আন্তর্জাতিক স্তরে ফের ধাক্কা খেল ভারত

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

আন্তর্জাতিক স্তরে ফের ধাক্কা খেল ভারত

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

আন্তর্জাতিক স্তরে ফের ধাক্কা খেল ভারত

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ফের ধাক্কা খেল ভারত। আইনটিকে ‘বিশ্বে রাষ্ট্রহীনতার পক্ষে সবচেয়ে বড় সঙ্কট এবং মানুষের দুর্দশার কারণ’ আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৫৪ জন সদস্য। আগামী ২৯ জানুয়ারি ব্রাসেলসে পার্লামেন্টের অধিবেশনে এই প্রস্তাব পেশ হবে। আর পরের দিন ৩০ জানুয়ারি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, সিএএ ভারত সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে তুলে ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি নজির তৈরি করছে।... এই আইনের প্রকৃতিটাই বিভাজনকামী, কারণ এতে অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলির যে অধিকার তার থেকে মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিভেদ ঘটানো হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৬টি দেশের সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রগতিশীল এসঅ্যান্ডডি এই প্রস্তাব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, সিএএ মানবাধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সব ধরনের জাতি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে নিপীড়িত আখ্যা দিলেও সিএএ-তে কেন তাদের বাদ রাখা হলো- সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। ভারতে বসবাসকারী তামিল উদ্বাস্তু, পাকিস্তানের আহমেদি ও হাজারা, বাংলাদেশের বিহারি মুসলিমদের প্রতিও সিএএ বৈষম্যমূলক বলেও অভিমত দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবটিতে।

এসঅ্যান্ডডি গ্রুপের প্রস্তাবে সিএএ-র বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে প্রতিবাদের প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রতিবাদের জেরে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ১৭৫ জন আহত হয়েছেন। গ্রেফতার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রতিবাদের কণ্ঠ রোধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা, কারফিউ জারি এবং বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে পুলিশি সহিংসতার কথা তুলে ধরে ভারতকে জাতিসংঘের ঘোষিত নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা।

এ ছাড়া ইইউ-এর পাশাপাশি সিএএ নিয়ে সরব হয়েছে আমেরিকাও। দেশটির পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই সিএএ-র বিরুদ্ধে প্রস্তাব উপত্থাপন করা হয়েছে। তবে ভোটাভুটির জন্য সিনেটে বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি।

এর আগে ভারতের এই বিতর্কিত আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)।

আরপি

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও