১৬ বছরের পুরনো বিমানটি আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

১৬ বছরের পুরনো বিমানটি আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

print
১৬ বছরের পুরনো বিমানটি আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল

নেপালে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি ১৬ বছরের পুরনো। এর আগেও ২০১৫ সালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দুর্ঘটনায় পড়েছিল এটি। তবে সৈয়দপুরের ওই ঘটনা অস্বীকার করেছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

শুধু এই বিমানটিই নয়, এর মতো ১৬ বছরের পুরনো আরো চারটি উড়োজাহাজ রয়েছে ইউএস-বাংলার।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ৭৪ জন যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার একপর্যায়ে রানওয়েতে টার্নিং নেয়ার সময় সামনের চাকা পিছলে ছিটকে পাশের ঘাসের ওপর পড়ে। বিমানটি তখন ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছিল। পরে মেরামত করে পুনরায় চালু করা হয় ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি।

ওই দুর্ঘটনার প্রায় আড়াই বছর পর নেপালে বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটলো। 

তখন ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলেছিল, 'সৈয়দপুরের রানওয়ে ছোট হওয়াতে ঘাসের উপর চলে গেছে।' কর্তৃপক্ষ এমন একটি ব্রিফ দিয়ে দায় সেরেছিল তখন।

শুধু এসময়ই নয়, এর পরেও একাধিকবার নানা সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজগুলোর।

গত সপ্তাহে (৪ মার্চ) ঢাকা থেকে যশোরে ৭১ জন যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় প্রপিউলারে ইনব্যালেন্সিং সিগন্যাল (পাখায় সমস্যা দেখা দিয়েছিল) দেখা দিয়েছিল। যার কারণে মাঝপথ থেকে ফিরে এসেছিল বিমানটি।

অবশ্য ২০১৫ সালে সৈয়দপুরে দুর্ঘটনায় কবলে পড়া বিমানটি আর নেপালে বিধস্ত হওয়া বিমানটি একই কি না জানতে চাইলে তা অস্বীকার করেন ইউএস-বাংলার সিইও ইমরান আরিফ। তিনি বলেন, বিধস্ত হওয়া বিমান আর সৈয়দপুরের বিমান এক না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমাদের মোট চারটি ১৬ বছরের পুরনো উড়োজাহাজ আছে। তবে সবগুলো সার্ভিস ভালো দিচ্ছে। উড়োজাহাজের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেনি। দুর্ঘটনা ঘটেছে মূলত নেপাল এয়ারপোর্টের এটিসের রানওয়ে সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার কারণে।'

তবে তিনি অস্বীকার করলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- ২০১৫ সালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিই নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া বিমান ড্যাশ-৮ কিউ৪০০।

উল্লেখ্য, নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। বিধ্বস্ত বিমানে ৩৩ জন নেপালী, ৩২ বাংলাদেশী, একজন মালদ্বীপের এবং এক চীনা নাগরিক ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে দুজন শিশুও ছিল।

এস২-এডিইউ মডেলের ৭৮ আসনের টুইন টার্বো প্রোপ বিমানটি ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর পর অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর পাশের একটি ফুটবল মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রুসহ মোট ৭১ জন ছিলেন।

টিএটি/এএল

আরো পড়ুন...
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে আগুন
যান্ত্রিক ক্রুটিতেই ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৭
বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী নিহত: এএফপি
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্ত
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন রাগিব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী
বিমানের জানালা ভেঙে প্রাণে বাঁচলেন যে যাত্রী
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী রুয়েটের শিক্ষিকা, স্বামী হাসপাতালে
আকাশে উড়ে বাবার সঙ্গে না ফেরার দেশে প্রিয়ন্ময়ী
অবতরণের আগে ‘অদ্ভুত আচরণ’ শুরু করে ইউএস বাংলার বিমান
বিধ্বস্ত বিমানে ছিলেন বৈশাখী টিভির সাংবাদিক ফয়সাল
বিধ্বস্ত বিমানে সপরিবারে ছিলেন সুজন কর্মকর্তা বিপাশা
বিধ্বস্ত বিমানের প্রধান বৈমানিক আবিদ বেঁচে আছেন
বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন যারা
পাইলটের শেষ কথা ‘কোনো সমস্যা নেই’
জীবিত ১৯ যাত্রীর তালিকা দিয়েছে ইউএস-বাংলা

 
.




আলোচিত সংবাদ