‘রসিক নির্বাচনে দরবেশ বাবার তথ্যই সত্য হলো’

ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮ | ৫ ভাদ্র ১৪২৫

‘রসিক নির্বাচনে দরবেশ বাবার তথ্যই সত্য হলো’

এমএম কবীর ও সুশান্ত ভৌমিক, রংপুর ৫:৫১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৭

 ‘রসিক নির্বাচনে দরবেশ বাবার তথ্যই সত্য হলো’

রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনের ফলাফলে দরবেশ বাবার তথ্যেরই প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী হোসেন মকবুল আসিফ শাহরিয়ার। শুক্রবার একটি দলের প্রধানের উক্তি দিয়ে পরিবর্তন ডটকমকে একথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আলোচিত এই ভাতিজা। রসিক নির্বাচন ও এর ফলাফল নিয়ে আলাপকালে আসিফ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমি আর দল করতে চাই না। আমি আমার মতো চলতে চাই। রসিক নির্বাচনে কী ঘটেছিল রংপুরবাসী একদিন না একদিন সবই জানতে পারবে।’

একটি দলের প্রধানের উক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘রসিক নির্বাচনের ফলাফল দরবেশ বাবার কেরামতির মতোই। দরবেশ বাবার কাছ থেকে যে বাক্য শুনেছিলাম, নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রতিফলন দেখলাম। আমি নির্বাচনের ফলাফল বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আসিফ শাহরিয়ার চাচাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। দলের নির্দেশ অমান্য করায় দল থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়।

তবে চাচাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেননি আসিফ শাহরিয়ার। শুধু তাই নয়, অন্য আরও দুই মেয়র প্রার্থীর মতো তার জামানতও হারিয়েছেন। এমনকি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন এই তরুণ নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রসিকের ফলাফলে এটা প্রমাণিত হলো ব্যক্তির চেয়ে দলই বড়। আর ব্যক্তির ইমেজ দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর প্রমাণ এরশাদের ভাতিজা।

নির্বাচনে আগে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের আসিফ শাহরিয়ার বলেছিলেন, তিনি নির্বাচনে কম করে হলেও ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোট পাবেন।

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি চাচার জন্য নয়, আমিতো এমপি ছিলাম আমারও ফিক্সড ভোট আছে। আর আছে আমার ব্যক্তি ইমেজে। ফলে এ পরিমাণ ভোট আমি পাব।’

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি রসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে ভোট পেয়েছেন মাত্র ২ হাজার ৩১৯ ভোট। আর চাচা এরশাদের দেয়া প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতাদের দাবি, দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী হওয়ায় ব্যালটের মাধ্যমে আসিফ শাহরিয়ারকে উপযুক্ত জবাব দিয়েছে লাঙ্গলের ভোটাররা। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় সেটা আবারও প্রমাণ করেছে রংপুরবাসী।

উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ছোট ভাই প্রয়াত মোজাম্মেল হোসেন লালুর ছেলে শাহরিয়ার আসিফ। ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৪ সালে চাচার নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জাপার এই যুগ্ম-মহাসচিব। তিনি রংপুর জেলা জাপার সদস্য সচিব পদেও ছিলেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে রসিকে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এমকে-এসবি/এমএসআই