এখনও শুরু হয়নি ভবন নির্মাণ, ক্লাস চলছে ভাঙা ঘরে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০ | ১৪ মাঘ ১৪২৬

এখনও শুরু হয়নি ভবন নির্মাণ, ক্লাস চলছে ভাঙা ঘরে

নুর আলম, নীলফামারী ১২:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

এখনও শুরু হয়নি ভবন নির্মাণ, ক্লাস চলছে ভাঙা ঘরে

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া পীর ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে ভাড়া করা ভাঙা ঘরে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। সাথে শিক্ষাদান ব্যবস্থাকে আরও নাজুক করে তুলেছে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি।

২০০১ সালে নির্মিত বিদ্যালয়ের একটি ভবন ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দও এসেছে। চলতি বছরের ১৯ মে কাজ শুরু করে ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু জমি জটিলতা এবং শিক্ষকদের অবহেলায় আজও শুরু হয়নি ভবনের কাজ। অথচ দিনের পর দিন অযত্নে চলছে শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

অভিভাবকরা জানান, প্রধান শিক্ষকসহ ৫জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকসহ চারজন রংপুর শহরে বসবাস করেন। ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করায় তারা সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না, আবার সময়ের আগে চলে যান। শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতিতে অনেকের বাচ্চা পড়ছে দূরের বিদ্যালয়ে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ভবনটির ছাদ ধ্বসে পড়েছে। পাশে একটি বাড়ির ভাঙা ঘরে কয়েকজন শিশু বই খাতা নিয়ে বসে আছে। দেখে বুঝার উপায় নেই সেটি বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ। সেখানে তৃতীয় শ্রেণির ১২ জনের মধ্যে উপস্থিত ১০ জন। এসময় ভাঙা ওই ঘরে লেখাপড়া বিঘ্নের কথা জানায় শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু তাদের বলে, ‘আমি ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। স্যারদের অবহেলায় লেখাপড়া ভালো হতো না। এখনও স্যারেরা যে যার মতো করে স্কুলে এসে চলে যান, এজন্য লেখাপড়া এখন ভালো হয় না। এলাকার অনেকের বাচ্চা দূরের স্কুলে পড়ছে।’

এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আবু তাহের বলেন, ‘মান ভালো হলে এখানকার বাচ্চারা দূরে গিয়ে লেখাপড়া করতো না। পাঁচ জন শিক্ষকের মধ্যে চারজন ৩০ কিলোমিটার দূরে রংপুর শহর থেকে যাওয়া আসা করেন। সকাল সাড়ে ১০টার আগে তারা কোনোদিন আসেন না। আবার সময়ের আগে চলে যান। বিদ্যালয়টি সৃষ্টির পর থেকে আজ পর্যন্ত একটি বাচ্চাও বৃত্তি পায়নি। বিদ্যালয়ের নতুন ভবন স্থাপনের সমস্যাটি সমাধানে শিক্ষকরাই অসহযোগিতা করছেন।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. মাবিয়া বেগম জানান, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয় বিদ্যালয়টি।

তিনি বলেন, গত বছর যোগদান করেছি আমি। বিদ্যালয়ের নামে ৪৪ শতক জমির মধ্যে রেকর্ড হয়েছে ২২ শতক, ওই জমিও একসাথে নেই। ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান হওয়ায় বরাদ্দ পাওয়ার পরেও ভবন নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে।

তিনিসহ বিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক রংপুরে বসবাস করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করছি। ভবন নির্মাণের সমস্যা সমাধানে শিক্ষকরা আন্তরিক।’

সোমবার বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ২৫ জন, প্রথম শ্রেণিতে ১৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত। পঞ্চম শ্রেণিতে ১১ জন সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জাকারিয়া দিদার বলেন, ‘শিক্ষকদের অসহযোগিতায় জমির সমস্যাটি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বরাদ্দ পাওয়া ভবনটি নির্মাণে বিলম্বিত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক রংপুরে থাকেন। দূরের পথ হওয়ায় তারা প্রায় সময়ে বিলম্বে আসেন। আবার কেউ অনুপস্থিত থাকলে প্রধান শিক্ষক বলেন উনি ছুটিতে আছেন। প্রধান শিক্ষকের অব্যবস্থাপনার কারণে শিক্ষার মান সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে।’

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে এক সঙ্গে সর্বচ্চ ৬ শতক জমি আছে। বাকী জমি নিয়ে দাতার ওয়ারিশগণের সঙ্গে সমস্যা হচ্ছে। সামনে মসজিদ পেছনে কবরস্থান রয়েছে। এ কারণে সেখানে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও ভবন নির্মাণ করা যাচ্ছে না।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শরিফা আখতার বলেন, ‘আমি ওই বিদ্যালয়ে গেছি। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ভবন আছে। চার তলার ভিত্তিতে দ্বিতল ভবন নির্মাণের বরাদ্দ হয়েছে। ভবন না থাকায় পড়াশোনার মান বিঘ্নিত হচ্ছে। তারা বেড়ার একটা ঘর ভাড়া নিয়ে পাঠদান করছে।

রংপুর শহরে শিক্ষকদের বসবাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কে কোথায় থাকলো এটা দেখার বিষয় নয়। সময় মত আসা যাওয়া করলে হলো।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের মনিটরিং কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন, ‘শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয় উপজেলা ভিত্তিক। সহজ যাতায়াত এবং নিয়মিত উপস্থিতির জন্য তাদের বাড়ির কাছাকাছি বিদ্যালয়ে পোস্টিং দেওয়া হয়। এরপর তাদের অন্য জেলায় বসবাসের কোন সুযোগ নেই।’

এসবি

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও