মধ্যরাতে নাগরিকত্ব বিল ভারতের লোকসভায় পাস

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

মধ্যরাতে নাগরিকত্ব বিল ভারতের লোকসভায় পাস

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯

মধ্যরাতে নাগরিকত্ব বিল ভারতের লোকসভায় পাস

দীর্ঘ বিতর্কের পর ভারতের লোকসভায় পাস হলো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। সাত ঘণ্টা বিতর্কের পর সোমবার মধ্যরাতে বিলটি (সিএবি)। আজ সাত ঘণ্টা বিতর্কের শেষে বিলটি পাস হয়।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, ওই বিল পাস হওয়ার ফলে প্রতিবেশী তিন দেশের অমুসলিমরা দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। কিন্তু ওই আইনের সঙ্গে এ দেশের মুসলিমদের কোনও সম্পর্ক নেই। ওই আইন পাস হলে দেশের মুসলিম সমাজের কোনও সমস্যা হবে না।

আজ ওই বিল নিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করার সময়েই শাহ জানিয়ে দেন, খুব দ্রুত গোটা দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) আনা হবে।

দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, এদিন বিল নিয়ে আলোচনা যত গড়িয়েছে কেউ তার সঙ্গে তুলনা করছেন জার্মানির নাৎসি প্রধানের। কারও প্রশ্ন, বেছে বেছে কেন মুসলিমরাই বাদ? আপনি তো শুধু সংখ্যালঘুদেরই নিশানা করছেন? সংবিধান শিকেয় তুলে দিয়েছেন!

বিল পেশ হওয়া মাত্র বিরোধীরা যে এভাবে ছেঁকে ধরবেন, হয়তো ভাবেননি অমিত শাহ। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের প্রস্তাব সংসদে নিয়ে আসার সময়ও বিরোধীদের আক্রমণে এতটা অস্থির হননি, যেমন আজ হতে হল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য ৩১১-৮০ ভোটে বিলটি পাস করিয়ে নিতে সক্ষম হয় শাসক শিবির।

আজ গেরুয়া রঙের ‘মোদি কোট’ পরে লোকসভায় এসেছিলেন শাহ। কিন্তু সংসদে বিল পেশ হতেই সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের অধীররঞ্জন চৌধুরী, শশী তারুর, গৌরব গগৈ, তৃণমূলের সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এমআইএম’র আসাদুদ্দিন ওয়াইসি, মুসলিম লিগের পি কে কুনহালিকুট্টিরা ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ শুরু করেন। কম করে বারো বার উঠে দাঁড়িয়ে তার জবাব দিতে চান শাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এত বার উঠতে দেখে শেষ পর্যন্ত অধীর চৌধুরী বলেই ফেললেন, ‘দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও আপনি যদি আমাদের রক্ষা করতে না পারেন, তা হলে কে করবে?’

 বার বার উঠে শাহ এটাই বলতে চেষ্টা করছিলেন যে, ধর্মের বিভাজন করে এই বিল আনা হয়নি। এই বিল দেশের ০.০০১ শতাংশ সংখ্যালঘুরও বিরুদ্ধে নয়। বিরোধীরা বিলের কথা বিকৃত করছে। বিলে কোথাও মুসলিমদের নামটুকুও করা হয়নি। উল্টে তিন প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের কাহিনি সামনে তুলে আনেন তিনি।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসকে আক্রমণের ছলেই শাহ স্বীকার করে নেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাজন হয়েছে। সেই কারণে এখন ধর্মের ভিত্তিতে সেই বিভাজনের রাজনীতি করতে হচ্ছে তাদের। গোটা বিলের পিছনে মোহাম্মদ আলী জিন্নার দ্বিজাতিতত্ত্ব মেনে নিয়ে কংগ্রেসের দেশ ভাগে রাজি হওয়াকেই দায়ী করেছেন তিনি।

শাহ বলেন, ‘১৯৫০ সালের নেহেরু-লিয়াকত চুক্তি যদি সফল ভাবে বাস্তবায়িত হত, তা হলে ওই বিল আনার প্রয়োজন হত না।’

মাঝ রাতের কাছাকাছি নিজের বক্তব্যে মুসলিমদের আশ্বস্ত করে বার্তা দেন অমিত শাহ। জানান, ওই আইনের ফলে মুসলিমদের কোনও ভয় নেই।

বিরোধী সংসদ সদস্যদের বার্তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিলের বিতর্কে বিরোধীদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে ওই বিল এনে মুসলিমদের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়ে জানাচ্ছি, ওই বিল পাস হলে এ দেশের মুসলিমদের কোনও ভয় নেই। ভারতে বসবাসকারী মুসলিমদের সঙ্গে ওই বিলের কোনও সম্পর্ক নেই। এ দেশের মুসলিমদের সঙ্গে কোনও ভেদাভেদ হবে না।’

একই সঙ্গে উত্তর-পূর্বের রাজ্য ধরে ধরে জানান, সেখানকার বাসিন্দাদের দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ নেই।

আজ সাত ঘণ্টার বিল নিয়ে আলোচনার শেষে যখন ভোটাভুটি হয় তখন ঘড়ির কাঁটা মাঝরাত পেরিয়ে গিয়েছে।

বিরোধীরা যখন বলছেন, এক মধ্যরাতে স্বাধীনতা পেয়েছিল ভারত। আর এক মধ্যরাতে তা হারাল।

তখন অমিত শাহের দাবি, ‘আগামিকাল সোনালি সূর্য উঠবে।’

লোকসভায় সিএবি পাসের পরে সমস্ত বিরোধী দল ও শাহকে অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদি।

সরকারি সূত্রে খবর, আগামী বুধবার রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল পেশ করবে সরকার। 

এসবি

 

দক্ষিণ এশিয়া: আরও পড়ুন

আরও