প্রিয় নবীজির (সা.) পুণ্যবতী সহধর্মিণীদের গল্প (দ্বিতীয় পর্ব)

ঢাকা, সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ | ১১ আষাঢ় ১৪২৫

প্রিয় নবীজির (সা.) পুণ্যবতী সহধর্মিণীদের গল্প (দ্বিতীয় পর্ব)

-পরিবর্তন ডেস্ক ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

print
প্রিয় নবীজির (সা.) পুণ্যবতী সহধর্মিণীদের গল্প (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রথম পর্বে আমরা হযরত উম্মে সালামাহ বিনতে আবু উমাইয়া রা. পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সা. এর পূণ্যবতী স্ত্রীদের সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু জেনেছিলাম। ইনশাআল্লাহ, এ পর্বে আমরা হযরত জুয়াইরা বিনতে হারিস রা. থেকে বাকিদের সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু জানবো।

৭. হযরত জুয়াইরা বিনতে হারিস রা. (৬০৮- ৬৭৩ ঈসায়ী)

হযরত জুয়াইরা রা. ছিলেন বনী মুসতালিক গোত্রের সর্দার হারিস বিন যিরারের কন্যা। মুসলমানদের সাথে বনী মুসতালিক গোত্রের দ্বন্দ্বে তারা মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয় এবং বনী মুসতালিকের অনেকে বন্দী হয়। তার মধ্যে হযরত জুয়াইরা রা. ছিলেন অন্যতম। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বন্দীত্ব থেকে মুক্তি দান করেন এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করে রাসূলুল্লাহ সা. এরসাথে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই বিবাহের মধ্যে দিয়ে বনী মুসতালিক গোত্রের সাথে মুসলমানদের শত্রুতার পরিসমাপ্তি ঘটে এবং মুসলমানরা বনী মুসতালিক গোত্রের সকল বন্দীকে মুক্তি দান করে।

৮. হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ রা. (৫৯০-৬৪১ ঈসায়ী)

হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ রা. ছিলেন রাসূলুল্লাহ সা. এর ফুফাতো বোন। রাসূলুল্লাহ সা. তার বিয়ে দিয়েছিলেন পালিত পুত্র ও আজাদ করা কৃতদাস হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা রা. এর সাথে। কুরাইশ অভিজাত পরিবারের সন্তান হিসেবে হযরত যয়নব রা. শুরুতেই তার এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সা. এর সম্মানে তিনি এই বিয়েতে সম্মতি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে মনের মিল না হওয়াতে শেষ পর্যন্ত বিয়েটি ভেঙে যায়।

হযরত যায়েদ ইবনে হারেসা রা. এর সাথে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সা. হযরত যয়নব রা. কে বিয়ে করেন। এর ফলে রাসূলুল্লাহ সা. এর বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে বিবাহের অপপ্রচার করা হয়। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সা. হযরত যায়েদ রা. পুত্রের মত লালনপালন করে বড় করেছিলেন, ফলে যয়নব রা. কে রাসূলুল্লাহ সা. এর পুত্রবধূ হিসেবে চিন্তা করা হয়েছিলো। এর প্রেক্ষিতে এর প্রতিবাদে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়। কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়, পালকপুত্র আপনপুত্রের মত নয় যার ফলে একজনের মৃত্যুতে অপরজন তার উত্তরাধিকারী হবে।

এরমধ্যে দিয়ে অনেকদিনের প্রচলিত একটি কুসংস্কারের মূলে আঘাত করা হয় এবং মানুষের মন থেকে পালিত পুত্র সংক্রান্ত ভ্রান্ত ধারণা দূর করা হয়। হযরত যয়নব বিনতে জাহাশ রাসূলুল্লাহ সা. এর ইন্তেকালের নয় বছর পরে ইন্তেকাল করেন। তার মহানুভবতা এবং দানশীলতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।

৯. হযরত উম্মে হাবিবা বিনতে আবু সুফিয়ান রা. (৫৮৯-৬৬৬ ঈসায়ী)

ইসলামের প্রবল শত্রু আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবিবা রা. ছিলেন প্রথমদিকেই ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে অন্যতম। তার মূল নাম ছিলো রামলা। পিতা আবু সুফিয়ানের বিরোধিতা সত্ত্বেও তিনি তার স্বামী সহ ইসলামগ্রহণ করে আবিসিনিয়ায় হিযরত করেছিলেন। সেখানে তার স্বামীর মৃত্যু হলে তিনি একটি শিশুকন্যা সহ অসহায় হয়ে পরেন।

তার অবস্থা জেনে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দান করেন। তিনি তা গ্রহণ করলে আবিসিনিয়ার নাজ্জাশী রাসূলুল্লাহ সা. এর পক্ষ থেকে তাকে বিয়ের মোহর প্রদান করেন এবং রাসূলুল্লাহ সা. সাথে তার বিয়ের আয়োজন করেন। পরবর্তীতে নাজ্জাশিই তাকে মদীনায় প্রেরণের ব্যবস্থা করেন।

১০. হযরত সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই রা. (৬১০-৬৭০ ঈসায়ী)

হযরত সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই রা. ছিলেন মদীনার ইহুদি গোত্র বনী নাযিরের সর্দার হু্য়াই ইবনে আখতাবের কন্যা। বনী নাযিরের ক্রমাগত দুরাচারে ও বিশ্বাসঘাতকতায় তাদেরকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করা হলে তারা খাইবারে আশ্রয় গ্রহণ করে। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে খাইবারের অভিযানে মুসলমানরা বিজয়ী হলে অনেক ইহুদি বন্দী হয়। এরমধ্যে অন্যতম ছিলেন হযরত সাফিয়্যাহ রা.। পরবর্তীতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে মুক্তিদান করেন এবং তার সাথে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন।

রাসূলুল্লাহ সা. এর কোন স্ত্রী তার ইহুদি জন্মধারা নিয়ে ঠাট্টা করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এই নিয়ে অভিযোগ করেন। রাসূলুল্লাহ সা. তাকে শিখিয়ে দেন, ‘তারা যদি তোমার সাথে আবার ঠাট্টা করে, তবে তাদের বলো- ‘আমার স্বামী নবী মুহাম্মদ সা., আমার পিতা নবী মুসা আ. এবং আমার চাচা নবী হারুন আ.। সুতরাং, আমাকে অবজ্ঞার কি কারণ থাকতে পারে?’

রাসূলুল্লাহ সা. এর ইন্তেকালের ৩৯ বছর পর তিনি মদীনাতেই ইন্তেকাল করেন।

১১. হযরত মাইমুনাহ বিনতে হারিস রা. (৫৯৪-৬৭৪ ঈসায়ী)

হযরত মাইমুনাহ বিনতে হারিস রা. ছিলেন রাসূলুল্লাহ সা. এর সর্বশেষ স্ত্রী। তার পূর্বনাম ছিলো বারা। রাসূলুল্লাহ সা. তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন মায়মুনাহ। মক্কা বিজয়ের পর তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সা. তাকে বিবাহ করেন। রাসূলুল্লাহ সা. এর সাথে তিনি মাত্র তিন বছর সংসার করেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নারী। তার ভাগ্নে ও বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ছিলেন তার ছাত্র।

-এফএস

 
.




আলোচিত সংবাদ