ঠাকুরগাঁওয়ে লাশ সৎকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আটক ১

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে লাশ সৎকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আটক ১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৪:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৮

print
ঠাকুরগাঁওয়ে লাশ সৎকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, আটক ১

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউনিয়নের হাটপুকুর গ্রামে শ্মশানঘাটে লাশ সৎকারে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে আবু হুর নামে একজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

লাশ সৎকার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুরে। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাতজনের নামে হরিপুর থানায় মামলা দায়ের হয় আজ (মঙ্গলবার)।

আসামিরা হলেন- আবু হুর (৩৫) পিতা মৃত মোতালেব, মাহাবুব (৪১) পিতা খালেক, মাঠকু (৫০) পিতা বশির উদ্দীন ওরফে ছাটাং, আল মামুন (৫০) পিতা মৃত খলিল, করিম (৫০) পিতা সেন্নিখুয়া, মো. ময়না (৩০) পিতা হাতিম এবং রায়হান (২৮)। এদের মধ্যে মোতালেবের ছেলে আবু হুরকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, জেলার হরিপুর উপজেলার গেদুরা ইউনিয়নের  রাজাদীঘি গ্রামের বিলখা বর্মণ রোববার রাতে মারা যান। পরিবারের লোকজন সোমবার দুপুর ২টার সময় লাশ সৎকারের জন্য নিয়ে যায় হাটপুকুর শ্মশান ঘাটে। এ সময় আবু হুর নামে এক ব্যক্তি ওই শ্মশানঘাটে লাশ সৎকারে বাধা দেন। এমনকি মৃতদেহ দাফনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরও মৃতদেহটি নিয়ে টাঁনাহেচড়া করেন। লাশ কবরে নামানোর পর আবার তুলতে বাধ্য করে।

এসময় লাশের লোকজন ও আবু হুরের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মৃত বিখলা বর্মণের ছেলে রমেশ ও সমেশ আহত হন। স্থানীয়রা  হরিপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে মোতালেব হোসেনের ছেলে আবু হুরকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

হাটপুকুর শ্মশানঘাটের  সাধারণ সম্পাদক বিদেশী রায় জানান, এই শ্মশানঘাটে মোট ২.২৭ একর জমি ছিল। আমাদের বাপ-দাদারা আমাদের জন্মের পূর্ব থেকে এখানেই লাশ সৎকার করে আসছেন। গত ২/৩ বছর থেকে এই ভূমিদস্যুরা আমাদের উপর হামলাসহ বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়ে অধিকাংশ জমি গ্রাস করে ফেলেছে। আমরা বিভিন্ন সময় থানায় অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি  প্রশাসন। আমরা সবাই হিন্দু সমাজের লোকজন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এই অত্যাচারী ও সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে, এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম জে আরিফ বেগকে জানানো হলে তিনি পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ পাঠান উদ্বুদ্ধ ঘটনাটি নিয়ন্ত্রণের জন্য। মৃত্যের লোকজন পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ সৎকারের কাজ শুরু করলে আবু হুর ও তার লোকজন আবারো সৎকারে বাধা দেয়। এতে উভয়পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে মৃত ব্যক্তির দুই ছেলে রমেশ ও সমেশ গুরুতরভাবে আহত হন।
এ সময় পুলিশ লাশ সৎকারে বাধাদানকারী আবু হুরকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আবু হুর হরিপুর উপজেলার হাটপুকুর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে।

হরিপুর থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, হিন্দুদের লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় আজ মঙ্গলবার ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের হয়েছে । এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। 

এইচএআর/এএল/
আরও পড়ুন...
শ্মশানে মরদেহ সৎকারে বাধা দেওয়ায় সংঘর্ষ, আটক ১

 
.



আলোচিত সংবাদ