সরকারি জমির শতবর্ষী বটগাছ কাটার অভিযোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

সরকারি জমির শতবর্ষী বটগাছ কাটার অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি ৭:৩২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

সরকারি জমির শতবর্ষী বটগাছ কাটার অভিযোগ

নীলফামারীর ডিমলায় সরকারি জমিতে থাকা শতবর্ষী একটি বট গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের শালহাটি বাজারে অবস্থিত গাছটির কিছু অংশ কর্তনের অভিযোগে ১৯ জানুয়ারি সাতজনের নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগ মতে, ১৫ জানুয়ারি দুপুরে শালহাটি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মশিয়ার রহমান এবং আব্দুল হাকিমের ছেলে হালিমুর রহমানের নেতৃত্বে একই এলাকার একটি মহল আত্মসাতের উদ্দেশ্যে শালহাটি বাজারের শতবর্ষী বট গাছের একটি অংশ কর্তন করেন।

কর্তন করা গাছের গুড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর বাধায় গুড়ি বাজারের কাছের একটি জমিতে ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয় হয়েছে। কিন্তু গাছ কর্তনকারীদের অবৈধ প্রভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গচ্ছিত কাঠ জব্দ বা গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তহিদুল ইসলাম শুধুমাত্র লোক দেখানো পরিদর্শন করে গেছেন।

আব্দুর রশিদ মুক্তি নামের এক অভিযোগকারী বলেন, বাজারের সরকারি জমিতে ওই শতবর্ষী বট গাছটি অবস্থিত। তীব্র গরম এবং প্রখর রোদে শতবর্ষী গাছটির ছায়ায় আশ্রয় নেয় এলাকার মানুষ। কিন্তু এলাকার একটি কুচক্রী মহল তাদের পেশী শক্তির জোরে গাছটির একটি বড় অংশ কেটে আত্মসাতের চেষ্টা করেন। এলাকার মানুষের বাধার মুখে সেটিতে ব্যর্থ হয় তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা অবহিত হলেও অদ্যাবদি কাঠ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে মানুষের মধ্যে।

এমন অভিযোগ অস্বীকার করে হালিমুর রহমান বলেন, বাজারে থাকা ওই বট গাছের কাছের সাথেই রয়েছে শালহাটি জামে মসজিদ। আমি মসজিদ কমিটির সভাপতি। সম্প্রতি মসজিদটি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। একারণে মুসল্লিদের মৌখিক সিদ্ধান্তে গাছটির একটি অংশ অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, সরকারের খাস খতিয়ানের ১৯ শতক জমি মসজিদের নামে হাল রেকর্ড রয়েছে। ওই বট গাছটি মসজিদের জমিতে রয়েছে। গাছটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় মানুষের প্রাণহাণি ঘটার আশংকা রয়েছে।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূর-ই-আলম বলেন, এ বিষয়ে উপ-সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও বট গাছের কর্তনকৃত অংশের কাঠ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে।

এনএ/এএসটি

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও