‘দেওয়ানবাগীর খলিফা অপপ্রচারেই’ রসিকে সর্বনাশ বিএনপির

ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

‘দেওয়ানবাগীর খলিফা অপপ্রচারেই’ রসিকে সর্বনাশ বিএনপির

মাহমুদুল হাসান ৮:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৭

print
‘দেওয়ানবাগীর খলিফা অপপ্রচারেই’ রসিকে সর্বনাশ বিএনপির

দলীয় সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের পাশাপাশি দেওয়ানবাগী পীরের খলিফা অপপ্রচারেই রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী কাওছার জামান বাবলার ভরাডুবি হয়েছে। বিষয়টি বাবলা নিজেও স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের ‘দেওয়ানবাগী পীরের খলিফা’ হিসেবে বিএনপি প্রার্থী বাবলার বিরুদ্ধে একটা প্রচার ছিল। যে কারণে ২০ দলীয় জোটের সমমনা ইসলামী দলগুলো তাকে ভোট দেননি। তার নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায়ও অংশ নেননি তারা।

এছাড়া বাবলা ছয়টি বিয়ে করেছেন এমন অপপ্রচারে নারী ভোটাররাও তাকে তেমন ভোট দেয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

তবে কাওছার জামান বাবলা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘তিনি দেওয়ানবাগীর পীরের মুরিদ নন। তিনি রাজারবাগী পীরের মুরিদ।’

এছাড়া বাবলা ছয়টি বিয়ে করেননি। বিয়ে করেছেন তিনটি। ধর্মীয় রীতি মেনেই তিনি বিয়ে করেছেন বলেও জানান রসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী।

দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ,  সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে  রংপুরে বিএনপি ভরাডুবি হয়েছে। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সমন্বয়হীনতা ছিল। যে কারণে জোটগতভাবেই মাঠে নামতে পারেনি বিএনপির নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর মূল দলের সঙ্গে অঙ্গদলের কোনো সমন্বয় না থাকায় ফলাফলে এমন ভরাডুবি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন দলের কেউ কেউ। ফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের ভোট থেকেও বঞ্চিত হয় ধানের শীষ সমর্থিত প্রার্থী।

জানতে চাইলে বাবলা বলেন, ‘২০১২ সালের নির্বাচনে আমি একা নির্বাচন করে ২৫ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। কিন্তু এবার দলীয় প্রতীক নিয়েও আশানুরূপ ফল পাইনি।’

এজন্য দলীয় সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন তিনি বলেন, রংপুর সিটিতে জামায়াতের প্রায় ৬০-৬৫ হাজার ভোট আছে। বিএনপির আছে ৪০-৫০ হাজার। আমরা নিজস্ব ভোট ব্যাংক আছে। সমন্বয় না থাকার কারণেই মূলতঃ ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

দলের সমন্বয়হীনতার বিষয়টি মানতে চান না রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে সমন্বয়ক দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ দলগুলো কাজ করেছে। এখানে সাংগঠনিকভাবে কোনো দুর্বলতা আছে বলে আমি মনে করি না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপির আরও সাংগঠনিক দক্ষতা দেখানো উচিত ছিল। সরকারের কারণেও কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। এর মধ্যেও বিএনপির আরও ভালো করা উচিত ছিল। প্রচারণায়ও ঘাটতি ছিল।’

দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে আমরা পেছনে পড়েছি। নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, যে কারণে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি।’

বাবলার নির্বাচন পরিচালনার জন্য তিনটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে একটি মূল কমিটি ও দুইটি উপ-কমিটি। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেনকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিজুকে সদস্য সচিব করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট মূল কমিটি করা হয়।

আর যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদুন্নবী খান বিপ্লবকে আহ্বায়ক করে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট প্রচার উপ-কমিটি এবং যুগ্ম-সম্পাদক আনিসুর রহমান লাকুকে আহ্বায়ক করে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়া দলের ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে রসিক নির্বাচনের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে বিএনপি। কিন্ত ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রসিক নির্বাচনে মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির (জাপা) মুস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দীন আহম্মেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট।

বিএনপির প্রার্থী কাওছার জামান বাবলা বলতে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৩৫ হাজার ১৩৬টি। বিগত সিটি নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ২১ হাজার ২৩৫ ভোট।

এমএইচ/এমএসআই

 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ





আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad