‘পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে’

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৮ ফাল্গুন ১৪২৪

‘পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে’

নীলফামারী প্রতিনিধি ৫:২৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
‘পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে’

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায় সমস্কেল প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নীলফামারী জেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

বুধবার দুপুরে শহরের জেলা প্রশাসক কার্যালয় মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী ওই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন নীলফামারী জেলা কমিটির সভাপতি আজিজুল হক ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

এসময় বক্তব্য দেন, ইউনিয়নের নীলফামারী সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার রায়, জলঢাকা উপজেলা সভাপতি আনিসুর রহমান, ডিমলা উপজেলা সভাপতি দুলাল হোসেন ও বলোকান্ত রায়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ রাত দিন ৭০ প্রকারের দায়িত্ব পালন করতে হয় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের। অথচ সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করা হয়নি আমাদের জন্য।

নীলফামারী সদর উপজেলা সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, বর্তমান দ্রব্যমুল্যের বাজারে আমরা মাসিক যে টাকা পাই, সেটা দিয়ে সংসারই চলে না। তার উপর ছেলে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ আর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা নিরুপায় হয়ে পড়েছি।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া গ্রাম পুলিশ সদস্যরা জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সারাদেশে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য রয়েছেন। অথচ এই পুলিশদের কোন বেতন কাঠামো তৈরি করা হয়নি অদ্যাবধি।

তারা জানান, বর্তমানে গ্রাম পুলিশের দফাদারেরা ৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং মহল্লাদারেরা ৩ হাজার টাকা মাসিক হারে বেতন পাচ্ছেন।

সরকার গ্রাম পুলিশদের চতুর্থ শ্রেণির সমস্কেলে বেতন ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করলেও আজো তা অজ্ঞাত কারণে বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

গ্রাম পুলিশ কর্মচারী ইউনিয়ন নীলফামারী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান জানান, দাবি বাস্তবায়নে দীর্ঘদিন থেকে আমরা শান্তিপুর্ন ভাবে আন্দোলন করে আসছি। এই সরকারের আমলে আমাদের বেতন আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেতন চতুর্থ শ্রেণির সমস্কেলে প্রদানের জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশনা দিলেও আজও সেটি আলোর মুখ দেখেনি। আমরা চাই দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করা হোক।

ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল হক বলেন, আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে আকুতি জানাই। যেন আমাদের দিকে নজর দেন তিনি।
আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের চাকরি নামে মাত্র সরকারি। ৫৯ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে হচ্ছে অথচ কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে না।
কর্মসূচিতে নীলফামারী জেলা সদর ছাড়াও জলঢাকা, ডিমলা, ডোমার, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার গ্রাম পুলিশরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন ইউনিয়নের নেতারা। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোত্তালেব সরকার স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

এনএ/এএফ

 
.

আলোচিত সংবাদ

nilsagor ad