রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত আজ

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত আজ

পরিবর্তন ডেস্ক ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ২৩, ২০২০

রোহিঙ্গা নির্যাতন: মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্ত আজ

নিজেদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারে ফিরতে নারাজ রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় উভয়পক্ষের শুনানি আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর আজ বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ঘোষণা করবে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে)।

যে বিষয়গুলোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- গণহত্যা বন্ধের জন্য মিয়ানমার অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে; মিলিটারি, প্যারামিলিটারি ও বেসামরিক অস্ত্রধারী ব্যক্তি কোনও ধরনের গণহত্যা না চালাতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া; মিয়ানমার গণহত্যা সংক্রান্ত কোনও ধরনের প্রমাণ নষ্ট করবে না; এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও খারাপ করে এমন কোনও কাজ করবে না। পঞ্চম বিষয়টি হচ্ছে আদেশের পরে আগামী ৪ মাসের মধ্যে উভয়পক্ষ তাদের নেওয়া পদক্ষেপ কোর্টকে অবহিত করবে।

প্রসঙ্গত, রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের মাধ্যমে মিয়ানমার  গণহত্যা প্রতিরোধ ও শান্তি কনভেনশন ভঙ্গ করেছে বলে গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ করে গাম্বিয়া। প্রায় ৫০ পাতার ওই আবেদনে রোহিঙ্গারা রাখাইনে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছে এবং এর ফলে গণহত্যার মতো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে এই বিষয়টি উল্লেখ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে আফ্রিকার দেশটি।

যেহেতু এ ধরনের মামলা অনেকদিন ধরে চলে সে জন্য ওই একই আবেদনে পাচঁটি বিষয়ে কোর্টের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চায় গাম্বিয়াটি। এ বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি হয় গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর। সেখানে গাম্বিয়া ও মিয়ানমার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে।

এদিকে, আজকের আদেশের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অবিচার হয়েছে সেটির ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সহজ ও প্রশস্ত হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে যুক্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা কোর্টে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনেছি। মিয়ানমার তাদের যুক্তি জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারেনি। আমরা আশা করছি যে, পাচঁটি বিষয়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে তার সবগুলো না হলেও একটি বড় অংশের জন্য আদেশ দেবেন আদালত।’

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ইতিহাসের জঘন্যতম ওই অভিযানের শিকার হয়ে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন এর আগে বলেছে, গণহত্যার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমার ওই অভিযান চালিয়েছে।

যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি মিয়ানমার বরাবর অস্বীকার করেছে। এর পরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে নেন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল আবুবকর মারি তামবাদু।

আরপি  

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও