জামিয়ার লাইব্রেরিতে দিল্লি পুলিশের নৃশংস হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে
Back to Top

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

জামিয়ার লাইব্রেরিতে দিল্লি পুলিশের নৃশংস হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

জামিয়ার লাইব্রেরিতে দিল্লি পুলিশের নৃশংস হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে

জামিয়ার লাইব্রেরিতে লাঠি নিয়ে চড়াও পুলিশ। ছবি: ভিডিও গ্র্যাব।

এবার দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়ার লাইব্রেরিতে পুলিশের সেই নৃশংস হামলার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে গঠিত জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই মাস আগে পুলিশি তাণ্ডবের ভিডিওটিতে দেখা গেছে, লাইব্রেরিতে ঢুকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপর কার্যত একতরফা নৃশংস মারধর চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “এক জায়গায় এক সঙ্গে গোল হয়ে বসে রয়েছেন অনেকে। আবার বই-খাতা খুলে একাই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এমন অবস্থায় লাইব্রেরির মধ্যে উর্দিধারীদের দেখে হুলস্থুল পড়ে গেল চারিদিকে। মাথা বাঁচাতে টেবিলের নীচে আশ্রয় নিলেন কেউ। কেউ আবার সেঁটে গেলেন দেওয়ালে। তবে তাতেও রেহাই মিলল না। কখনও মাথায়, তো কখনও আবার পিঠে এসে পড়ল লাঠির বাড়ি। হাত তুলে মাথা বাঁচাতে গেলে সেই হাতেই এসে পড়ল এলোপাথাড়ি লাঠির ঘা।”

“দিল্লির জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশি তাণ্ডবের এমনই ভিডিয়ো এ বার সামনে এলো। তাতে লাইব্রেরিতে ঢুকে কার্যত একতরফা তাণ্ডব চালাতে দেখা গেছে দিল্লি পুলিশকে।”

লাইব্রেরির সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে সেটি বের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাতে শুধু মারধরই নয়, লাঠি উঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের হুমকি দিতেও পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে।

জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “এই সিসিটিভি ফুটেজ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি নৃশংসতার প্রমাণ। এতে প্রমাণিত হয়, কীভাবে রাষ্ট্রের পোষা সন্ত্রাসবাদীরা লাইব্রেরিতে ঢুকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পড়ুয়াদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালিয়েছে।”

ভিডিওটি সামনে আসার পর নতুন করে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের অপরাধ দমন শাখা জামিয়া কাণ্ডের তদন্ত করছে। ভিডিওটি  পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

ভিডিওটি সামনে আসার পর দিল্লি পুলিশের নিন্দায় সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। টুইটারে প্রিয়ঙ্কা লেখেন, “দেখুন দিল্লি পুলিশ কীভাবে পড়ুয়াদের মারধর করছে। একজন হাতে বই তুলে দেখাচ্ছে, তার পরেও তার উপর এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দিল্লি পুলিশের আধিকারিকরা মিথ্যা বলেছিলেন যে, লাইব্রেরিতে ঢুকে কাউকে মারধর করেননি ওরা। এই ভিডিও সামনে আসার পরও জামিয়ার ঘটনায় কারোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া হলেই এই সরকারের অভিসন্ধি সকলের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য যে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি)-র বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালীন গত ১৫ ডিসেম্বর তুমুল বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া এবং ওখলা এলাকা। শতাধিক মোটর বাইক, অন্তত তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। পুলিশ গেলে তাদের সঙ্গেও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

সেই বিক্ষোভের আঁচ কমতেই জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পডু়য়াদের বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন, শুধু লাঠিপেটা করাই নয়, গুলিও চালিয়েছিল পুলিশ।

লাইব্রেরিতে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছিল দিল্লি পুলিশ। গুলি চালানোর কথাও শুরুতে মানতে চায়নি তারা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক পুলিশ অফিসারকে গুলি চালাতে দেখা গেলে শেষে অভিযোগ মেনে নেয় দিল্লি পুলিশ।

বলা হয়, যে ভাবে ঘিরে ধরে পাথর ছোড়া হচ্ছিল তাদের দিকে, তাতে গুলি না-ছুড়ে উপায় ছিল না। তবে বিক্ষোভকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি ছোড়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে পুলিশ।

ভিডিও লিংক...

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও