রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮ | ১৩ বৈশাখ ১৪২৫

রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:২৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

print
রাজস্ব আদায়ে বিশাল ঘাটতি

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব মন্দায় পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা কম আদায় করেছে সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজনীয় অর্থের প্রধান জোগানদাতা এ সংস্থাটি।

বছর শেষে রাজস্বের এ ঘাটতি ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবেলায় বছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা  সংশোধিত করে  ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন এনবিআর  চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) রাজস্ব হালখাতা ও বৈশাখী উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এলটিইউ কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৫ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাকি ৩ মাসে বিশাল অর্থ সংগ্রহ করতে হবে এনবিআরকে।

এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বছরের শুরুতে ৪০ শতাংশ বেশি ধরা হয়েছিল। এটি অর্জন করা সম্ভব হবে না। এজন্য চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূর্বের চেয়ে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকা কমবে।

তিনি বলেন, রাজস্ব হালখাতায় ৪০৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার বকেয়া আয়কর আদায় হয়েছে। ভ্যাটের হিসাবটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে এটি প্রায় ৩০০ কোটি টাকা হতে পারে। আর কাস্টমসে তা ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা হবে। বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আয়কর শাখা হালখাতায় ৬৫ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায় করেছে।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ভ্যাট আদায় এখনও প্রত্যাশার তুলনায় কম আছে। করের আওতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। উৎসে করের মনিটরিং আরও বেশি করে করবো।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেন, এনবিআরে আইটির যতো প্রয়োগ হবে, রাজস্ব সংগ্রহ ততো বাড়বে। দেশে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে। এনবিআরের নীতি আরও সহজ করা দরকার। করবান্ধব করা দরকার। শেয়ারবাজারকে আরও চাঙ্গা করা দরকার। 
তিনি বলেন, মাত্র ৩৫ লাখ লোক আয়কর নিবন্ধিত। ১৬ কোটি মানুষের দেশে এটা অন্তত ১ কোটি হওয়া উচিৎ। মাত্র ১৫ লাখ লোক আয়কর দেয়, এটা বাড়ানো দরকার।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে প্রায় ৩০ লাখ বাস-ট্রাক রয়েছে। করের আওতা বাড়াতে বাস-ট্রাকের মালিক-ড্রাইভারকে করের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামের দোকানগুলোকেও করের আওতায় আনতে হবে।

এফএ/এএল

 
.




আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad