একযুগ পর প্রথম লাভ দেখছে মধ্যপাড়া পাথর খনি
Back to Top

ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

একযুগ পর প্রথম লাভ দেখছে মধ্যপাড়া পাথর খনি

একরাম তালুকদার, দিনাজপুর ৯:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯

একযুগ পর প্রথম লাভ দেখছে মধ্যপাড়া পাথর খনি

প্রায় একযুগ পর লাভের মুখ দেখেছে দেশের একমাত্র ভুগর্ভস্থ পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল)। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালের ২৫ মে।  প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১৫ থেকে ১৮শ টন পাথর উত্তোলন হলেও, পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ টনে।

উৎপাদন শুরুর ছয় বছরে খনিটি লোকসান দিয়েছে প্রায় একশত কোটি টাকা। অব্যাহত লোকসানের মুখে খনির উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)কে।

জিটিসি ১৭১.৮৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৬ বছরে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলন করে দেয়ার চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০১৪ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর জিটিসি তিন শিফটে পাথর উত্তোলন শুরু করে। ৬ মাসের মধ্যেই দৈনিক উৎপাদন ৫শ টন থেকে সাড়ে ৫ হাজার টনে উন্নীত হয়। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা পাথর উত্তোলন করে ১১ লাখ ৯২ হাজার টন পাথর।

কিন্তু আধুনিক ইকুইপমেন্টের অভাব দেখিয়ে ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে খনিতে পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় জিটিসি।

জিটিসি দায়িত্ব নেয়ার পরও  বিভিন্ন সময়ে ইকুইপমেন্টের অভাব, খনি কর্তৃপক্ষের সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মতবিরোধসহ বিভিন্ন কারণে খনির উৎপাদন ব্যহত হয়। ফলে খনিটি উৎপাদন শুরু পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পরও লাভের মুখ দেখতে পারেনি। ফলে কয়েকশ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয় এই খনিটিকে। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও খনিটির লোকসান হয় ৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

অব্যাহত এই লোকসানের পর অবশেষে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে খনিটি। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খনিটিতে মুনাফা হয় ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। অব্যাহত লোকসানের পর খনির ১২ বছরের ইতিহাসে এটিই প্রথম মুনাফা।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তালেব মো. ফারাজী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে খনি থেকে ১০ লাখ ৬৭ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬৪ কোটি ১৪ লাখ টাকায় পাথর বিক্রি হয়েছে ৭ লাখ ৩১ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।’

পাথর বিক্রি থেকে প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা মুনাফা হয়েছে। তবে অব্যাহতভাবে পাথর উত্তোলন হলে এই মুনাফার পরিমাণ আরো বাড়তো বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘খনিটি উৎপাদন শুরুর পর ইতোপূর্বে কখনই লাভের মুখ দেখেনি। খনির ইতিহাসে এটিই প্রথম মুনাফা।’

তিনি জানান, ‘খনির ইয়ার্ডে বর্তমানে ৬ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুদ রয়েছে।’

খনির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির মহাব্যবস্থাপক জাবেদ সিদ্দিকী জানান, ‘খনির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে জিটিসি খনিটিকে লাভজন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। খনির নতুন স্টোপ নির্মাণ করে বিদেশি মেশিনারিজ যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ স্থাপন করে খনির পাথর উত্তোলন বৃদ্ধিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে অর্ধশতাধিক বিদেশি খনি বিশেষজ্ঞ, দেশি প্রকৌশলী এবং ৭ শতাধিক শ্রমিক তিন শিফটে পাথর উত্তোলন কাজে নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে সব সমস্যা কাটিয়ে খনির উৎপাদন পুরোদমে চলছে। এখন প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার টন পাথর উত্তোলন হচ্ছে।’

সব ঠিক থাকলে এই উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে মধ্যপাড়া পাথর খনি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হওয়ায় শুক্রবার খনি এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিয়ে এক প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি। খনির অভ্যন্তরে এবং খনি এলাকার তিনটি স্থানে প্যান্ডেল করে ১০ হাজার মানুষকে আপ্যায়ন করান তারা।

প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জিটিসি চেয়ারম্যান ড. মো. সিরাজুল ইসলাম কাজীসহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক নেতারা ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ।

এইচআর

 

: আরও পড়ুন

আরও