ইসরা ও মি’রাজ : ফলাফল, করণীয় ও বর্জনীয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

ইসরা ও মি’রাজ : ফলাফল, করণীয় ও বর্জনীয়

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৮

print
ইসরা ও মি’রাজ : ফলাফল, করণীয় ও বর্জনীয়

ইসরা ও মি’রাজ পরিচিতি : ইসরা শব্দটির অর্থ রাতের সফর। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাতের একাংশে মক্কার হারাম থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস এর এলাকায় যে সফর করানো হয়েছে সেটাকে ইসরা বলা হয়।

আর মি’রাজ হচ্ছে, উপরে আরোহন। আল্লাহ তাঁর হাবীব মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভূমি থেকে আকাশে আরোহণ করিয়ে প্রথম আকাশ থেকে শুরু করে সপ্তাকাশ ভেদ করে সিদরাতুল মুন্তাহা পেরিয়ে তাঁর নিজের কাছে ডেকে নিয়েছিলেন। সেটাকেই মি’রাজ বলা হয়।

ইসরা ও মি’রাজের দলীল

ইসরার দলীল পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইসরা বা বনী ইসরাঈল এর ১ম আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে,

﴿سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِيٓ أَسۡرَىٰ بِعَبۡدِهِۦ لَيۡلٗا مِّنَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ إِلَى ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡأَقۡصَا ٱلَّذِي بَٰرَكۡنَا حَوۡلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنۡ ءَايَٰتِنَآۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ ١﴾ [سورة بني إسرائيل: 1]

“পবিত্র ও মহান সে সত্ত্বা যিনি তাঁর বান্দাকে সফর করিয়েছেন রাতের একাংশে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসার দিকে, যার চতুস্পার্শকে তিনি করেছেন বরকতময়। যাতে তিনি তাকে দেখাতে পারেন তাঁর নিদর্শনসমূহ। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা। [আল-ইসরা:১]

আর মি’রাজের দলীল হচ্ছে অন্য আয়াত, যেখানে বলা হয়েছে-

﴿وَلَقَدۡ رَءَاهُ نَزۡلَةً أُخۡرَىٰ ١٣ عِندَ سِدۡرَةِ ٱلۡمُنتَهَىٰ ١٤ عِندَهَا جَنَّةُ ٱلۡمَأۡوَىٰٓ ١٥ إِذۡ يَغۡشَى ٱلسِّدۡرَةَ مَا يَغۡشَىٰ ١٦ مَا زَاغَ ٱلۡبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ ١٧ لَقَدۡ رَأَىٰ مِنۡ ءَايَٰتِ رَبِّهِ ٱلۡكُبۡرَىٰٓ ١٨﴾ [سورة النجم: 13-18]

অর্থঃ “নিশ্চয় সে তাকে আরেকবার দেখেছিল, সিদরাতুল মুন্তাহার নিকটে, যার কাছে অবস্থিত বসবাসের জান্নাত। যখন বৃক্ষটি যদ্বারা আচ্ছন্ন হওয়ার, তদ্দ্বারা আচ্ছন্ন ছিল। তাঁর দৃষ্টিবিভ্রম হয় নি এবং সীমালংঘনও করেনি। নিশ্চয় সে তার পালনকর্তার মহান নিদর্শনাবলী অবলোকন করেছে।” (সূরা নাজম : ১৩-১৮)

এছাড়া হাদীসেও এসেছে। বুখারীতে সাতটি বর্ণনা এবং মুসলিমে ছয়টি বর্ণনা ছাড়াও বহু হাদীসগ্রন্থে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখিত আছে।

ইসরা ও মি’রাজের পটভূমি

নবুওয়তের দশম বৎসরে একের পর এক বিপদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘিরে ধরে। রাসূলের চাচা আবু তালেব মারা যান; যিনি কাফের হওয়া সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সার্বক্ষণিক নিজের তত্ত্বাবধানে রাখতেন। তার জীবদ্দশায় কেউ তার কোনো ক্ষতি করতে চাইলেও সক্ষম হত না। কিন্তু তার মৃত্যুর পর কাফেররা অত্যন্ত বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এর কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ সা. এর সহধর্মিণী উম্মুল মুমিনীন খাদীজাহ রা. মারা যান। যিনি কেবল রাসূলুল্লাহ সা. এর স্ত্রীই ছিলেন না; বরং তার দাওয়াতের প্রধান সহযোগীও ছিলেন। তার সমস্ত সম্পত্তি রাসূলের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। সর্বপ্রথম ঈমান এনেছিলেন। এ পথে যত কষ্ট হয়েছে সবই সহ্য করেছেন।

তাদের মৃত্যুর পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসহায় বোধ করলেন। তিনি বিভিন্ন গোত্রপতিদের কাছে নিজেকে পেশ করে বললেন, “কে আমাকে আশ্রয় দিবে যাতে আমি আমার রবের কথা প্রচার করতে পারি?” কিন্তু কেউ তার ডাকে সাড়া দিল না।

এমতাবস্থায় তিনি তায়েফ গেলেন। সেখানে তায়েফের সর্দারদের কাছে তিনি একই কথা ব্যক্ত করলেন। তাদের কেউ তার কথায় কর্ণপাতই করল না। উপরন্তু তারা দুষ্ট লোক ও শিশুদের তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিল। এমতাবস্থায় যা ঘটার তা-ই ঘটল। তারা তাকে পাথর মেরে রক্তাক্ত করে দিল।

তিনি মক্কায় ফিরে আসলেন। মহান আল্লাহ্ তাকে সম্মানিত করতে চাইলেন। তিনি তাকে ইসরা ও মি’রাজের মতো বিরল সম্মানে সম্মানিত করলেন।

ইসরা ও মি’রাজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

বুখারি ও অন্যান্য হাদিস গ্রন্থের ভাষ্য অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সা. কাবা শরীফের হিজ্‌র বা হাতীমে শায়িত ছিলেন। তার সাথে আরও দু’জন শুয়ে ছিলেন। কোনো কোনো বর্ণনায় তাদের নাম এসেছে, হামযাহ ও জা’ফর। এমতাবস্থায় তিন ফেরেশতা এসে বললেন, এদের মধ্যে কোনজন সে লোক? একজন বলল, মাঝখানে যিনি শুয়ে আছেন তিনি। তারপর তারা চলে গেলেন।

পরবর্তী দিন রাসূলুল্লাহ সা. রাতের সালাত আদায় করে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এমতাবস্থায় ঘরের ছাদ ভেদ করে ফেরেশতাগণ অবতরণ করলেন। জিবরাঈল আ. রাসূলুল্লাহ্ সা. কে যমযমের কাছে নিয়ে গেলেন। তারপর তার “সাক্কুস সাদর” বা বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। তারপর তাকে যমযমের পানিতে ধুয়ে আবার যথাস্থানে লাগিয়ে দিয়ে বক্ষ মিলিয়ে দিলেন।

এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে আকাশের দিকে যাত্রা করা হয়। সেখানে প্রথম আকাশে আদম, দ্বিতীয় আকাশে ঈসা ও ইয়াহইয়া, তৃতীয় আকাশে ইউসুফ, চতুর্থ আকাশে ইদরীস, পঞ্চম আকাশে হারূন, ষষ্ট আকাশে মূসা এবং সপ্তম আকাশে ইবরাহীম আলাইহিমুস সালাম এর সাথে সাক্ষাত করেন। সেখানে তিনি বাইতুল মা’মুর দেখতে পেলেন। সেখানে তাকে দুধ, মধু ও মদ এ তিনপ্রকার পানীয় দেয়া হয়। তিনি দুধ পছন্দ করে নেন। তখন জিবরীল বললেন যে, আপনি স্বাভাবিক বিষয় গ্রহণ করতে সমর্থ হলেন। তারপর তিনি সিদরাতুল মুন্তাহার দিকে অগ্রসর হলেন। পথে হাউসে কাওসার অতিক্রম করে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন। এখানে এসে তিনি আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টি এমন সব বিস্ময়কর অপূর্ব সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেন, যা আজ পর্যন্ত কখনও কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান কখনও শোনেনি এবং কখনও কোনো মানুষের ধারণা ও কল্পনাও সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি।

এরপর রাসুল সা. এর সামনে জাহান্নাম এনে রাখা হলো, সব ধরনের আজাব এবং ভয়াবহ ও কঠিন আগুনে তা ভরপুর ছিল, যে আগুনে লোহা বা পাথরের মতো শক্ত এবং কঠিন কোনো বস্তুরও অস্তিত্ব বলতে কিছু থাকে না। বিভিন্ন গুনাহের যে সকল কঠিন শাস্তি, আল্লাহর রাসুলকে দেখানো হল। এরপর রাসুলুল্লাহ সা. আরও সামনে এগিয়ে যান; কিন্তু জিবরাইল আ. সামনে যাওয়ার অনুমতি না থাকায় দাঁড়িয়ে পড়েন। এই স্থানটিকে বলা হয় সিদরাতুল মুনতাহা। রাসুলুল্লাহ সা. সামনে অগ্রসর হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে গিয়ে উপনীত হন এবং আল্লাহর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সৌভাগ্য অর্জন করেন। নবী করীম সা. এতই নিকটবর্তী হন যে, আল্লাহ তা’আলা এবং তাঁর মধ্যে ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল।

আল্লাহ বলেন, “অতঃপর নিকটবর্তী হলো ও ঝুলে গেল। তখন দুই ধনুকের ব্যবধান ছিল অথবা আরও কম।” (সূরা নাজম : ৮-৯)।  এরপর আল্লাহ্ তার ও তার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করে দিলেন। এরপর মুসা আলাইহিস সালাম এর কাছে আসার পর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সালাতের ব্যাপারে আল্লাহ্‌র কাছে কমানোর আবেদন করার পরামর্শ দিলেন। প্রথমে অর্ধেক, তারপর পাঁচ ওয়াক্ত পর্যন্ত কমানো হয়।

অপর বর্ণনায়, প্রতিবারে পাঁচ, বর্ণনান্তরে দশ করে কমানোর পর সবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে এসে তা শেষ হয়। এরপর তিনি দুনিয়াতে ফেরত আসেন।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, সফরের শুরুতে বোরাক নিয়ে আসা হয়। ‘বোরাক’ বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে সফর করে। সেখানে তিনি নবীদের ইমামতি করেন। তারপর তাকে সেখানে তাকে দুধ, মধু ও মদ এ তিনপ্রকার পানীয় দেয়া হয়। তিনি দুধ পছন্দ করে নেন। তখন জিবরীল আ. বললেন, আপনি স্বাভাবিক বিষয় গ্রহণ করতে সমর্থ হলেন। তারপর তার জন্য মি’রাজ বা সিড়ি নামিয়ে দেয়া হলে তিনি তাতে করে আকাশে গমন করলেন।

ইসরা ও মি’রাজের ফলাফল

আল্লাহ তা’আলা বলেন,

سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلاً مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ البَصِيرُ

 “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রি বেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যান্ত-যার চার দিকে আমি পর্যাপ্ত বরকত দান করেছি যাতে আমি তাঁকে কুদরতের কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দেই। নিশ্চয়ই তিনি পরম শ্রবণকারী ও দর্শনশীল।” (সূরা বনী ইসরাইল : ১)

১. ইসরা ও মি’রাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বান্দা বলেছেন। এ থেকে ভ্রান্ত বিশ্বাসধারীদের এ বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয় যে, তারা বলে থাকে রাসুল সা. আল্লাহর সত্ত্বাগত নুরের এক বিশেষ সৃষ্টি। 

২. ইসরা ও মি’রাজের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, নবীগণ সবাই বৈমাত্রেয় ভাই। তাদের মিশন একটিই সেটি হলো, একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদত প্রতিষ্ঠা করা।

৩. রাতের একটি অংশে ইসরা ও মি’রাজ সংঘটিত হওয়ার মধ্যে এটাই উদ্দেশ্য যে, মহান আল্লাহর কাছে রাতের কাজই বেশী পছন্দ। কারণ তখন প্রকৃতি শান্ত থাকে। কাজে মন বসে। ইবাদতে একনিষ্ঠতা ও একাগ্রতা অর্জিত হয়।

৪. সূরা বনী ইসরাইলের প্রথমে سُبۡحَٰنَ ٱلَّذِيٓ أَسۡرَىٰ বলার পরে নবম আয়াতে কুরআনের মাধ্যমে কারা হিদায়াত প্রাপ্ত হবে তাদের কথা আলোচনা করা হয়েছে। এ দুয়ের মাঝখানে ইয়াহূদীদের উপর আপতিত শাস্তি ও তাদের জাতীয় চরিত্রের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, ইয়াহূদী ও নাসারাদের দ্বীনের দাবী শেষ হয়ে গেছে এখন কুরআনের দিন এসেছে।

৫. ইসরা ও মি’রাজে নবীদের ইমামতির মাধ্যমে এ বিষয় প্রমাণিত হলো যে, সমস্ত নবীর নবুওয়তের মাধ্যমে প্রাপ্ত শরী’আত শেষ হয়েছে। এখন মুহাম্মাদ সা. এর নবুওয়ত ও তারই শরীয়ত চলবে। আর তার শরীয়তই সর্বশেষ শরী’আত। তিনিই সর্বশেষ নবী ও সর্বশেষ রাসুল।

৬. দুই কেবলার ইমামতি ও নেতৃত্ব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার উম্মতদের জন্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। এ দু’টির মালিকানা তাদেরই।

৭. এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, দুনিয়ার মানুষ আপনাকে সম্মান করতে কমতি করলেও আকাশে যারা আছে তারা আপনাকে সবচেয়ে বেশী সম্মানিত করে গ্রহণ করে নিচ্ছে। দুনিয়াতে মানুষের কর্মকাণ্ডে আপনি দুঃখিত হলেও আকাশে আপনাকে সাদর সম্ভাষণ জানানোর জন্য অনেকেই রয়েছেন। সর্বোপরি মহান আল্লাহ্ আপনাকে ছেড়ে যাবেন না।

৮. সালাত এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ রুকন যার ফরয হওয়ার ঘোষণা কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি আল্লাহ্ ঘোষণা করেছেন। আর যা দুনিয়াতে ফরয না করে আকাশে প্রিয় নবীকে ডেকে এনে জানিয়ে দিয়েছেন। এটা যেন উম্মতের জন্য এক বিশেষ উপহার- যা মাটিতে দেয়া যেত না, আকাশেই দিতে হবে।

৯. এর ফলে হিজরতের পথ প্রসারিত হলো, এর মাধ্যমে জানানো হলো যে, মূসা আলাইহিস সালামের উম্মতের চেয়েও তার উম্মত বেশী হবে। ফলে এর মাধ্যমে দাওয়াতের নতুন ক্ষেত্র আবিস্কৃত হবে এটাই বোঝা গেল।

১০. কারও রক্তচক্ষুর ভয় না করে হকের কথা বলতে সদা সচেষ্ট থাকা। যেমন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মে’রাজের কথা সবাইকে জানিয়েছিলেন। সুতরাং বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করাও এর লক্ষ্য ছিল।

১১. কারা ঈমানদার ও কারা বেঈমান বা দুর্বল ইমানের অধিকারী সেটা পরিস্কার হয়ে যাওয়া। মহান আল্লাহ বলেন,

 ﴿وَمَا جَعَلۡنَا ٱلرُّءۡيَا ٱلَّتِيٓ أَرَيۡنَٰكَ إِلَّا فِتۡنَةٗ لِّلنَّاسِ﴾ [سورة بني إسرائيل: 60]

অর্থাৎ “আর আমরা আপনাকে যে দৃশ্য দেখিয়েছিলাম, তা তো কেবল মানুষকে পরীক্ষা করার জন্যই”। [সূরা বনী ইসরাইল : ৬০]

কারণ, রাসূলুল্লাহ্ সা. নতুন মিশনে যাচ্ছেন। সেখানে পরিপক্ক ইমানদারদের প্রয়োজন হবে।

১২. আবু বকর রা. এর ঈমানের দৃঢ়তা এখানে প্রকাশ পেল। তিনি নির্দ্বিধায় সেটার উপর ঈমান এনেছিলেন।

১৩. বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি কেমন হতে পারে সেটার এক নির্দেশনা পেলে মানুষের পক্ষে দ্বীন ও ঈমানের উপর মজবুতি আসবে।

১৪. দুধ পান করা ও মদ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে ইসলাম যে স্বাভাবিক দ্বীন সেটা প্রমাণিত হলো।

১৫. মাসজিদুল আকসা সমস্ত মুসলিমের সম্পদ। যেখানে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাত আদায় করেছেন, ইমামতি করেছেন এবং যেখান থেকে ঊর্ধ্বাকাশে গমন করেছেন। সেখানে গেলে সওয়াব হওয়া কথা ঘোষণা করেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাইতুল মুকাদ্দাসের মুক্তির সাথে মুসলিম উম্মাহর সম্মান ও প্রতিপত্তি নিহিত রয়েছে।

আমাদের করণীয়

১. ঈমান বিল গায়েব। আবু বকরের মত ঈমানদার হওয়া। ইসরা ও মি’রাজের প্রমাণিত কোনো কিছুকে অস্বীকার না করা। করলে কুফরী হবে।

২. সালাতের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া। কারণ, এ সালাত আকাশে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ডেকে সম্মানের সাথে প্রদান করা হয়েছে। দুনিয়ার কোনো স্থানে বা অন্য কোনো মাধ্যমে সেটা ফরয করা হয়নি।

৩. মি’রাজের রাত্রিতে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার শেষ দু’টি আয়াতও রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রদান করা হয়েছে। সে দু’টি আয়াত পাঠ করা এবং বাস্তব জীবনে সেগুলোর প্রচার ও প্রসার করা প্রয়োজন।

৪. বাইতুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য সচেষ্ট থাকা।

যা করা থেকে বিরত থাকব

১. যেহেতু এ রাত্রি নির্ধারনের ব্যাপারে সহীহ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি, সেহেতু তা নির্ধারণ থেকে বিরত থাকা।

২. শুধুমাত্র এ রাত্রিকে নির্ধারণ করে বা কেন্দ্র করে কোনো প্রকার ইবাদত না করা।

৩. শুধুমাত্র এ রাত্র বা দিনকে কেন্দ্র করে কোনো রোযা না রাখা।

এমএফ/

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad