শুষ্ক মৌসুমের আগেই তিস্তাসহ ছোট-বড় ১২ নদীতে বালুচর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

শুষ্ক মৌসুমের আগেই তিস্তাসহ ছোট-বড় ১২ নদীতে বালুচর

আরিফুর রশীদ, লালমনিরহাট ৪:৪২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০

শুষ্ক মৌসুমের আগেই তিস্তাসহ ছোট-বড় ১২ নদীতে বালুচর

শুস্ক মৌসুম আসতে না আসতেই লালমনিরহাটের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তাসহ ছোট-বড় ১২টি নদীতে এখন ধু-ধু বালুচর। যে দিকে চোখ যায় শুধুই বালু চর।

নদীগুলোর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় জীববৈচিত্র্য প্রাকৃতিক ভারসাম্য পরিবেশের মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। শুধু তাই নয়, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশংকা রয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।

যুগ যুগ ধরে নদীগুলো খনন না করায় শুস্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানি শূন্যতা এবং বর্ষা মৌসুমে দেখা দেয় অকাল বন্যা। ফলে লালমনিরহাট ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে কৃষি ব্যবস্থায় এর বিরুপ প্রভাব পড়ে। দ্রুত নদী সংস্কারের উদ্যোগে নেয়া না হলে এ জনপদের লাখ লাখ মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়তে পারে এমনটি মনে করছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষজন।

ঐতিহাসিকভাবে লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশীর ভাগ জেলা তিস্তা নদী-নির্ভর। এ নদীগুলোর অসংখ্য শাখা- প্রশাখা জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তিস্তা নদীর উজানে গজলডোবা নামকস্থানে ভারত একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। এর গেট রয়েছে মোট ৫৪টি। এ বাঁধ নির্মাণের ফলে ভারতের ২ হাজার ৯১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মাধ্যমে ১হাজার ৫শ কিউসেক পানি মহানন্দা নদীতে প্রবাহিত করছে।

তিস্তা মহানন্দা খালের মাধ্যমে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, পশ্চিম দিনাজপুর, কোচবিহার ও মালদহ জেলায় সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে এ অঞ্চলের ভূগর্ভের পানির স্তর ক্রমেই নীচে নেমে যাচ্ছে। ফলে পানি সংকটে পড়েছে তিস্তাপাড়ের শত শত কৃষক।

শুধু তাই নয়, তিস্তা পানিশূন্যতার কারণে জেলেদের দুর্দিন চলছে। অনেকেই সংসার চালাতে তাদের বাপ দাদার পেশা বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদী জমি বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ফলে বালুর আস্তরণে ঢেকে যায়। ফলে চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। মিঠা পানির মাছের অধিকাংশ প্রজাতি, কীটপতঙ্গ, পাখি, বিভিন্ন প্রাণি যেমন-কেচো, ব্যাঙ ক্রমান্বয়ে বিলুপ্তির দ্বার-প্রান্তে।

ইতোমধ্যে তিস্তা অববাহিকায় লালমনিরহাটের অধিকাংশ নদ-নদী ও শাখা প্রশাখাগুলোসহ খাল, বিল, হাওর এবং জলাশয়গুলো শুকিয়ে গেছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা নদী সংলগ্ন খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের নৌকার মাঝি ইসলাম মিয়া (৫০) জানান, নদী শুকনো পায়ে হেঁটে মানুষ পাড়ি দেয়। নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তাই খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

এদিকে তিস্তার গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সামান্য পানিতেই দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। সেই সঙ্গে গাছপালা ও কৃষি উৎপাদনে বিশাল প্রভাব পড়েছে। তিস্তা নদীর নাব্য সংকটে জলবায়ু পরিবর্তন হয়ে লালমনিরহাট ও তার আশপাশের জেলাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তা নদীর উজানে ভারতের গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করায় তিস্তা নদী ক্রমেই তার নাব্য হারিয়ে মরা তিস্তায় পরিণত হচ্ছে। এমনকি গোটা তিস্তা শুকিয়ে ধু- ধূ বালু চরে রূপ নিয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এবিএম বজলে করিম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ কোনো ড্রেজিং না হওয়ায় নদের তলদেশে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্যসহ মৎস্য সম্পদ ও নানা জলজ প্রাণি। এ কারণে শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই তিস্তায় ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে।

এএসটি/

 

সমগ্রবাংলা: আরও পড়ুন

আরও