আজও উত্তপ্ত দিল্লি, মৃত্যু বেড়ে ৭
Back to Top

ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

আজও উত্তপ্ত দিল্লি, মৃত্যু বেড়ে ৭

পরিবর্তন ডেস্ক ১২:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আজও উত্তপ্ত দিল্লি, মৃত্যু বেড়ে ৭

মঙ্গলবার দিল্লির কারওয়াল নগরে একটি টায়ার কারখানায় দেওয়া আগুন। ছবি: টুইটার

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে মঙ্গলবার সকালেও নতুন করে তেঁতে উঠেছিল ভারতের রাজধানী দিল্লি। এ দিন সকালে দিল্লির মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীতে ফের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এদিকে, সোমবার রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ নিহত বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে এই প্রথম দিল্লিতে একই দিনে এতো বেশি নিহতের ঘটনা ঘটলো।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, মঙ্গলবার সকালে একে অপরকে লক্ষ্য করে শুরু হয় পাথরবৃষ্টি। বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। মৌজপুরে একটি ই-রিকশায় ভাঙচুর চালানো হয়। লুট করা হয় রিকশার যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্রও।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‌্যাফ)। উদ্ধার হয় কার্তুজের খোল। এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করে তারা। এরপর আপাতত সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

মৌজপুর এবং ব্রহ্মপুরীর মতো একই পরিস্থিতি কারওয়াল নগরে। ভোররাতে সেখানে একটি টায়ার কারখানায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। আগুন ধরানো হয় বেশ কিছু গাড়িতেও। তবে পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় এখনও পর্যন্ত সেখানে গিয়ে পৌঁছয়নি দমকলবাহিনী।

উত্তর-পূর্ব দিল্লির দমকলবিভাগের ডিরেক্টরের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল থেকে এ দিন ভোর ৩টা পর্যন্ত দিল্লির নানা প্রান্ত থেকে তাদের কাছে ৪৫ বার ফোন এসেছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে তাদের তিন কর্মী আহত হয়েছেন। একটি গাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই পরিস্থিতি বুঝে পদক্ষেপ নিচ্ছেন তারা।

গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, “পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতা অব্যাহত বলে ফোনে লাগাতার অভিযোগ পাচ্ছি আমরা।”

সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় গতকালই রাজধানীর একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ দিনও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই সমস্ত স্টেশনে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো চলাচলও।  উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।

রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা কেন্দ্রের হাতে রয়েছে। তা নিয়ে গতকালই লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বৈজলের সঙ্গে একদফা কথা হয় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের। বাহিনী পাঠানো হবে বলে বৈজল তাকে আশ্বস্ত করেছেন বলে সেই সময় জানান কেজরীওয়াল। কিন্তু এ দিন নতুন করে সহিংসতা ছড়ানোয় ফের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

টুইটারে কেজরীওয়াল লিখেছেন, “দিল্লির কিছু জায়গায় যে পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে চিন্তিত আমি। শহরের সর্বত্র যাতে শান্তি বজায় থাকে, একজোট হয়ে আমাদেরই তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সকলকে আমার অনুরোধ, হিংসা ত্যাগ করুন। যেখানে যেখানে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেখানকার বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বসছি আমি। পদাধিকারী আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা হবে।”

দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাতেই দিল্লি পুলিশের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মুহূর্তে রাজধানীতে রয়েছেন। তাই যত শীঘ্র সম্ভব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ দিন দুপুরেও অরবিন্দ কেজরীওয়াল, অনিল বৈজল এবং অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা শাহের।

সিএএ-র বিরুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই অবস্থান বিক্ষোভ চলছিল জাফরাবাদ, সীলামপুরসহ একাধিক জায়গায়। কিন্তু রোববার সেখানে সিএএ-র সমর্থনে পাল্টা মিছিল করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। তিন দিনের মধ্যে বিক্ষোভ না সরালে তারা কাউকে মানবেন না, রাস্তায় নেমে আসবেন বলে হুমকি দেন তিনি।

তারপরই জাফরাবাদসহ আশাপাশের এলাকার পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সিএএ বিরোধীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সিএএ সমর্থকরা।

গতকাল মৌজপুর, গোকুলপুরীসহ একাধিক এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তাতে এক পুলিশকর্মীসহ ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হেড কনস্টেবল রতনলাল, শাহিদ, মহম্মদ ফুরকান, রাহুল সোলাঙ্কি এবং নাজিম। বাকি দু’জনকে শনাক্ত করা যায়নি। এ ছাড়াও ইটের আঘাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আনন্দবাজার।

এমএফ/
আরও পড়ুন...
আগুন জ্বলছে দিল্লিতে, পুলিশসহ নিহত ৪

 

: আরও পড়ুন

আরও