কেরালার পর পাঞ্জাবেও সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬

কেরালার পর পাঞ্জাবেও সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৮, ২০২০

কেরালার পর পাঞ্জাবেও সিএএ বাতিলের প্রস্তাব পাস

কেরালার পর পাঞ্জাবের বিধানসভাতেও ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন বাতিলের প্রস্তাব পাস হয়েছে। কেরালার পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে এই আইন তাদের রাজ্যে কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। খবর এনডিটিভির।

গতকাল (শুক্রবার) মন্ত্রী ব্রহ্ম মহিন্দ্রা বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেন। মহিন্দ্রা বলেন, গত ডিসেম্বরে সংসদে পাস হওয়া নতুন নাগরিকত্ব আইন পাঞ্জাবসহ দেশজুড়ে ক্ষোভ ও সামাজিক অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।

এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যায়িত করা হয়। বিধানসভায় প্রস্তাবে বলা হয়, “এটা স্পষ্ট যে সিএএ দেশের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি, যা সংবিধানের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য, তার পরিপন্থী। ফলে কক্ষ থেকে সিএএ বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ভারত সরকারকে। যাতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে যে কোনো বৈষম্যকে এড়ানো সম্ভব হয়। এবং ভারতের সমস্ত ধর্মীয় সংগঠনের জন্য আইনের সাম্য নিশ্চিত করা যায়।”

পাশাপাশি প্রস্তাবে এও জানানো হয়, এনআরসি ও তার সম্ভাব্য প্রথম ধাপ এনপিআর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে দেশের এক শ্রেণির নাগরিককে বঞ্চিত করার জন্য। নাগরিকত্ব আইন দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ণ করছে, যা সংবিধানের ভিত্তিস্বরূপ।

এর আগে দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে কেরালা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই আইনের বিষয়ে ৬০টি পিটিশন জমা পড়েছে।

প্রসঙ্গত, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী।

এর আগে বিভিন্ন রাজ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কিন্তু কেরালাই প্রথম কোনো রাজ্য হিসেবে এই আইনের বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়। কেরালা সরকার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে আর্জি জানিয়েছে যে সিএএ সংবিধানের ১৪, ২১ এবং ২৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করেছে।

এমএফ/

 

আন্তর্জাতিক: আরও পড়ুন

আরও