বাবাকে জেতাতে বিরামহীন ঘুরছেন মেডিকেল ছাত্রী (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪

বাবাকে জেতাতে বিরামহীন ঘুরছেন মেডিকেল ছাত্রী (ভিডিও)

এম এম কবীর, রংপুর থেকে ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৯, ২০১৭

print

‘সততা, নৈতিকতা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে তিনিই যোগ্য প্রার্থী। মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সুযোগ পেলে একজন ভাল মেয়র হয়ে নগর উন্নয়নে কাজ করে যাবেন’। এমনই দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর কনিষ্ঠ মেয়ে জেরিন তাসনিম, যিনি সদ্য ভর্তি হয়েছেন বগুড়া মেডিকেল কলেজে।

বাবা মোস্তফা নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন; তাই রসিকের ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরামহীন চষে বেড়াচ্ছেন জেরিন। এরই মাঝে তার দৃপ্ত পদচারণায় বেশ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন ভোটাররা। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের কাছে বাবার ভোট বেশ ভালভাবেই চাচ্ছেন তিনি। তারুণ্যের এই দৃপ্ত পদচারণায় অনেকেই ঝুঁকে পড়ছেন মোস্তাফিজারের দিকে।

জেরিন তাসনিম তার বাবার সততা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণের বাস্তবতার চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরে লাঙলে ভোট চাচ্ছেন। এরই মধ্যে নতুন ভোটারাদের নজরও কেড়েছেন তিনি। ‘মোস্তফা নগর উন্নয়নে শাসক না হয়ে একজন সেবক হতে চান’ - সেটাকেও তুলে ধরছেন ভোটারদের মাঝে।

পরিবর্তন ডটকমের প্রতিবেদক এম এম কবীরের সাথে সোমবার একান্ত সাক্ষাতকারে জেরিন তাসনিম তুলে ধরেছেন তার বাবার নির্বাচনী প্রচারণা নতুন ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার নানা দিক।

পরিবর্তন : বাবা বলেই কী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাকে যোগ্য মনে করছেন?

জেরিন তাসনিম :  ‘আমি যেহেতু মেয়ে তাই বাবাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি যে গণমানুষের নেতা বা নেতৃত্ব দেয়ার মতো যে সকল যোগ্যতা থাকার কথা সব তার মাঝে আমি পেয়েছি। তার সততা, যোগ্যতা, নৈতিকতার মাঝে বিন্দুমাত্র খাদ নেই। তিনি জনগণের নেতা সেটা আরো আগে থেকেই মানুষ জানতে পেরেছে।’

‘নেতৃত্বের পরিবর্তন রংপুরে তিনিই এনেছেন যেটার সাক্ষী রংপুরের জনতা। অনেকেই ভাবেন যে নির্বাচনের পর আর কোনো প্রার্থীকে কাছে পাওয়া যাবে না। এমন প্রশ্ন বা সংকোচ সাধারণ মানুষের মাঝে আছে এবং আমার বাবার ক্ষেত্রে সেটা নেই এবং ভবিষ্যতে থাকবেনা বলেই দৃঢ় বিশ্বাস আমার।’

‘গরীব ও সাধারণ মানুষের মাঝে যে সততা তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন, মানুষের মাঝে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসতে পেরেছেন, সাধারণ মানুষের পাশে সুখে দু:খে থাকতে পারছেন; এজন্যই আমি মেয়ে হিসেবে গর্ববোধ করে নির্বাচনের প্রচারণায় নেমেছি। তরুণদের যারা ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দিবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে তাদের কাছে মোস্তফার মেসেজ পৌঁছে দিচ্ছি।’

পরিবর্তন : বাবা বলেই কী এতো প্রশংসা?

জেরিন তাসনিম :  ‘আমার বাবা বলেই প্রশংসা করছি না। বাইরের মানুষ জানে মোস্তফার অতীত ও বতর্মান। কারণ বাল্যকাল থেকে দেখেছি আমার বাবা আমাদের পরিবারের চেয়ে বেশী সময় কাটান এলাকার জনগণের সাথে। তাছাড়া নগরবাসী কাছ থেকে সব সময়ই তাকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে দেখেছেন।’

‘তিনি মানুষের সাথে চলাফেরা করেন, মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। তাই তাকে গণমানুষ থেকে আলাদা করাটা খুবই মুশকিল। সেটা নগরীর সবাই এক বাক্যেই বলে দিবে মোস্তফা কী বা কে? আমি কথাগুলো তরুণ হিসেবেই বলছি, সন্তান হিসেবে প্রশংসা করছি তা নয়। আর এগুলো বানিয়ে মিথ্যে বলার কোনো অবকাশও নেই আমার।’

পরিবর্তন : ব্যক্তি মোস্তফা, নাকি লাঙল প্রতীকের জন্য জনপ্রিয় তিনি?

জেরিন তাসনিম :  ‘এই ক্ষেত্রে ব্যক্তি মোস্তফার জনপ্রিয়তাকেই আমি বেশি প্রাধান্য দেব। কারণ বিগত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়াই প্রায় ৭৮ হাজার ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। তখন জনগণ ব্যক্তি মোস্তফাকে ভাল মানুষ জেনেই ভোট দিয়েছিল। এজন্যই বলব ব্যক্তি মোস্তফাই আগে।’

‘আর এ বছর রংপুরের মাটি ও মানুষের নেতা পল্লী বন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের লাঙল মার্কা নিয়ে নির্বাচন করায় সেটিও একটি বিশাল ব্যাপার। মোস্তফার জনপ্রিয়তা ও এরশাদের লাঙল মার্কা দুটোই এখন অনেক উপরে নিয়ে গেছে, যার ফলাফল আমরা ২১ ডিসেম্বর ফলাফলেই পেয়ে যাব।’

রংপুরের মানুষ সচেতন হওয়ায় মার্কার চেয়ে ব্যক্তিকে বেশী পছন্দ করবে বলেও আশা করেন তিনি।

পরিবর্তন : বাবার কোন দিকটি ভাল?

জেরিন তাসনিম : ‘বাবা নয়, একজন ভাল মানুষ হিসেবেই এই সমাজে দেখছি তাকে। তিনি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেন সব সময়। নিজেকে কখনও বড় করে দেখেন না। তিনি নিজেকে প্রাধান্য না দিয়ে গণমানুষের পাশে থেকে তাদের কথাগুলো তুলে ধরেন। সবচেয়ে ভাল লাগে সততা ও নৈতিকতায় পরিপূর্ণ মানুষ মোস্তফাকে।’

পরিবর্তন : শাসক নাকি সেবক হিসেবে মোস্তফাকে দেখতে চান?

জেরিন তাসনিম : ‘যদি তিনি মেয়র হতে পারেন, তাকে আমি একজন শাসক নয়, একজন সেবক হিসেবে দেখতে চাই। কারণ অতীতে রংপুরের জনগণ মোস্তফাকে মাটি ও মানুষের নেতা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। শাসক হলে তিনি মাটি মানুষের জনপ্রিয় নেতা বা মানুষ উপাধি পেতেন না।’

‘সেবক হিসেবে মানুষের দ্বারপ্রান্তে যেতে ও তাদের পাশে থাকতে পারবে, কিন্তু শাসক হয়ে তা সম্ভব নয়। সুতরাং তাকে শাসক নয়, একজন সেবক হিসেবে নগর গড়ার জন্য দেখতে চাই।’

পরিবর্তন : নতুন ভোটারদের কীভাবে অনুপ্রাণিত করছেন?

জেরিন তাসনিম : ‘মোস্তফা এমন একজন মানুষ, কারো কাছে গিয়ে কথা বলতে পারলেই সেই মানুষগুলো তার ভক্ত হয়ে যান। তিনি যা করতে পারবেন সেই আশ্বাস দেন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। তিনি যা করেন ভেবেচিন্তে করেন।’

‘তাছাড়া তরুণ সমাজ যা চায় তা মোস্তফা বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলেই তরুণদের অনুপ্রাণিত করছি। তার যে সততা, নীতি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর রয়েছে তা কেউ কখনো দাবিয়ে রাখতে পারেনি। বিগত উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সেটা জনগণকে বুঝিয়ে দিয়েছেন। কেউ বলতে পারবেনা মোস্তফা মানুষকে ঠকিয়েছেন, কারো সাথে জালিয়াতি করেছেন।’

“তার সাহসিকতার জন্যই যেকোনো মঞ্চে বলতে পারেন তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং প্রশ্রয়ও দেননি। সততার কনফিডেন্স আছে বলেই ভরা মজলিসে মাথা উঁচু করে বলে থাকেন ‘আমি সৎ’।”

‘তরুণ ভোটার বলতে আমি তরুণদেরই বুঝতে চাইনা। যে মানু্ষ মনের দিক দিয়ে তরুণ, নতুনদের চাহিদা বুঝে গঠনমূলক কিছু করতে পারে তাদেরকেও সমাজের তরুণ বলব। বয়সে তরুণ হয়েও যদি নতুনদের জন্য কেউ কিছু না করে তাহলে নেতা হয়ে কোনো লাভ নেই।’

‘সুতরাং তরুণরা যাতে ভাল প্রার্থীকে বেছে নিতে পারে সেই দিকটি তুলে ধরছি। আমি মনে করি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বয়সে প্রবীণ হলেও তারুণ্যের প্রতীক। সেই তারুণ্য ভোটারদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করছি।’

পরিবর্তন : মোস্তফা বিজয়ী হলে তাকে কিভাবে দেখতে চান?

জেরিন তাসনিম : ‘মেয়রের পদ একটি সম্মানিত ও দায়িত্বপূর্ণ পদ। মেয়র মানেই নগর পিতা। তিনি যদি নির্বাচিত হতে পারেন তাকে আমি আমার পিতা নয়, নগর পিতার রূপে দেখতে চাই। তিনি হবেন সবার সেবক।’

পরিবর্তন : নারী ভোটার নিয়ে কী চিন্তা করছেন?

জেরিন তাসনিম : ‘নারী ও পুরুষ ভোটারকে আলাদা করে দেখতে চাই না। নারীর মাঝেও থাকে ভাল নেতৃত্ব ও ভাল গুণাবলীর মানুষকে বেছে নেয়ার স্বাধীনতা। এই সব গুণাবলীর সব আছে আমার বাবা মোস্তফার মাঝে। তাই মহিলা ভোটাররা বাবাকেই বেছে নিয়ে লাঙল মার্কায় ভোট দিবেন।’

পরিবর্তন : লাঙল মার্কায় সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

জেরিন তাসনিম : ‘অনেক অনেক ভাল সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি বাবা যে নগর গড়ার পরিবর্তনে ডাক দিয়েছেন তাতে সবাই বিপুল ভোটে জয়ী করবে।’

‘বাবার কাছে চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। নগরের নাগরিকদের সেবা পাওয়ার যে অধিকার, সেটা থেকে যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়। নগরবাসী আসল সেবাটুকু পেলে আমিও একজন ভোটার হিসেবে যে অধিকার আছে সেটা পাব। তবে তার উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া আছে তা যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে পারেন সেই ব্যাপারে সজাগ থাকেন। জনগণের মাঝে সততার রুপটি অক্ষুন্ন রেখে সকল কাজ করবেন এমন প্রত্যাশা চাই।’

এমকে/এএসটি

print
 
.

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad