অর্থপাচারের অভিযোগে ৩২ মামলা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

অর্থপাচারের অভিযোগে ৩২ মামলা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৮

print
অর্থপাচারের অভিযোগে ৩২ মামলা

দেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ ৩২টি মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। এরমধ্যে একটি মামলার (আরাফাত রহমান কোকো) রায় হয়েছে। মামলাটির অর্থও দেশে আনা হয়েছে।

রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান এ তথ্য জানান।

এনবিআর’র সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এনবিআর’র পক্ষে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং  বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ’র প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান নেতৃত্ব দেন।

এনবিআর’র সদস্য এম আশফাক হুসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে নির্বাহী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জোদ্দার সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্যবর্গ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, বিএফআইইউ’র কর্মকর্তাবৃন্দ, এনবিআর’র কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি), শুল্ক নিরীক্ষা ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর, মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালকবৃন্দসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের অতিব গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্বাক্ষরকে মানিলন্ডারিং রোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে মাইলফলক। গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রেটি (জিএফআই) এর প্রতিবেদনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই যে, ২০০৫-২০১৪ মেয়াদে বাংলাদেশ হতে ৬১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের জিডিপি’র প্রায় ২৫ শতাংশ। মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাসী কাজ এবং সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়নের ফলে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে পরিচালিত বর্তমান সরকার দেশে মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে এবং বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন অপরাধ প্রতিরোধ ও এ বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা দেশে বিদ্যমান ‘মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’ ও ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯’ অনুসারে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার নিজ নিজ দায়িত্ব। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার একযোগে কাজ করা এবং পারষ্পরিক তথ্য বিনিময়ের বিষয়টি অতি জরুরী। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিএফআইইউ এবং এনবিআর এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হচ্ছে এ সমঝোতা স্মারক।

সমঝোতা স্মারকের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন অপরাধ দমনে পারষ্পরিক তথ্য-বিনিময় এবং আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা; মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নরোধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহযোগিতা প্রদান এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করা। সমঝোতা স্মারকের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এক পক্ষ অপর পক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচী আয়োজন করবে; কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ মতামত গ্রহণ বা প্রদান করবে; এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা বিনিময় করবে।

সমঝোতা স্মারকের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় কার্যকর যোগাযোগ রক্ষার জন্য উভয় পক্ষে একজন করে ফোকাল পয়েন্ট এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রাথমিক যোগাযোগ কর্মকর্তা থাকবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এর মহাপরিচালক এবং বিএফআইইউ এর পক্ষে এর মহাব্যবস্থাপক ও অপারেশনাল প্রধান ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এফএ/এসবি

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad