আগুন জ্বলছে দিল্লিতে, পুলিশসহ নিহত ৪
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

আগুন জ্বলছে দিল্লিতে, পুলিশসহ নিহত ৪

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

আগুন জ্বলছে দিল্লিতে, পুলিশসহ নিহত ৪

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের রাজধানী দিল্লি। সোমবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে এদিন রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকা, সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এক পুলিশ সদস্যসহ তিনজন সাধারণ নাগরিক। ১০ জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, সিএএ-বিরোধী আন্দোলনে এই প্রথম দিল্লিতে চারজন নিহত হলেন।

মৌজপুরে পাথরের আঘাতে পুলিশের হেড কনস্টেবল রতন লালের মৃত্যু হয়। এর পর বিকেলে চাঁদবাগে ফুরকান আনসারি (৩২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। রাতে গুরু তেগবাহাদুর হাসপাতালে মারা যান শহিদ নামে এক যুবক। অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে তেগবাহাদুর হাসপাতালেই ভর্তি অন্তত ২০ জন।

বিক্ষোভ যাতে চরম আকার ধারণ না করে, তার জন্য ইতিমধ্যেই জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনও ট্রেন দাঁড়াবে না। ওই এলাকায় ১৪৪ ধারাও জারি হয়েছে।

রোববার বিকেল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষের জেরে জাফরাবাদ অঞ্চলের বহু মুসলিম পরিবার ঘরে তালা ঝুলিয়ে মহল্লা ছেড়েছেন। জাফরাবাদ, মৌজপুর, বাবরপুর, সিলমপুরের অনেকে বাড়ির সামনে গেরুয়া পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছেন, যাতে হামলা না হয়। ২০০২-এ গুজরাট দাঙ্গার সময় আমদাবাদেও এই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর তো বটেই, তার সঙ্গে আরও তিনটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে ওই লাইনে মেট্রো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। মঙ্গলবার পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

এরই মধ্যে রাতে আগুন লাগানো হয় গোকুলপুরীর টায়ার বাজারের একের পর এক দোকানে। দিল্লির আপ সরকারের তিন মন্ত্রী এবং বহু বিধায়ক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানাতে এবং পুলিশি সক্রিয়তার দাবি নিয়ে বেশি রাতে উপরাজ্যপালের বাড়ির সামনে ধর্না দেন।

বিকেলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। যথেষ্ট বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপরাজ্যপালের কাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা দিল্লি পুলিশের কর্তারা মনে করছেন, ট্রাম্পের সফরের দিকে নজর রেখেই সিএএ-বিরোধীরা অশান্তি তৈরির চেষ্টা করেছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জি কিষেণ রেড্ডি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরের সময় ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে।’

কথাটা পুরোপুরি অস্বীকার করছেন না জাফরাবাদের বাসিন্দারা। কিন্তু অশান্তির জন্য তাদের অভিযোগের আঙুল বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের দিকে।

এসবি

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও