বাবার চিন্তাধারা সুদূরপ্রসারী, তিনি আমার আইকন: জারিন (ভিডিও)

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪

বাবার চিন্তাধারা সুদূরপ্রসারী, তিনি আমার আইকন: জারিন (ভিডিও)

এমএম কবীর ও সুশান্ত ভৌমিক, রংপুর ১০:১২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৭

print

সদ্য অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তারই কনিষ্ঠ মেয়ে জারিন তাসনিম বগুড়া মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাবার জন্য ভোট চেয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন নগরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। বিভিন্ন পথসভায় ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বাবার বার্তা।

নির্বাচনী প্রচারণায় জারিনের তারুণ্যের স্পৃহা সবার নজর কেড়েছে। ভোটাররাও মোহিত হয়েছেন তার বলিষ্ঠ কণ্ঠে শ্রুতিমধুর বক্তব্য। তার বক্তব্য লাঙ্গলের ভোট টানতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুক্রবার পরিবর্তন ডটকমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জারিন জানালেন নির্বাচন নিয়ে তার অনুভূতি। আগামীতে কিভাবে মেয়র বাবাকে সহযোগিতা করতে পারেন তিনি জানিয়েছেন সেই ভাবনাও।

প্রশ্ন: আপনার বাবা (মোস্তফা) বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলেন। ভূমিধস এই বিজয়ে আপনার অনুভূতি কী?

জারিন: আমি আগে এ ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন কখনো হইনি। আমি অবশ্যই বলব- অভুতপূর্ব একটা অনুভূতি। মনে হচ্ছে- আমি আকাশে উড়ছি (ফ্লায়িং ইন দ্যা স্কাই)।

প্রশ্ন: সাধারণ নাগরিক হিসেবে এ জয়কে কিভাবে দেখতেন?

জারিন: আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বাবার এই জয়কে পুরো নগরবাসীর জয় হিসেবে দেখতে চাই। বাবা সব সময় বলতেন- মানুষের সুখে-দুঃখে থাকার জন্য তিনি এই আসনে আসীন হতে চেয়েছিলেন। আমি এই জয়কে শুধু আমার পরিবারের জয় বলব না, পুরো নগরবাসীর জয় বলব।’
 

প্রশ্ন: তিনি তো এখন এই চেয়ারে বসবেন। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় ব্যাপকভাবে অংশগ্রহন করেছেন। এখন বাবার জন্য কী করতে চান?

জারিন: আমি আমার অবস্থান থেকে জানি না কতটুকু সহযোগিতা করতে পারব। তবে সুযোগ পেলে মানুষের কল্যাণে যে কাজটি প্রয়োজন আমি মন থেকেই সহযোগিতা করব। চিকিৎসা হবে আমার পেশা, সেই দিকটি লক্ষ্য করে রংপুরবাসীর জন্য চিকিৎসাসেবার কাজটি করতে চাই। দুস্থ অসহায় গরীব মানুষ যারা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত, তাদেরকে চিকিৎসা সুবিধাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চাই। যখনই সম্ভব হবে তখনই বাবাকে সহযোগিতা করব। আর বাবাকে যদি এই সহযোগিতা দিতে পারি তবে নিজেকে গর্বিত মনে করব।

প্রশ্ন: নির্বাচনী বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আপনার বক্তব্যে তরুণরা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

জারিন: অবশ্যই আমরা তরুণদের নিয়ে আশাবাদী, যেহেতু আমরা যে কোনো একটা বিষয় নিয়ে বসে থাকি না। আমার বাবার সততা ও নিষ্ঠার বিষয়টি তরুণদের মাঝে তুলে ধরেছি, তারাও আমার কথায় সাড়া দিয়েছেন।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত হওয়ার ইচ্ছা আছে কিনা?

জারিন: আপাতত আমি আমার পেশা মেডিকেল পড়াশুনা শেষ করতে চাই। অদূর ভবিষ্যতের কথাতো এখন বলা যায় না। তবে সুপ্ত বাসনাতো সবারই থাকে। তখন চিন্তা করে দেখব। আগে তো নতুন প্রজন্মের মধ্যে কেউ রাজনীতিক হতে চাইতো না। নতুন প্রজন্মকে বলতে চাই- তারা যে যে অবস্থানে আছে, সেই অবস্থান থেকেই নগরবাসীর সেবা করুক। যেভাবে তাদের পক্ষে সম্ভব হয়।

প্রশ্ন: রসিক নির্বাচনে নারী ভোটর সংখ্যাই বেশী ছিল। তাদের পরিবারে রয়েছে শিশুরা। নারী ও শিশুদের নিয়ে আপনার বাবার আলাদাভাবে কোনো কিছু করার পরিকল্পনা আছে কিনা?

জারিন: আসলে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার নারী ও শিশুদের আলাদা করে দেখিনি। তিনি পুরুষদের যতটুকু সম্মান দেন, সেভাবেই নারীদের একই সম্মান দেন। তাই নারী আর পুরুষকে আলাদাভাবে না দেখে সম-অধিকার দেবেন, সেটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তারপরেও নারীদের যদি স্বাবলম্বী হতে কোনো সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, সেদিকেও আমার নিবেদিত প্রাণ থাকবে। তাদের স্বাস্থ্য-শিক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বাবা।

প্রশ্ন: বাবাকে কেমন মেয়র দেখতে চান?

জারিন: আমি বাবাকে মেয়র হিসেবে শাসক নয়, সেবক হিসেবেই দেখতে চাই। যেমনটি তিনি অতীতেও করে এসেছেন। আর নির্বাচনের ইশতেহারে যেসব পরিকল্পনা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো মানুষের সেবার জন্যই করেছেন।

প্রশ্ন: আপনার বাবা জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তার মেয়াদে শেষ করতে পারবেন?

জারিন: আসলে জনসাধারণের কাছে আমার বাবার ফার্স্ট মেসেজ ছিল একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান কাজই জনসম্পৃক্ততা। আর প্রশাসনিক দক্ষতাতো আছেই। সব কিছু মিলেই আশা করছি তার উপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি সুচারুভাবে পালন করবেন এবং প্রতিশ্রুতিগলো সম্পাদন করবেন। বাবা জনগণের কাছে একটি কথা বলেছিলেন- আমি কখনো পরিবর্তন হব না। নগরবাসীর উন্নয়নের জন্য আগে যেমন তাদের মাঝে ছিলেন, আগামীতেও থাকবেন। তিনি এটি আজীবনই ধরে রাখবেন।

বাবা মেয়রের চেয়ারে বসার পরপরই প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৩০০ জন করে অসহায় ও গরীব মানুষের  মধ্যে আর্থিক সহায়তা চালু করবেন। যাতে তারা বিভিন্ন উৎসব পালন করতে পারেন। যেহেতু তার চিন্তাধারা সুদূরপ্রসারী, তাই নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য আজীবন চেষ্টা করে যাবেন।

প্রশ্ন: এই চেয়ারে বসে আপনার বাবা শেষ পর্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন বলে মনে করেন?

জারিন: অতীত ইতিহাস থেকে বলতে পারি বাবার পক্ষেই সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজগুলো করা সম্ভব হবে। কারণ তিনি একজন জনগণের পরীক্ষিত নেতা।

প্রশ্ন: কার জনপ্রিয়তা বেশী ব্যক্তি মোস্তফা না প্রতীক লাঙ্গলের?

জারিন: ব্যক্তি মোস্তফার জনপ্রিয়তা এবং লাঙ্গলের জনপ্রিয়তা সমান সমান। আসলে রংপুরের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তাদের প্রাণের মার্কা লাঙ্গল আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যক্তি মোস্তফার ইমেজ। পাঁচ বছর আগে যে মোস্তফাকে মানুষ চিনতো আর পাঁচ বছর পরের মোস্তফার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আরও বেশী মানুষকে তিনি উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন।

প্রশ্ন: আপনার বাবা পরিবারের কাকে বেশী ভালোবাসেন?

জারিন: আমি বলব- শুধু পরিবারের জন্যই নয়, পুরো নগরবাসীর জন্যই তার ভালোবাসা সমান। বরং তিনি আমাদেরকেই বেশী সময় দিতে পারেন না।

প্রশ্ন: আপনার বাবার কোন দিকগুলো নেতিবাচক মনে হয়?

জারিন: বাবার খারাপ দিক বের করা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর। তিনি বেশী সময়ই বাসার বাইরে জনগণের সাথেই কাটান, তবে এটা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। যদি নেতিবাচক মনে করি, এটাই বাবার একটা খারাপ দিকও বটে।

প্রশ্ন: আপনি যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে কাকে আইকন হিসেবে বেছে নেবেন আর কেন?

জারিন: অবশ্যই আমি যাকে খুব কাছে থেকে দেখেছি আর নগরবাসীও দেখেছেন সে মানুষটিকেই আমি আমার আইকোন হিসেবে বেছে নেব। আর তিনি হলেন আমার শ্রদ্ধেয় পিতা মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তার গুণাবলীর জন্যই তিনি আমার প্রধান আইকন। তার কাজগুলো যেমন মানুষকে প্রভাবিত করে তেমনি আমাকেও প্রভাবিত করেছে।

প্রশ্ন: ছাত্র রাজনীতিতে আসবেন কিনা?

জারিন: এখনো এভাবে চিন্তা করিনি। সে সুযোগ আসুক তখন দেখা যাবে। যতদিন আমার পড়াশুনা চলবে, ততদিন আমি রাজনীতিতে আসতে চাই না। ভবিষ্যতে আমি একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই না। আমার কাজ হবে দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করা।

এমকে-এসবি/এমএসআই

print
 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad