‘পরোয়া নেই হাজার প্রতিবাদেও, সিএএ ফেরাব না’

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

‘পরোয়া নেই হাজার প্রতিবাদেও, সিএএ ফেরাব না’

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৫৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২২, ২০২০

‘পরোয়া নেই হাজার প্রতিবাদেও, সিএএ ফেরাব না’

সিএএ-র সমর্থনে মঙ্গলবার লক্ষ্ণৌতে এক সমাবেশে অমিত শাহ। পিটিআই

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে সকল প্রতিবাদীদের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সদ্যপ্রাক্তন সভাপতি ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, “যার যত বিরোধিতা করার করুন, হাজার প্রতিবাদেও পরোয়া নেই, সিএএ প্রত্যাহার হবে না।”

মঙ্গলবার ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন, জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতির অন্যতম আঁতুড়ঘর উত্তরপ্রদেশ। তার রাজধানীতেই এখন চলছে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ। সেখানে সমাবেশে শাহ বললেন, “তিন মাস পর অযোধ্যায় গগনচুম্বী মন্দির হলে আমাদের জীবন ধন্য হবে। আমার সঙ্গে বলুন, জয় শ্রীরাম। জয় জয় শ্রীরাম।” জনতা বলল, ‘জয় শ্রীরাম’। হলো শঙ্খধ্বনিও।

কিন্তু শাহ এখানেই থামলেন না। নাগরিকত্ব আইনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ কারা, স্পষ্ট করে দিলেন। বারবার নাম করে আক্রমণ করলেন ‘মমতাদিদি’, ‘রাহুলবাবা অ্যান্ড কোম্পানি’, অখিলেশ-মায়াবতী, বামেদের।

শাহ বললেন, “বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় নেতা নরেন্দ্র মোদী আইন আনলেন, আর এরা সকলে ক্যাউ-ক্যাউ-ক্যাউ-ক্যাউ করতে শুরু করলেন। মমতাদিদি এত জোরে জোরে বলছেন, যেন কী না কী হয়ে গেল! আমি প্রশ্ন করতে চাই, মতুয়া, নমশূদ্র পরিবার, দলিত বাঙালিরা এ দেশে এসেছেন। তাঁরা নাগরিকত্ব পাচ্ছেন। আপনার কী সমস্যা ভাই বলুন আমাকে? আপনিই তো ২০০৩ সালে সংসদে দাবি করেছেন, এদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। আপনি করলে ঠিক, মোদী করলে বিরোধিতা!”

এরপরেই চ্যালেঞ্জ ছোড়েন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, “যার যত বিরোধিতা করার করুন, সিএএ প্রত্যাহার হবে না।”

শাহের আক্রমণ প্রসঙ্গে তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি জানি না তিনি কী বলেছেন। তবে এ নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হলে জানাব।”

তৃণমূলের আর এক শীর্ষনেতা বলেন, “কোথাও কোনও আলোচনা না-করে সিএএ পাশ করিয়ে সারা দেশে আগুন জ্বেলেছে বিজেপি। এখন এই সব গা-গরম করা কথা না-বলে দেশের স্বার্থে বিল পেশের আগে আলোচনা করা দরকার ছিল।”

উগ্র হিন্দুত্ববাদি যোগী আদিত্যনাথেরা এদিন মোদীর সঙ্গে শাহের জয়ধ্বনি দিয়ে তাঁকে ‘লৌহপুরুষ’, ‘আধুনিক ভারতের চাণক্য’ বলেছেন। আর শাহ মমতা থেকে রাহুল গাঁধীকে বসিয়েছেন ইমরান খানের সঙ্গে এক সারিতে।

শাহ বলেন, “ইউপিএ সরকারের আমলে পাকিস্তান থেকে আলিয়া মালিয়া জামালিয়া এসে জঙ্গি হামলা করত। মৌনীবাবা (মনমোহন সিংহ) কিছু বলতেন না। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী সার্জিকাল স্ট্রাইক করলেই বিরোধিতা করেন রাহুলবাবা, মমতাদিদি।”

তিনি আরও বলেন, “৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ, পাকিস্তানে বিমান হামলা, সিএএ নিয়ে ইমরান খান যে ভাষায় বলছেন, রাহুলবাবা-মমতার ভাষা এক। এদের কী সম্পর্ক ইমরান খানের সঙ্গে? হিম্মত থাকলে প্রকাশ্যে বিতর্ক করুন। মুসলিম তো দূরের কথা, এই আইন কারও নাগরিকত্ব কাড়ছে না।”

শাহের মতে, লড়াইটা যারা ভারতের ভাল চান বনাম যারা দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান। জেএনইউ-এর টুকড়ে-টুকড়ে গ্যাংকে জেলে পাঠানোর প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। বলেন, কংগ্রেসই দেশ ভাগ করেছে ধর্মের ভিত্তিতে। এখন চোখে ভোটব্যাঙ্কের চশমা পরে দেশভাগের ষড়যন্ত্র করছে, হিংসা ছড়াচ্ছে।

কংগ্রেস মনে করছে, সিএএ নিয়ে আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আগে বিজেপি ভুয়া সমর্থন দেখাতে চাইছে। কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল মোদী-শাহের ৯টি ‘মিথ্যা’ তুলে ধরে বলেন, “আমি মোদী-শাহের সঙ্গে বিতর্কে রাজি।”

অন্য দিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আজ শাহকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “রাজ্যে এক বাবাই যথেষ্ট ছিল। আর এক জন এসে প্রবচন দিয়ে গেলেন। এই ঠগ বাবারা জনতার বিশ্বাসের সঙ্গে খেলছেন, তাই এদের ঝুলিতে কিছু দেবেন না।”

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও