জামিয়ার ছাত্রীদের গোপনাঙ্গে লাথি, ছেঁড়া হলো হিজাব

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

জামিয়ার ছাত্রীদের গোপনাঙ্গে লাথি, ছেঁড়া হলো হিজাব

পরিবর্তন ডেস্ক ২:১৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০

জামিয়ার ছাত্রীদের গোপনাঙ্গে লাথি, ছেঁড়া হলো হিজাব

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন দিল্লির জামিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। (ফাইল ছবি)

দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন দিল্লির জামিয়া মিলিয়ার শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ মিছিলে পথ আটকে অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীরা জানান, মিছিলে শামিল প্রতিবাদী ছাত্রীদের গোপনাঙ্গে লাথি মারে দিল্লি পুলিশ, এমনকী ছিঁড়ে দেয় তাদের হিজাবও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জামিয়ার শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। তবে “প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনও বল প্রয়োগ করা হয়নি” বলে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ এবং সম্ভাব্য জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে রওনা দেয় অসংখ্য প্রতিবাদী।

এ সময় দিল্লি পুলিশ তাদের পথ আটকালে জামিয়ার কয়েকজন প্রতিবাদীর সঙ্গে দিল্লি পুলিশের কর্মীদের বাদানুবাদ থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় কয়েকজন পড়ুয়া আহত হন বলেও জানা গেছে।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই তাই গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন জামিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা। একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে কমপক্ষে ২০ জন আহত পড়ুয়া তাদের উপর হওয়া পুলিশি হামলার বিবরণ তুলে ধরেন।

তারা জানান, সেদিন প্রতিবাদ মিছিল রুখতেই “পরিকল্পিত” ষড়যন্ত্র করে হামলা চালিয়েছিল দিল্লি পুলিশ।

একজন আহত ছাত্রী অভিযোগ করেন, “যখন আমি দেখলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে ব্যাপক মারধর করছে, তখন আমি ওদের সাহায্যের জন্যে ছুটে আসি। আমি যখন ব্যারিকেড পার হচ্ছিলাম, তখন কয়েকজন মহিলা পুলিশ আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। একজন পুরুষ পুলিশ কর্মী আমার গোপনাঙ্গে লাথি মারলে আমি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই।”

অন্য এক ছাত্রী জানান, “পুলিশ কর্মীরা আমার উরুর উপর উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। আমার একটা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। ওরা আমার হিজাবও ছিঁড়ে ফেলেন, সংবিধানের শিক্ষা দেওয়ার কথা বলে এক কোণে নিয়ে গিয়ে আমাকে অকথ্য গালাগাল দেওয়া হয়”।

শুধু অভিযোগ নয়, সাংবাদিক সম্মেলনে ওই ছাত্রীরা তাদের আহত হওয়ার প্রমাণ হিসাবে মেডিকেল রিপোর্টও দেখান এবং পুরুষ শিক্ষার্থীরা আহতদের ছবিও তুলে ধরেন।

যদিও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডিসিপি আরপি মীনা দাবি করেন, “আমাদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। পুরো প্রতিবাদের ছবি আমাদের কাছে ভিডিও করা আছে। বরং আমাদেরই কয়েকজন পুরুষ পুলিশ কর্মী হেনস্থার শিকার হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। প্রতিবাদীদের উপর কোনও বলপ্রয়োগ করা হয়নি”।

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও