‘মেজাং’, নগরে পাহাড়ের স্বাদ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪

‘মেজাং’, নগরে পাহাড়ের স্বাদ

আতিক রহমান পূর্ণিয়া ৯:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৮, ২০১৭

print
‘মেজাং’, নগরে পাহাড়ের স্বাদ

টিপটপ ছোটখাট একটা রেস্টুরেন্ট। কিন্তু স্পষ্টত এক আাভিজাত্যের ছাপ। সে আভিজাত্য যে দামি আসবাব বা ইন্টেরিয়ের ডিজাইনে তা কিন্তু নয়। সাদামাটার মধ্যেই এক অনাবিল সৌন্দর্য আর আভিজাত্যের মিশেল রাজধানীর ব্যস্ততম কাজীপাড়ার মেজাং রেস্টুরেন্টে।

হালকা আওয়াজে বাজছে পাহাড়ি সুর। এর মধ্যে এক-দু’জন করে ক্রেতা আসছেন। পছন্দমতো খাবারের অর্ডার দিচ্ছেন তারা। চুপচাপ নিরিবিলি পরিবেশে খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

আগতদের মধ্যে পাহাড়ি বাঙালি, মুসলিম, হিন্দু খ্রিস্টান সবাই আছেন। সবার জন্য আলাদা আলাদা পছন্দের খাবারের আয়োজন কর্তৃপক্ষে।

রাজধানীর কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে প্রিমিয়ার সুইটস যে ভবনটিতে তার তিনতলায় মাত্র দু’মাস হলো চালু হয়েছে মেজাং রেস্টুরেন্ট।

এমনিতেই কাজীপাড়ার এই এলাকাটিতে রাজধানীর অন্য এলাকার তুলনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস বেশি, যাদের মধ্যে চাকমাদের সংখ্যাই অধিক।

গত কয়েক বছরে কাজীপাড়া এলাকায় আদীবাসীদের বেশকিছু কাঁচা শাক-সবজির দোকানও গড়ে উঠেছে। যেখানে সরাসরি পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসে নানান সবজি ও ফল। পাওয়া যায় নানান রকম পাহাড়ি সবজি, বাঁশ কুড়ুল, জুমের চাল-সবজি, কাঁটাল, থানকুনি, শুটকিসহ হরেক আইটেম।

সেই থেকে চিন্তা শুরু মেজাং রেস্টুরেন্টের কর্ণধার টি চেং এর। ধৈর্য ধরে খেটে খেটে শেষ পর্যন্ত দাঁড় করিয়েছেন তার মেজাং রেস্টুরেন্ট। মেজাং-এ ঢুকতেই যে কেউ প্রথমেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পাবেন টি চেং এর।

মেজাং-এ এক সন্ধ্যায় কথা হচ্ছিলো কয়েকজন অতিথির সঙ্গে। মিরপুর ডিএইচএস থেকে ভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে এসেছেন মো. সোহেল।

আশেপাশে অনেক ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট থাকা সত্ত্বেও কেন এই পাহাড়ি রেস্টুরেন্টে এসেছেন? সোহেল জানান, অন্যান্য সব রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক খাবার তো প্রতিদিন খেয়ে থাকি। তাই একটু ভিন্ন স্বাদ নিতে এখানে এসেছি। আমি শুনেছি এখানে সব পাহাড়ি খাবার পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, রাজধানীতে পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট এটাই প্রথম। এই আইডিয়াটা চমৎকার। এই রেস্টুরেন্টে বাঙালিরা আসলে তাদের সঙ্গে সবার একটা যোগাযোগ তৈরি হবে। সবাই সবার সম্পর্কে জানতে পারবেন।

ঢাকায় পাহাড়ি খাবারের রেস্টুরেন্ট করার ভিন্ন চিন্তা কিভাবে মাথায় আসলো, জানতে চাইলে রেস্টুরেন্টের মালিক টি চেং পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের এই এলাকায় অনেক অদিবাসী বসবাস করেন। তখন আমাদের এখানে কোনো সবজি দোকান ছিল না। দেখতাম আদিবাসীরা ঢাকার খাবার খেতে পারছে না। আমি নিজেও এ সমস্যায় পড়েছি। তখনই চিন্তাটা মাথায় গেঁথে ফেলি।’

তিনি বলেন, ‘এটা এখন আর শুধু আদিবাসীদের রেস্টুরেন্ট নেই। ঢাকার সাধারণ মানুষেরাও প্রতিদিন আসেন। ভিন্ন স্বাদের খাবারের অনেকেই প্রশংসা করেছেন।’

টি চেং আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেই খাবার তৈরি করি। সবার কথা চিন্তা করেই খাবার রান্না হয়। আমাদের এখানে খাবারের দামও তুলনামূলক কম।’

রেস্টুরেন্টে খাবারের ধরন সম্পর্কে টি চেং জানান, এখানে পাহাড়ের সব ঐতিহ্যবাহী খাবার পাওয়া যায়। যেমন: পাহাড়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার বেম্বু চিকেন, বেম্বু ফিস, কলাপাতার ছোট মাছ, কলাপাতার বড় মাছ, বাসের সবজি, ডেকিশাক, মরিচ ভর্তা, আলু, বাঁশ কুড়ুল।

এ ছাড়া আমরা যেগুলো ছোটবেলা থেকে খেয়ে অভ্যস্ত, সে সব খাবারও এখানে রান্না করা হয়। এখানে তেলমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার রান্না করা হয়।

টি চেং জানান, সব ধর্মের মানুষের কথা মাথায় রেখে এবং কেউ যেন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না পান, তা বিবেচনায় রেখে খাবারের মেনু নির্ধারণ করা হয়। গরু এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর প্রাণীর মাংস এড়িয়ে চলা হয়। কারো বিশেষ কোনো অর্ডার থাকলে তা একেবারেরই ভিন্ন আঙ্গিকে, বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করে পরিবেশন করার কথা বিবেচনা করা হয়।

মেজাং রেস্টুরেন্টে মাত্র তিন থেকে চারশ’ টাকায় অনায়াসে তিনজন ৩/৪ পদের মেনু দিয়ে খাবার খেতে পারবেন। সঙ্গে নিতে পারবেন পাহাড়ি দুর্লভ স্বাদ।

মেজাং রেস্টুরেন্টের খাবার পেতে সরাসরি এর কর্ণধার টি চেং-এর নম্বরে (01933 423661) যোগাযোগ করা যাবে।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন আশিক মাহমুদ।

এআরপি/ইসি/আইএম

print
 
nilsagor ad

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad