ইস্যুতে আগ্রহী তারা শুধু রাখাইন নিয়েই আলোচনা করবে। কিন্তু আমাদের পুরো দেশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে এবং সব সেক্টরে ভালো করার জন্য আমাদের চোখ-কান খোলা আছে।’

এ ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের খুব সূক্ষ্মভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা দরকার। আমার মনে হয়, অনুন্নয়নের কারণে যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সেটা তারা বুঝতে পারবেন। আর বিনিয়োগই এই পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারে।’

আরপি/

print
 

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad