পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের দলে চীন
Back to Top

ঢাকা, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬

পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের দলে চীন

পরিবর্তন ডেস্ক ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

পাকিস্তান ছেড়ে ভারতের দলে চীন

ছবি: আনন্দবাজার

আন্তর্জাতিক মঞ্চে যতবারই পাকিস্তান সম্পর্কে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে, ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে চীন। কিন্তু, এবার নিজেদের অবস্থান থেকে কার্যত পুরোপুরি ঘুরে গিয়ে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছে বেইজিং।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, ভারতসহ আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান দেশগুলি সন্ত্রাস দমনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে যে বার্তা দিতে চলেছে, সেই তালিকায় এবার চীনও যোগ দিচ্ছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যেই যুক্ত হয়েছে।

জুন মাসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের প্লেনারি সেশন বা পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের আগে দুই দেশ এবং বিশেষ করে চীনের এই অবস্থান বদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সন্ত্রাসে মদত দেওয়া ও অর্থ যোগানোর অভিযোগে ২০১৮ সাল থেকে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে সন্ত্রাসীদের অর্থ সরবরাহ ও কার্যকলাপের উপর নজরদারি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএটিএফ।

এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় থাকার অর্থ, সেই দেশকে নিরাপদ বলে মনে করা হয় না। সন্ত্রাসে মদত দেওয়া ও অর্থ জোগানের অভিযোগে ধূসর তালিকাভুক্ত করার অর্থ সেই দেশকে সতর্কবার্তা দেওয়া। এর পরের ধাপই কালো তালিকা।

সন্ত্রাস দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে সংশিষ্ট দেশকে কালো তালিকাভুক্ত করতে পারে এফএটিএফ। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকায় রেখে সন্ত্রাস দমনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বার্তা দিয়েছে এই সংস্থা।

আনন্দবাজার বলছে, আগামী জুন মাসে বসছে এফএটিএফ-এর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন। তার আগে সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক মহলে নজরে পড়ার মতো কোনও কড়া ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে এফএটিফ। কড়া হাতে শীর্ষ জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের বিচার ও শাস্তির জন্য পাকিস্তানকে বলা হতে পারে।

সূত্রের খবর, চীন ও সৌদি আরবের এই অবস্থান বদলের জেরে এবার এটা কার্যত নিশ্চিত যে, জুনের আগে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে পাকিস্তানকে ধূসর তালিকাতেই রাখা হবে। খুব শীঘ্রই ফের এ নিয়ে সরকারীভাবে ঘোষণা হতে পারে।

সদস্য দেশগুলির মধ্যে চীন ও সৌদি আরব পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে বরাবর। কিন্তু তারাও এ বার একজোট হওয়ায় পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। তবে শেষ মুহূর্তে তালিকা থেকে সরে গেছে একমাত্র তুরস্ক।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের অক্টোবরে ভারত সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। বেসরকারি সফর হলেও তামিলনাডুর মহাবলীপূরমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিংয়ের কথা হয়েছিল।

জিনপিংয়ে সফরের পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের সামগ্রিক বিপদ নিয়ে দু’জনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দুই নেতাই মনে করেন, সন্ত্রাসের প্রশিক্ষণ, অর্থ জোগান ও মদতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্বের আরও শক্তিশালী পরিকাঠামো গড়ে তোলা উচিত। একজোট হওয়া উচিত বড় দেশগুলোর।

জিনপিংয়ের সফরের কয়েক মাসের মধ্যেই চীনের এই অবস্থান বদল ভারতের কাছে অবশ্যই আনন্দের খবর। পাশাপাশি চীনের এই অবস্থান বদল ভারতের কূটনৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন কূটনৈতিকরা। সূত্র: আনন্দবাজার।

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও