ভারতে কলেজে ৬৮ ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে হেনস্থা
Back to Top

ঢাকা, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২০ | ২৫ চৈত্র ১৪২৬

ভারতে কলেজে ৬৮ ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে হেনস্থা

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০

ভারতে কলেজে ৬৮ ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে হেনস্থা

ঋতুচক্র চলছে কি না, তা যাচাই করতে ভারতের গুজরাটের এক কলেজে ৬৮ জন ছাত্রীর অন্তর্বাস খুলিয়ে পরীক্ষার অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্তকারী দল গঠন করেছে দেশটির জাতীয় মহিলা কমিশন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রীদের সঙ্গে তারা কথা বলবেন বলে কমিশন জানিয়েছে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুজরাটের ভুজে শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউট (এসএসজিআই) নামে এই মহিলা কলেজটি পরিচালনা করেন স্বামীনারায়ণ মন্দিরের অনুগামীরা।

স্নাতক স্তরে প্রায় ১৫০০ ছাত্রী সেখানে পড়াশোনা করেন। তাদের মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা ৬৮ জন ছাত্রী কলেজের হোস্টেলে থাকেন।

হোস্টেলের ওই আবাসিক ছাত্রীরাই হেনস্থার অভিযোগ এনে জানান, কলেজে– বিশেষ করে হোস্টেলে তাদের অনেক নিয়ম মানতে হয়। যেমন ঋতুকালীন অবস্থায় রান্নাঘর বা মন্দিরের কাছাকাছি যাওয়া নিষেধ। এমনকি অন্যান্য সহপাঠীদের ছোঁয়াও নিষেধ।

কিন্তু ছাত্রীরা সেই সমস্ত নিয়ম মানছেন না বলে বুধবার তাদের ভর্ৎসনা করেন হোস্টেলের ওয়ার্ডেন অঞ্জলিবেন। তিনি ছাত্রীদের বিরুদ্ধে কলেজের অধ্যক্ষা রীতা রানিনগার কাছে নালিশ জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ক্লাস চলাকালীন তাদের বাইরে বেরিয়ে আসতে বলেন অধ্যক্ষা। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে প্রথমে তাদের ধমক দেওয়া হয়। এর পরে যাদের ঋতুচক্র চলছে তাদের আলাদা করে দাড়ানোর নির্দেশও দেন রীতাদেবী। দুই ছাত্রী তাতে সরে দাঁড়ান।

বাকি পড়ুয়ারা সত্যি বলছেন কি না, তা যাচাই করতে ছাত্রীদের হোস্টেলের শৌচাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, সেখানে প্রত্যেকের অন্তর্বাস খুলে পরীক্ষা করেন শিক্ষিকারা।

আবাসিক ছাত্রীদের আরও অভিযোগ, ঋতুচক্র চলাকালীন তাদের প্রায়ই হেনস্থা হতে হয়। নানা ভাবে তাদের মনে করানো হয়, বিষয়টি ঘৃণ্য এবং অপবিত্র। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও ছাত্রীরা জানান, বিষয়টি কলেজের পরিচালন সমিতির সদস্য প্রবীণ পিন্ডোরিয়াকে জানালে তিনি ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এমনকি পুলিশের কাছে গেলে ছাত্রীদের হোস্টেল ছাড়তে হবে বলেও হুমকিও দেন। কলেজে এ সব কিছুই ঘটেনি— এমন বক্তব্য লেখা একটি চিঠি সই করতে বলা হয় শিক্ষার্থীদের।

আনন্দবাজার বলছে, এ বিষয়ে পিন্ডোরিয়ার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি, ফোন বা মেসেজের জবাব দেননি অধ্যক্ষা রীতাদেবীও।

কলেজের পরিচালন সমিতির আর এক সদস্য পি এইচ হিরানি অবশ্য ঘটনাটির কথা স্বীকার করে বলেছেন, “নামমাত্র বেতনের বিনিময়ে এখানে পড়ার সুযোগ পান মেয়েরা। প্রতিষ্ঠান চত্বরে মন্দির থাকায় মেয়েদের কিছু ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলতে বলা হয়। তবে ছাত্রীদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা ঠিক নয়। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দর্শনা ঢোলকিয়া। তিনি বলেছেন, “যে বা যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও