পাচার সন্দেহে ৪৫৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫

পাচার সন্দেহে ৪৫৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ৯:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৮

print
পাচার সন্দেহে ৪৫৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

সরকারিভাবে দুস্থ অসহায়দের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিজিএফের মজুতকৃত ৩০ কেজি ওজনের চাল ট্রলিযোগে বহনের সময় দুই ব্যবসায়ীর ৪৫৬ বস্তা চাল জব্দ করেছে বিজিবি।

বুধবার সকাল পৌনে ১১টায় কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই কাশিপুর বাজারের চাল ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন মিন্টুর গোডাউনে ৪০৮ বস্তা ও পাশের রমজান আলীর গোডাউন থেকে ৪৮ বস্তা মোট ৪৫৬ বস্তা চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

এ সময় সেখানে ছিলেন- ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবন্দ্রে নাথ উরাঁও, ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত, লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কাশিপুর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, চালগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

বিজিবির কাশিপুর কোম্পানির কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, সকাল পৌনে ১১টার দিকে তিনি সঙ্গীয় বিজিবি ফোর্স নিয়ে টহলে বের হলে কাশিপুর বাজারের একটি গোডাউন ঘর থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের নাম সংবলিত বস্তাভর্তী চাল ট্রলিতে উঠাতে দেখে তার সন্দেহ হয়।

পরে তিনি মজুদকৃত চালের গোডাউনের ভেতর ঢুকে দেখতে পান আরও অসংখ্য বস্তাভর্তী চাল। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও ও ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানীকে জানান। পরে থানার ওসি ও নির্বাহী কর্মকর্তা এসে দুই ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে মোট ৪৫৬ বস্তা চাল জব্দ করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে মামলা হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওই মামলার বাদী নিজে হবেন বলেও জানান বিজিবি কমান্ডার সুবেদার শহিদুল ইসলাম।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের পাশের গোডাউনে ভিজিএফের চালের বস্তায় চাল মজুদ থাকায় এ চালে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

তারা বলছেন, সরকারি বরাদ্দের এসব চাল ব্যবসায়ীরা কালোবাজারে কিনে নিয়ে তা আবার উপজেলা খাদ্য গোডাউনে বিক্রি করছে।

এ বিষয়ে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মণ্ডল জানান, ওই চাল ব্যবসায়ীরা কিভাবে গোডাউনে ভিজিএফের চাল ঢুকিয়েছেন তা তিনি জানেন না।

দুস্থদের কাছে বিতরণকৃত চাল ওই ব্যবসায়ীরা কিনতে পারেন এমনটি ধারণা করেন তিনি।

চাল ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন মিন্টুর বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তিনি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আটককৃত চালগুলো পুলিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। চালগুলো ভিজিএফের বস্তার চাল। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।

ইউএএ/এসএফ

 
.




আলোচিত সংবাদ