ফ্লাইটের চাপই কি নেপালে বিমান দুর্ঘটনার কারণ?

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

ফ্লাইটের চাপই কি নেপালে বিমান দুর্ঘটনার কারণ?

কে বি আনিস ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

print
ফ্লাইটের চাপই কি নেপালে বিমান দুর্ঘটনার কারণ?

নেপালে যাতায়াতের জন্য কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে অসংখ্য মানুষ ব্যবহার করে থাকেন। দেশটির একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমান হওয়ায় প্রতিদিনই এর উপর চাপ লেগেই থাকে। বিমানবন্দরের হিসেবই বলছে, গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর চাপ সামলাতে হয়েছে।

এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ছিল কিছুটা কম। কিন্তু টিআইএ’র হিসেবে গত বছর এই চাপ হঠাৎই বেড়ে যায়। শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ১০.৭৪।

২০১৬ সালে যেখানে বিমানবন্দরটিতে যাত্রীর চাপ ছিল গড়ে ৮.৩৭ শতাংশ, সেখানে পরের বছরে তা দাঁড়ায় ১০.৭৪ শতাংশে। নেপালে ২০১৫ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরও এই বিমানবন্দরটিতে যাত্রীর পরিমাণ খুব একটা কমেনি।

অধিকাংশ পর্যটক নেপালে প্রবেশের জন্য বিমানকেই ব্যবহার করে থাকেন। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিমানের উঠা-নামার চাপ সামলাতে হয় এই ত্রিভুবন বিমানবন্দরকেই।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসেবে, শুধু ২০১৭ সালেই ৩৩ হাজার ৩৬২টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে হয় তাদের। যা গত বছরের তুলনায় ২৩ ভাগ বেশি। কিন্তু চাপ বাড়লেও সেই অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেখা যায়নি বিমানবন্দরটিতে।

ত্রিভুবনে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার পর এভাবেই বিমানবন্দরটির দুর্বল দিকের কথা তুলে ধরেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোষ্ট।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে দুর্ঘটনার আগে ইউএস বাংলার বিমানটি রানওয়ের উল্টো দিক থেকে অবতরণের চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে না এসে রহস্যময় কারণে বিমানটির গতিপথ ঘুরে যায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অবতরণের জন্য বিমানটি কি রানওয়ে ফাঁকা পেয়েছিল?

প্রতিবেদন বলছে, গত বছরও টিআইএ প্রতিদিন ৭৫টি ফ্লাইট উড্ডয়ন আর অবতরণ ঘটিয়েছে। এবছর সেই পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ ফ্লাইট সামলালেও বিমানবন্দরটির রানওয়ের পরিমাণ কিন্তু আগের মতোই রয়েছে। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, অবতরণের সময় কোন রহস্যময় কারণে উল্টোপথে যায় বিমানটি।

গত দু’দশকে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। কিন্তু প্রতি বছরই এখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকের চাপ বাড়ছেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১০ বছর আগে বিমানবন্দরটির উন্নয়নে প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। নানা কারণে এই উন্নয়ন কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হলে বিমানবন্দরটি সহজেই অতিরিক্ত ফ্লাইটের চাপ সামলাতে সক্ষম হতো। প্রতি বছর অন্তত ৬০ লাখ যাত্রীর চাপ নিতে পারতো টিআইএ। বর্তমানে যে কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে।

নেপাল ভ্রমণের পর অনেক যাত্রীই ত্রিভুবন বিমানবন্দরের ফ্লাইট উঠানামায় বিপদের গন্ধ পেয়েছেন। জানিয়েছেন দুর্ঘটনার আভাসের কথা। কিন্তু দেশটির একমাত্র বিমানবন্দরটি অতিরিক্ত ফ্লাইটের চাপ নিয়েই তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

তবে ঝুঁকির মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকলে নেপাল ভ্রমণে ইচ্ছুক পর্যটকদের মনে প্রভাব পড়বে বলেই মতামত দিয়ে আসছিলেন দেশটির এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছিলেন।

সোমবার দুপুরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার এস২-এডিইউ মডেলের ৭৮ আসনের টুইন টার্বো প্রোপ বিমানটি কি কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। পরীক্ষার পর জানা যাবে দুর্ঘটনার আসল কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা আগেই জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের উন্নয়ন না হলে ঝুঁকি বাড়বে বৈ কমবে না।

কেবিএ   

আরো পড়ুন...
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, বহু হতাহতের আশঙ্কা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটে আগুন
যান্ত্রিক ক্রুটিতেই ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনা
কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৭
বিধ্বস্ত বিমানের ৩৮ আরোহী নিহত: এএফপি
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্তের মুহূর্ত
আকাশে উড়ে বাবার সঙ্গে না ফেরার দেশে প্রিয়ন্ময়ী
বাবার খোঁজে ইউএস-বাংলা অফিসে শাওন

 
.




আলোচিত সংবাদ