‘সর্বোচ্চ করদাতারা ট্যাক্স চ্যাম্পিয়ন’

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪

‘সর্বোচ্চ করদাতারা ট্যাক্স চ্যাম্পিয়ন’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৭

print
‘সর্বোচ্চ করদাতারা ট্যাক্স চ্যাম্পিয়ন’

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেছেন, ‘‘সর্বোচ্চ করদাতারা ট্যাক্স চ্যাম্পিয়ন। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সারাদেশে করদাতারা কর দিয়ে বাহাদুরি দেখাচ্ছেন। আমরা কর বাহাদুরদের স্বীকৃতি দিচ্ছি, মানুষ এগিয়ে আসছেন।’’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ২য় ১২তলা সরকারি ভবনে এলটিইউ’র সম্মেলন কক্ষে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এসময় এলটিইউ’র আওতাধীন ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতে ২০১৬-১৭ করবর্ষে ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

নজিবুর রহমান বলেন, এ বছর ৮৪ পরিবারকে কর বাহাদুর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহ রাজস্ব আহরণে ভূমিকা রেখে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর রাজস্ব আহরণে পার্টনারশিপ হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাত থেকে এনবিআর যে রাজস্ব পাচ্ছে তা জনকল্যাণে ব্যবহার হচ্ছে। উন্নয়নের অক্সিজেন রাজস্ব। করের টাকায় দেশের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন করবো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির বলেন, ব্যাংকিং এবং নন-ব্যাংকিং খাতের ট্যাক্স কার্ডপ্রাপ্ত এমন প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রদানের জন্য বিরল এ সম্মাননা প্রদান করায় আমি খুবই আনন্দিত। ব্যাংকিং, নন-ব্যাংকিং খাতের জন্য এটি একটি বড় অর্জন। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এনবিআর-বাংলাদেশ ব্যাংক পার্টনারশিপ হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং খাত আয়কর খাতে ৪৯  শতাংশ, এবং নন-ব্যাংকিং খাত ২৫ শতাংশ অবদান রাখছে জেনে খুবই ভালো লাগছে। দেশের অর্থনীতির সাথে সাথে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী বছর প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হবে। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবো। আগামী অর্থবছর বাজেটের আকার হবে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, আমাদের অর্থনীতির আকার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়ন আর মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে আমাদের রাজস্ব প্রয়োজন। দেশে ৫৭টি ব্যাংক, ৩২টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ ইন্স্যুরেন্স খাতকে রাজস্ব আহরণে আরো বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। চলতি বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৪ অর্জন করতে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে। কর আহরণে এনবিআরের সক্ষমতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এলটিইউ এর এমন বিরল সম্মাননার ফলে এলটিইউ-বড় করদাতাদের মধ্যে দূরত্ব কমবে, রাজস্ব আয় বাড়বে।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হামিদ মিঞা বলেন, ইসলামী ব্যাংক চেষ্টা করছে ব্যাংকিং খাতে আরো ভালো করার। ব্যাংক ভালো করলে স্বাভাবিকভাবেই রাজস্ব বাড়বে। ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা বেশি। সেজন্য প্রতিবছর বেশি পরিমাণ রাজস্ব প্রদান করছে। রাজস্ব আহরণ এবং প্রদানের ক্ষেত্রে এ ব্যাংক সব সময় এনবিআরকে সহযোগিতা করেছে, আগামীতেও করবে।

সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন এবং অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সভাপতির বক্তব্যে কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশে করদাতা এবং এলটিইউ এর মধ্যে আস্থার সর্ম্পক এবং রাজস্ববান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে এলটিইউ প্রথমবারের মতো করদাতাদের এমন সম্মাননা প্রদান করছে। এলটিইউ কর সংস্কৃতির উন্নয়ন এবং করদাতাদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।

এফএ/এসবি

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad