বাংলা সঙ্গীতের ট্র্যাজিক রাজপুত্র হ্যাপী আখন্দ : আসিফ আকবর

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

বাংলা সঙ্গীতের ট্র্যাজিক রাজপুত্র হ্যাপী আখন্দ : আসিফ আকবর

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৭

print
বাংলা সঙ্গীতের ট্র্যাজিক রাজপুত্র হ্যাপী আখন্দ : আসিফ আকবর

হ্যাপী আখন্দকে চেনেন তো! জন্মেছিলেন ১৯৬৪ সালে আর না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ২৮ শে ডিসেম্বর ১৯৮৭। মাত্র ২৩ বছরের জীবনে সঙ্গীতাঙ্গনকে বেশ সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি।তার গাওয়া আবার এল যে সন্ধ্যা, কে বাঁশি বাজায় রে, খোলা আকাশের মতো তোমাকে হৃদয় দিয়েছি, ‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝরনা’, ‘এই পৃথিবীর বুকে আসে যায়’, স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে গান তো লিখেছি’।– এই গানগুলো এখনো সমান ভাবেই সমাদৃত।

এই শিল্পীর জন্মদিন ছিলো আজ।  ১৯৬৩ সালের  ১২ অক্টোবর জন্মেছিলেন সঙ্গীতের এই বরপুত্র। সেই সময় আর ডি বর্মণ,আববাসউদ্দীন,মান্না দে, সমর দাশের মতো সংগীতজ্ঞের প্রশংসা আর স্নেহ অর্জন করেছিলেন নিজ যোগ্যতায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় হ্যাপী আখন্দকে নিয়ে নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই সময়ের সঙ্গীতের বরপুত্র আসিফ আকবর।

আসিফ লিখেছেন,‘ বাংলা সঙ্গীতের ট্র্যাজিক রাজপুত্র মরহুম হ্যাপী আখন্দ। মাত্র দুটি গান তার নিজের-‘ কে বাঁশী বাজায়রে আর আবার এলো যে সন্ধ্যা’। ওনার অকাল প্রয়ানের সময় আমি শিশু। ' আবার এলো যে সন্ধ্যা' না গেয়ে বড় হয়নি কোন তরুন। আমি নিজে এই গান গেয়ে নিজেকে প্রস্তুত করেছি মানুষের সামনে গাওয়ার জন্য । ভয় পেয়ে ঢোক গেলার মত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ' আবার এলো যে সন্ধ্যা'র কোন বিকল্প নেই ।

হ্যাপী স্যার সম্বন্ধে আমি খুব বিশেষ কিছু জানিনা, কারন সান্নিধ্য পাইনি। তবে নব্বই দশকে ফিডব্যাক তারকা মাকসুদ ভাই ‘ হ্যাপি টাচ’ নামে একটি ব্যান্ড করেছিলেন। উনাদের একটি গান ছিলো ‘হ্যাপী যায়’, আর কারো কাছ থেকে ঐভাবে কিছু শুনিনি। মিডিয়ায়ও খুব বেশী তথ্য পাইনি । হ্যাপী স্যারের অনেক বন্ধু এখন সঙ্গীত আকাশের জীবন্ত কিংবদন্তী মিউজিসিয়ান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন । আশা করি উনাদের কাছে থেকে মিডিয়ার লোকজন হ্যাপী আখন্দ সম্বন্ধে জানবেন এবং জানাবেন। এতে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে এবং উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত আর বাংলা সঙ্গীতের ক্ষনজন্মা প্রতিভা হ্যাপী আখন্দ । আজ হ্যাপী স্যারের শুভ জন্মদিন। স্যালুট স্যালুট স্যালুট হ্যাপী আখন্দ, আপনি বেঁচে আছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে, আপনি বেঁচে আছেন ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’র ঝাউবনের হাওয়ায়। শুভ জন্মদিন শ্রদ্ধেয় হ্যাপী আখন্দ।’

উল্লেখ্য,হ্যাপী আখন্দ শুধু কণ্ঠ শিল্পীই ছিলেন না। তার সংগীত আয়োজনে ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া ‘এমন একটা মা দে না’, প্রয়াত ফিরোজ সাঁইয়ের গাওয়া ‘ইশকুলখুইলাছে রে মাওলা’ গানগুলো ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়ার ফলে বাবা ও বড় ভাই লাকী আখন্দের কাছ থেকে পেয়েছিলেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতজ্ঞান, আবেশী কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সঙ্গে গিটার, পিয়ানো, তবলা সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সহজাত দক্ষতায় বিস্মিত করেছিল সেই সময়ের শ্রোতা ও শিল্পীদের। হ্যাপী আখন্দ সম্পর্কে সঙ্গীতজ্ঞ লাকী আখন্দ বলে গেছেন, ‘হ্যাপির সংগীত-প্রতিভা ছিল আক্ষরিক অর্থেই বিস্ময়কর।’

এএ/

 
.




আলোচিত সংবাদ