পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

রংপুর অফিস ২:৫১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২, এর বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি ও অবৈধভাবে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এব্যাপারে গভীর নলকূপের অপারেটর গোলাম রব্বানী প্রামানিক অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করার পর কর্মকর্তারা দায়সারা তদন্ত করে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে ওই এলাকার শতশত গ্রাহক বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।

 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকসেদপুর ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় ৪ বছর পুর্বে বরেন্দ্র মাল্টি পারপাস ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিএমডিএ)-এর অধিনে ওই সমিতি একটি গভীর নলকুপ স্থাপন করেন। ওই গভীর নলকূপের ১৭শ’ ফিটের মধ্যে অন্য কোন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নিয়ম না থাকলেও পল্লী বিদ্যুতের অসাধু কর্মকর্তারা ওই গভীর নলকূপের পার্শ্বে ওই এলাকার আব্দুল আল মামুন, ফলি চন্দ্র, আব্দুল খালেক, ফুলকুমার ও পরিমলসহ দশ জনকে অগভীর সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন। এই সুবাধে অগভীর সেচ সংযোগকারীরা নিজস্ব ক্যাবলের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে জমজমাটভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের অবৈধ সংযোগের তারগুলো মাটি হতে মাত্র ৩/৪ ফুট উচুঁ দিয়ে টানানো হয়। 

এছাড়াও বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কর্মচারীরা ওই এলাকার মামুন মিয়া ও মোহাম্মদ আলীর বাড়ীর সংলগ্নে মিটার ছাড়া একটি বিদ্যুৎ পোলের মুল সংযোগ থেকে ৩ ফুট উচুঁতে কার্টাউটের মাধ্যমে সংযোগ দেন।

এ ব্যাপারে গভীর নলকূপের অপারেটর গোলাম রব্বানী প্রামানিক উল্লেখ করেন, অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ বদরগঞ্জ জোনাল অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছি। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম ইন্সপেক্টর আহসান হাবীবকে তদন্তভার দেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়সারা তদন্ত করে পুরো ঘটনাটি এখন ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

অভিযোগকারী গোলাম রব্বানী আরো বলেন, আমি প্রতি বোরো মৌসুমে নিজের অর্থায়নে আমার ডিটি ডব্লিউর মাঠ এলাকায় পানির ড্রেন সংস্কার করি। কিন্তু এসটি ডব্লিউর গ্রাহকগণ আমার ড্রেন ব্যবহার করে আমার ব্যবসার ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন সময় এক পোলের মিটার ব্যরেলো ট্রান্সমিটার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে থাকে। ইতিমধ্যে শ্রী ফুল কুমার তার মিটার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজন সেচ গ্রাহক অন্য এলাকার মিটার আমার মাঠ এরিয়ায় নিয়ে এসেছে।

শ্রী পরিমল চন্দ্র যাহার মিটারটি আমার ডিটিডব্লিউ এলাকার অদুরে চৌরির বিলে পাড়ে অবস্থিত হলেও ড্রপ তারের মাধ্যমে আমার আউট লেটের সঙ্গে আমার সেচ কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে আসছে। অন্যদিকে আব্দুল খালেক ও ফলি চন্দ্র প্রতি মৌসুমে আমার আউট লেটের পার্শ্বে ড্রেন ও আউট লেট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিসাধন করে আসছে। এব্যাপারে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অভিযোগ করার পরেও কোন সূরাহা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে রংপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ বদরগঞ্জ জোনাল অফিসের দায়িত্বরত জোনাল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শওকত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে তৎক্ষণাৎ আমি ইন্সপেক্টর আহসান হাবীবকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে বিধি মোতাবেক ওই অবৈধ সংযোগ বিছিন্ন করা হবে।

এসভি/এইচকে/এএস

 
.



আলোচিত সংবাদ