এনআরসি হবেই, মমতাকে চ্যালেঞ্জ অমিতের

ঢাকা, রবিবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬

এনআরসি হবেই, মমতাকে চ্যালেঞ্জ অমিতের

পরিবর্তন ডেস্ক ১:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

এনআরসি হবেই, মমতাকে চ্যালেঞ্জ অমিতের

প্রতীকী ছবি।

কেন্দ্র গোটা দেশের জন্য এনআরসি তৈরি করলেও পশ্চিমবঙ্গে তা করতে দেওয়া হবে না, এমন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং নাগরিকত্ব আইন সংশোধন হলেও বাংলায় তার প্রয়োগ রুখবেন বলেছিলেন তিনি।

কিন্তু রাজ্যসভায় আজ নাগরিকত্ব বিল পাশের ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বললেন, কোনো রাজ্যই বাদ যাবে না। পশ্চিমবঙ্গসহ গোটা দেশে এই আইন প্রয়োগ করা হবে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রাজ্যসভায় আজ দিনভরই নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, নয়া নাগরিকত্ব আইনে তাদের সবচেয়ে বেশি ফায়দা হবে পশ্চিমবঙ্গে। তাই লোকসভায় বিলটি নিয়ে বিতর্কের দিন থেকেই রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতে সক্রিয় রয়েছেন তারা।

অমিত আজ টেনে আনেন পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের উপস্থিতি নিয়ে মমতার ২০০৫ সালের এক মন্তব্য। এ ছাড়া রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করা নিয়ে বিতর্কে পশ্চিমবঙ্গকে এ দিন ‘আমার পশ্চিমবঙ্গ’ বলে উল্লেখ করেন শাহ।

গুজরাটের উগ্র হিন্দুত্ববাদি এই নেতার এমন বঙ্গপ্রেমকে কটাক্ষ করে রাজ্যসভায় তৃণমূলের নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, “আজকাল অনেকেই দেখছি নিজেদের বাঙালি-প্রেমী প্রমাণ করতে চান। অথচ তারাই একটি ভারত-বিরোধী, বাঙালি বিরোধী বিল নিয়ে এলেন আজ। কেউ যেন বাঙালিকে দেশপ্রেম শেখাতে না আসেন।”

এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই রাজনৈতিকভাবে সরব রয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশের দিন শিল্প সম্মেলনের মঞ্চে আবারও একতার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার দিঘা বিজনেস কনক্লেভের উদ্বোধনী বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একতাই আমাদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। আমরা মানুষকে ভাগ করি না। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমরা সব সময় সবাই এক। অনেকে অনেক জায়গায় থাকতে পারেন। কিন্তু আমাদের পরিবার একটাই। দেশের বুনিয়াদ একতা এবং বৈচিত্রে। কত ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, গোষ্ঠী রয়েছে। কিন্তু বাংলায় একজনও বলতে পারবেন না, এখানে তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন। গোটা দেশকে দিশা দেখায় এ রাজ্য। আমাদের সব জায়গা মিশ্র সংস্কৃতির (কসমোপলিটান)। কেউ ভেদাভেদ করে না। কোনো বিভাজন নীতি নেই আমাদের।”

একই দিনে মমতারই ২০০৫-এর এক মন্তব্যকে তাঁর বিরুদ্ধে হাতিয়ার করেন অমিত। তাঁর কথায়, “লোকসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ভোটার তালিকায় ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম পাওয়া যাবে।”

বিজেপির প্রশ্ন, মমতা তখন অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে প্রশ্নে সরব ছিলেন। কিন্তু এখন কেন বিরোধিতা করছেন? সভার সদস্য নন, উপস্থিতও নন—তবু কেন মমতার নাম তোলা হচ্ছে তা নিয়ে চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূলের সুখেন্দুশেখর রায় ও ডেরেক।

নায়ডু পর্যবেক্ষণে জানান, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলা কথাই উল্লেখ করেছেন। যা রেকর্ডে ছিল তা-ই বলেছেন।” খোঁচা খাওয়া তৃণমূলকে ফের বেঁধেন শাহ। বলেন, “এঁদের এত রাগ কেন, তা বোঝাই যাচ্ছে!”

মমতা বলে আসছেন, নয়া নাগরিকত্ব আইন বাংলায় প্রয়োগ করতে দেবেন না। বিজেপি সমর্থিত সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যসভায় জানতে চান, কোনো রাজ্য চাইলেই কি এটা করতে পারে?  শাহ জানান, “পশ্চিমবঙ্গসহ সব রাজ্যে ওই আইন প্রয়োগ হবে। কেউ বাদ পড়বে না।”

বিজেপির ধারণা, নতুন নাগরিকত্ব আইন ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে দলের ভোট ব্যাঙ্কে। আসামের এনআরসিতে বিস্তর হিন্দু বাদ পড়ায় সে রাজ্যে বিজেপির সমর্থনে যে ধস নামছে তা রোখা যাবে।

বিজেপির হিসেবে, নতুন নাগরিকত্ব আইনে অন্তত দেড় কোটি হিন্দু নাগরিকত্ব পাবেন। যাদের অর্ধেকের বেশি বাংলাদেশ থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন। সে কারণে লোকসভার মতোই রাজ্যসভাতেও নাগরিকত্ব বিলের সুফল বাংলার মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিতে বিশেষ তৎপর ছিলেন অমিত।

শাহ বলেন, “মেরে বঙ্গালমে (আমার পশ্চিমবঙ্গে) অনেক শরণার্থী এসেছেন। কেউ ১৯৫৫, কেউ ছয়, সাত, আট বা নয়ের দশকে এসেছেন। সকলে নির্ভয়ে আবেদন করতে পারবেন নাগরিকত্বের জন্য। যাঁরা যে দিনে এসেছেন, তাঁদের সে দিন থেকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কোনও অবৈধ অ-মুসলিম শরণার্থীকে গ্রেফতার করা হবে না। অনুপ্রবেশ বা অবৈধভাবে বসবাসের মামলা চললেও নতুন আইনে তা খারিজ হয়ে যাবে।”

অমিত শাহ বাঙালি হিন্দুদের পাশে থাকার বার্তা দিতে মরিয়া হলেও তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েনের মতে, “এই বিজেপি সরকার বাঙালি হিন্দু বিরোধী।” আসামের ডিটেনশন শিবিরের সঙ্গে নাৎসি জার্মানির কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করে ডেরেক বলেন, “ওই শিবিরগুলিতে যারা রয়েছেন তাদের ৬০ শতাংশ হিন্দু বাঙালি।”

বক্তব্যের শেষে ডেরেক দলনেত্রীর সুরেই দাবি করেন, “এনআরসি বা নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী—কোনোটাই রাজ্যে প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না।” সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

এমএফ/

আরও পড়ুন...
মুসলিমদের কেন নাগরিকত্ব দেব: অমিত শাহ
বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ আসাম-ত্রিপুরা, নামানো হল সেনা
এনআরসির প্রতিবাদে মুসলিম হবেন প্রাক্তন আমলারা!

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও